চলতি বছর ১২ মে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বিলুপ্ত করে ‘রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করে সরকার। এ নিয়ে সংস্থাটির মধ্যে অস্থিরতা দেখা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারকে তখন বলপ্রয়োগ ও নমনীয় হতে হয়। আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে দুই বিভাগের শীর্ষ পদে অভিজ্ঞ সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়োগের বিধান যুক্ত করে অধ্যাদেশ সংশোধন করে সরকার। ইতিমধ্যে বিভাগ আলদাকরণ ও আইনি পক্রিয়া শেষ হয়েছে। এখন বাকি শুধু কিছু আমলাতান্ত্রিক কাজ। তবে চলতি ডিসেম্বর মাসের মধ্যে সেসব কাজ শেষ করে বিভাগ দুটির কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছেন, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব এবং এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহমান খান। গতকাল সোমবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এনইসি সম্মেলন কক্ষে সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের অর্থনীতি বিষয়ক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান।
জানা গেছে, গত ১২ মে এনবিআর বিলুপ্ত করে সরকারের জারি করা অধ্যাশের বিরুদ্ধে ১৩ মে আন্দোলনের নামে সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। অবস্থান ধর্মঘট, কলমবিরতি এবং কমপ্লিট শাটডাউনেরমতো নানা কর্মসূচি পালন করেন তারা। তাদের দাবি ছিল, এনবিআরের শীর্ষ পদে প্রশাসন ক্যাডার থেকে আসা সচিবদের যেন না বসানো হয়। এর পরিবর্তে বিসিএস (কর) ও বিসিএস (শুল্ক ও আবগারি) ক্যাডারের অভিজ্ঞদেরই যেন নিয়োগ দেওয়া হয়। তাদের দাবির মুখে অধ্যাদেশ বাস্তবায়ন থেকে সরে আসে সরকার। তখন সরকারের তরফে সংশোধনের কথা বলা হয়।
এ আন্দোলনে নেতৃত্ব ও অংশগ্রহণের কারণে শতাধিক কর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত, বাধ্যতামূলক অবসর কিংবা শাস্তিমূলক বদলির মুখে পড়তে হয়েছে। দুদকও কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় গত ২৯ জুন বিদ্যুৎ, জ¦ালানি ও খনিজসম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের উপদেষ্টা কমিটি গঠন করে সরকার। কমিটি সমস্যার সমাধানে অধ্যাদেশের ১১টি ধারা সংশোধন করে। যার খসড়া ২১ আগস্ট উপদেষ্টা পরিষদে অনুমোদিত হয়েছিল।
মন্ত্রণালয় ও এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, দুই বিভাগ আলাদা করার জন্য ইতিমধ্যে তিনটি আইন, কিছু বিধি এবং উৎস বিধি (রুলস অব বিজনেস) পরিবর্তন করা হয়েছে। পাশাপাশি গঠন করা হয়েছে নতুন জনবলকাঠামো।
গতকালকের অনুষ্ঠানে এনবিআর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান বলেন, আপনারা জানেন যে পলিসি (রাজস্ব নীতি) এবং ট্যাক্স ম্যানেজমেন্টের সেপারেশনের সব আইনি প্রক্রিয়া অলমোস্ট শেষ। এখন হচ্ছে ইমপ্লিমেন্টেশন প্রসেস। আমরা সেখানেও খুব দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছি। আমাদের অ্যালোকেশন অফ বিজনেস প্রায় চূড়ান্ত। রুলস অফ বিজনেস প্রায় চূড়ান্ত হয়েছে। এখন অর্গানোগ্রাম এবং অর্গানোগ্রাম রিলেটেড বাকি কাজগুলো, এগুলোর খসড়া চূড়ান্ত হয়ে গেছে। আমরা এগুলোর যে বুরোক্রেটিক প্রসেস আছে, হয়তো এ মাসের মধ্যেই শেষ করে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেই আপনারা দুই বিভাগে দুজন সচিব দেখতে পাবেন।
তিনি বলেন, দুই বিভাগ প্রতিষ্ঠার কাজ বাস্তবায়ন হলে ‘স্বাধীনভাবে’ কর নীতি প্রণয়ন করা যাবে। আর সেই নীতি প্রণয়ন করা হবে ‘দেশের স্বার্থে, ব্যবসা-বাণিজ্যের স্বার্থে, দেশের জনগণের স্বার্থে’। আমরা আশা করি যে তাতে করে রেভিনিউও বাড়বে। অ্যাট দ্য সেইম টাইম যে ইনজাস্টিস এবং বৈষম্য যেগুলো আছে, সেগুলো দূর করা সম্ভব হবে।
জানা গেছে, বর্তমানে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আওতায় রয়েছে চারটি বিভাগ। নতুন অধ্যাদেশ অনুযায়ী বিভাগ করা হবে পাঁচটি। বর্তমানের চার বিভাগ হচ্ছে অর্থ বিভাগ, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি), অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ (এফআইডি)। নতুন পাঁচ বিভাগের মধ্যে অর্থ বিভাগ, ইআরডি ও এফআইডি থাকবে। বাদ পড়বে আইআরডি। তবে নতুন যুক্ত হবে রাজস্ব নীতি বিভাগ ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ। এনবিআর নামে কোনো বোর্ড থাকবে না। ফলে চেয়ারম্যান ও সদস্যদের পদগুলোও বিলুপ্ত হয়ে যাবে।
