শেষ দিনে, শেষ উইকেট জুটিতে করতে হবে ২০১ রান। গাণিতিকভাবে সম্ভব, ক্রিকেট মাঠেও চূড়ান্ত অসম্ভব কিছু নয়। রেকর্ড বই বলছে, প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে শেষ উইকেটে ৩০৭ রানের জুটিও আছে, অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া ক্রিকেটে। তাই ময়মনসিংহ বিভাগ শেষ দিনে শেষ উইকেট জুটিতে রাজশাহী বিভাগের বিপক্ষে আরও ২০১ রান করতে পারবে না, এটা বলার সুযোগ নেই। ঠিক তেমনি শেষ দিনে সিলেট দ্বিতীয় ইনিংসে বড় রান করতে পারবে না, এমনটা বলারও সুযোগ নেই। যদিও এবারের জাতীয় ক্রিকেট লিগে দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র একবারই বড় রান করেছে সিলেট, কক্সবাজারে রংপুরের বিপক্ষে ২৯৪/৯ (ডিক্লে)। জাকির হাসান, মুশফিকুর রহিমরা মিলে কি পারবেন না শেষ দিনের ৯০ ওভারে তিনশর কাছাকাছি রান করতে? করলেই যে টানা দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা আসবে চায়ের দেশে। জাতীয় ক্রিকেট লিগের ২৭তম আসরের শিরোপা নিষ্পত্তি হতে যাচ্ছে শেষ রাউন্ডের শেষ দিনে। সম্ভব এবং অসম্ভবের মধ্যে ঝুলে আছে সিলেটের শিরোপার স্বপ্ন। অন্যদিকে এই দুই দল হেরে গেলে শিরোপা চলে যাবে রংপুরের হাতে। খুলনা বিভাগকে সাত উইকেটে হারিয়ে নিজেদের কাজটা সেরে রেখেছে আকবর আলীর দল।
২০২২-২৩ মৌসুমে জাতীয় লিগের চার দিনের সংস্করণের শিরোপা জিতেছিল রংপুর। নতুন করে চালুর পর এনসিএল টি-২০-এর টানা দুই আসরের শিরোপাও তিস্তাপাড়ের ক্রিকেটারদের। এবারে শেষ রাউন্ডে পেছন থেকে এসে সিলেট আর ময়মনসিংহের পাকা ধানে মই দেওয়ার মতো করেই শিরোপার খুব কাছাকাছি চলে এসেছে রংপুর। বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে এক দিন হাতে রেখেই তারা হারিয়ে দিয়েছে তারকাখচিত খুলনা দলকে। এনামুল হক বিজয়, সৌম্য সরকার, মোহাম্মদ মিঠুন, আফিফ হোসেন ধ্রুবদের নিয়ে গড়া শক্তিশালী ব্যাটিং লাইন-আপকে রংপুরের বোলাররা দ্বিতীয় ইনিংসে অলআউট করে দেয় মাত্র ৯৬ রানে। এরপর রংপুরের সামনে দ্বিতীয় ইনিংসে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৩১ রান। ইকবাল হোসেনের সেঞ্চুরি (১১৪*), আকবরের ২৭ বলে ৩২ আর নাঈম ইসলামের ৪৫ রানের ইনিংসে মাত্র তিন উইকেট হারিয়ে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় রংপুর।
পাঁচ উইকেটে ২১৪ রান নিয়ে দিন শুরু করা সিলেট শেষ পর্যন্ত যেতে পেরেছে ২৮৭ রানে। আগের দিনের ১৩০ রানের সঙ্গে আর কোনো রান যোগ না করেই আউট হয়েছেন জাকির হাসান, তোফায়েলের লড়াই থামে ৪৬ রানে। পাঁচ উইকেট নিয়েছেন বরিশালের হয়ে খেলা সিলেটেরই রুয়েল মিয়া। দ্বিতীয় ইনিংসে অবশ্য বরিশালকে অনেক দূর নিয়ে যাচ্ছে ইফতেখার হোসেন ইফতি। ৯৩ রানে অপরাজিত ইফতির সঙ্গে হাফিজুর রহমানের ৪৩, জাহিদুজ্জামান খানের ২৯* মিলিয়ে তৃতীয় দিনের খেলা শেষে বরিশালের সংগ্রহ চার উইকেটে ২১২ রান। লিড ২৩৭ রানের। আজ সিলেটকে দ্রুত বরিশালের বাকি চার উইকেট নিয়ে নিতে হবে, তারপর রানটা তাড়া করে জিততে হবে। তাহলেই জাতীয় লিগের শিরোপা ধরে রাখতে পারবে সিলেট।
খুলনাকে হারিয়ে রংপুর পৌঁছে গেছে ৩১ পয়েন্টে। সিলেটের পয়েন্ট ২৬, বরিশালকে হারালে সিলেটের পয়েন্ট হতে পারে ৩৬, ম্যাচ জয়ের ৮ পয়েন্টের সঙ্গে টানা ৩ জয়ের বোনাস ২। ১০ উইকেটে জিতলে যোগ হবে আরেকটি বোনাস পয়েন্ট। কিন্তু হেরে গেলে সিলেট পড়ে থাকবে ২৬ পয়েন্টেই, ড্র হলে হবে ২৮। তাই শিরোপা চাইলে জিততেই হবে সিলেটকে।
শেষ রাউন্ডে ছিল আরও একটি ম্যাচ, মিরপুরের শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয়েছিল ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগ। ইনিংস এবং ১৯২ রানে চট্টগ্রামকে হারিয়ে তলানি থেকে উঠে এসেছে ঢাকা, চটগ্রামকে ১৯১ রানে অলআউট করে দেওয়ার পথে তিন উইকেট করে নিয়েছেন রিপন ম-ল, নাজমুল ইসলাম অপু ও সুমন খান।
