নরসিংদীর রায়পুরায় গুলিতে নিহত হয়েছেন মামুন মিয়া (২৫) নামে এক প্রবাসী। এ সময় তার বাবাসহ আরও ১০ জন আহত হয়েছেন। গতকাল সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার নিলক্ষার দড়িগাঁও ছক্কার বাড়ির মোড় গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মামুন ১৫ দিন আগে কুয়েত থেকে পাঁচ মাসের ছুটিতে দেশে ফেরেন।
পুলিশ ও নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই নিলক্ষা এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শহীদ মিয়া গ্রুপ ও ফেলু মিয়া গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। শহীদ মিয়া গ্রুপে নেতৃত্ব দেন নাজিম উদ্দিন মেম্বার ও ফেলু মিয়া গ্রুপে নেতৃত্ব দেন জবা মিয়া। আর নিহত মামুন ছিলেন নাজিম উদ্দিন গ্রুপের এবং জবা মিয়ার ভাতিজির জামাতা। সে সুবাদে মামুন দুই গ্রুপের মধ্যে সমঝোতা করতে তার শ্বশুরবাড়ি গেলে সেখানকার লোকদের সঙ্গে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সেখানে তার বাবা আউয়াল মিয়াও উপস্থিত হন। কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজন মামুনকে গুলি করে। এ সময় সংঘর্ষ শুরু হলে মামুনের বাবা আউয়ালসহ উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। পরে আহতদের উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মামুনকে মৃত ঘোষণা করেন।
গুরুতর আহত অবস্থায় আউয়াল মিয়া (৫৫) ও পরশ মিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
নিহত মামুনের বোন সোমা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার ভাইয়ের আপন শ্যালক এনামুল, সোহাগ ও শ্বশুর ইসব এবং চাচাশ্বশুর জবা মিয়া আমার ভাই ও বাবাকে পরিকল্পিতভাবে গুলি করে। আমি আমার ভাইয়ের হত্যাকারীদের বিচার চাই।’
নরসিংদী সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ফরিদা গুলশানা কবির বলেন, নিহত মামুনের পেটে আঘাতের চিহ্ন পেয়েছি, আঘাতের ধরন দেখে গুলি মনে হচ্ছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।
রায়পুরা থানার ওসি (তদন্ত) প্রবীর কুমার ঘোষ বলেন, এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।
এদিকে, মাগুরা সদর উপজেলার হাজরাপুর ইউনিয়নের রামনগর গ্রামে পূর্বশত্রুতা ও সামাজিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ হয়। গতকাল সকালে সাড়ে ৯টার দিকে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চলা এ সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ২৫ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ দুজনকে আটক করেছে।
আহত ও স্থানীয়রা জানান, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির দুপক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন বিরোধ চলছিল। গতকাল একপক্ষ বাজারে গেলে প্রতিপক্ষের লোকজন তাদের তাড়িয়ে দেয়। এরই জের ধরে দুপক্ষ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে রামনগর গ্রামে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে স্বাভাবিক অবস্থা রয়েছে।
