সারিয়াকান্দিতে ২ কিমি জুড়ে যমুনার ভাঙন

আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৩:২৮ এএম

বগুড়ার সারিয়াকান্দির যমুনা নদীতে অসময়ে ভাঙনে দিশেহারা হয়ে পড়েছে ভাঙনকবলিত এলাকাবাসী। কয়েক দিনের ভাঙনের কবলে পড়েছে কয়েকশ বিঘা জমি। মরিচ, ধান, ভুট্টাসহ বিভিন্ন ধরনের ফসলের প্রায় ৫০০ বিঘা জমি যমুনায় বিলীন হয়েছে।

কয়েক দিনে বেশকিছু বসতভিটাও বিলীন হয়েছে যমুনায়, অর্ধ শতাধিক পরিবার তাদের বাড়িঘর ভাঙার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

সারিয়াকান্দির যমুনা নদীতে বর্ষাকালে বন্যায় ব্যাপক ভাঙন হয়। তবে পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে এ ভাঙন কমতে থাকে। গত কয়েক মাস ধরেই অব্যাহত পানি কমায় যমুনা এখন প্রায় শুকিয়ে গেছে। এবার শুষ্ক মৌসুমেই যমুনায় ভয়াবহ ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে।

উপজেলার কাজলা ইউনিয়নের চর ঘাগুয়া গ্রামে গত কয়েক দিন ধরেই যমুনা নদীর ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকা জুড়ে সৃষ্টি হয়েছে ভাঙন। গত কয়েক দিনের ভাঙনে দুটি পরিবারের বসতভিটা যমুনায় বিলীন হয়েছে। তারা অন্যত্র তাদের বসতি স্থাপন করেছে। এ ছাড়া ভাঙনে এ গ্রামের প্রায় ৫০০ বিঘা ৩ ফসলি জমি যমুনায় বিলীন হয়েছে।

গত কয়েক দিন আগে কৃষকরা তাদের জমিতে মরিচ, ধান, ভুট্টাসহ নানা ধরনের ফসল চাষ করেছিলেন। ফসলগুলো এখন পরিপক্ব হয়েছে। বিশেষ করে মরিচ গাছের বিপুল মরিচ  উত্তোলনের উপযুক্ত হয়েছে। এসব মরিচের গাছসহ জমিগুলো যমুনা নদীতে বিলীন হচ্ছে।

এদিকে চর ঘাগুয়া গ্রামের প্রায় অর্ধশত পরিবার ভাঙন হুমকিতে রয়েছে। তারা তাদের বাড়িঘর ভেঙে নিয়ে অন্যত্র যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করছে।

নদীর তীরে দাঁড়িয়ে এ গ্রামের তোতা ফকির (৭০) নামের এক ব্যাক্তি দুই হাত উঁচু করে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছেন। তিনি বলেন, ‘গত কয়েক দিন ধরেই যমুনা নদীর ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ভাঙনের শব্দে রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারি না। গত কয়েক দিনের ভাঙনে আমাদের মরিচ, ধানসহ বিভিন্ন ধরনের ফসল যমুনায় বিলীন হয়ে যাচ্ছে। আমরা একেবারেই নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছি, অনেক ঋণ নিয়ে ফসলগুলো চাষ করেছিলাম।’

কাজলা ইউপির সদস্য আনিছুর রহমান বলেন, ‘গ্রামবাসীর পক্ষে অতি দ্রুত এখানে ভাঙন মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাজ চাই।’

গতকাল রবিবার বগুড়া জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী হুমায়ুন কবির বলেন, ‘ইতিমধ্যে আমরা সারিয়াকান্দির কাজলা ইউনিয়নের চর ঘাগুয়া গ্রামের যমুনা নদীর ভাঙন পরিদর্শন করেছি। আপাতত সেখানে ৩৪০ মিটার এলাকায় জিও এবং টিও ব্যাগ ফেলার মাধ্যমে জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন মোকাবিলায় কাজ শুরু করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পুরো এলাকায় স্থায়ী ভিত্তিতে কাজ করতে ডিপিপি প্রণয়ন করা হয়েছে। কাজটি পাস হলে সেখানে ব্লকের কাজ করা হবে, এতে এ গ্রামের মানুষ নদীভাঙন থেকে রক্ষা পাবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত