আন্দোলনের মুখে বিজ্ঞপ্তি

১ জানুয়ারি ক্লাস শুরু, চূড়ান্ত হচ্ছে অধ্যাদেশ

আপডেট : ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৭:১৬ এএম

রাজধানীর সাত কলেজ নিয়ে প্রস্তাবিত ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির’ প্রথম ব্যাচের (২০২৪-২৫) ক্লাস আগামী ১ জানুয়ারি থেকে শুরু করার কথা বলেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ জারির দাবিতে চলমান আন্দোলনের মধ্যে মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানাল। মন্ত্রণালয় বলেছে, সব মহলের সঙ্গে আলোচনা করে অধ্যাদেশের খসড়া পরিমার্জন ও চূড়ান্ত করা হচ্ছে। ২৫ ডিসেম্বর খসড়া অধ্যাদেশ নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। গতকাল সোমবার বিকেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুলিং কাঠামোর বিরোধিতা করে আন্দোলনে নামা শিক্ষকদের প্রসঙ্গও রয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে। এসব শিক্ষক ‘সরকারি কর্মচারী হিসাবে পেশাদারিত্ব বজায় রাখবেন’ বলে মন্ত্রণালয় আশা করছে।

সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের একাংশ ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ জারির দাবিতে রবিবার থেকে লাগাতার শিক্ষা ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে। গতকাল বিকেল পৌনে ৪টার দিকে তারা হাইকোর্ট মোড় অবরোধ করে। এতে ওই মোড় দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আশপাশের সড়কে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। এর আগে দাবির বিষয়ে আলোচনা করতে দুপুর আড়াইটার দিকে শিক্ষার্থীদের সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে যায়। তবে তারা আলোচনা করে ফিরে আসার আগেই হাইকোর্ট মোড় অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত ডিএমপির রমনা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম বলেন, শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিদল আলোচনা করে ফিরে আসার আগেই তারা সড়ক অবরোধ করেছে। যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। গতকাল সন্ধ্যায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আন্দোলন চলমান ছিল।

এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, ২৫ ডিসেম্বর অধ্যাদেশের খসড়া আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় উপস্থাপন করা হবে। গত ২৪ সেপ্টেম্বর অধ্যাদেশের খসড়া প্রকাশিত হয়, যেটির প্রস্তাবিত স্কুলিং কাঠামোর বিরোধিতা করছেন কলেজগুলোর শিক্ষা ক্যাডারের শিক্ষকরা।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, খসড়ার বিষয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সুধীজনসহ বিভিন্ন মহল থেকে পাঁচ হাজারের বেশি মতামত পাওয়া গেছে। পাশাপাশি শিক্ষক, শিক্ষার্থী, শিক্ষাবিদ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উদ্যোগে তিনটি মতবিনিময় সভা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মতামত সংগ্রহের কাজও সম্পন্ন করা হয়েছে।

প্রাপ্ত প্রতিটি মতামত আইন ও বাস্তবতার নিরিখে পর্যালোচনা করে খসড়া পরিমার্জন করা হচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে, পরিমার্জনের কাজ সম্পন্ন করে ২৫ ডিসেম্বরের মধ্যে পরিমার্জিত খসড়ার ওপর আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা করা সম্ভব হবে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অধ্যাদেশ চূড়ান্ত করাসহ সামগ্রিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার মধ্যবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা যেন কোনোভাবে বিঘিœত না হয়, সে লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের হিসাবে ৯ হাজার ৩৮৮ জন শিক্ষার্থী ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে কলা ও সামাজিকবিজ্ঞান ইউনিট, বিজ্ঞান ইউনিট ও ব্যবসা শিক্ষা ইউনিট ভর্তি হয়েছে। এ তথ্য তুলে ধরে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অন্তর্বর্তী প্রশাসন পরিচালনা এবং ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের ভর্তি, রেজিস্ট্রেশন ও পাঠদানের জন্য একটি অপারেশন ম্যানুয়েলও অনুমোদন করা হয়েছে।

২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে যেসব শিক্ষার্থী ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে, তাদের ক্লাস শুরুর বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বিবেচনায় নিয়ে বিগত ৪ ডিসেম্বর অধ্যক্ষ এবং ৭ ডিসেম্বর শিক্ষক প্রতিনিধিদের সঙ্গে সভা করা হয়েছে। ভর্তি বিজ্ঞপ্তির আলোকে বিদ্যমান একাডেমিক কাঠামোতে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরুর জন্য নিজ নিজ কলেজের শিক্ষকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আসন্ন শীতকালীন ছুটি শেষে ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে ক্লাস শুরু করা সম্ভব হবে বলে শিক্ষক প্রতিনিধিরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজ এবং সরকারি তিতুমীর কলেজকে নিয়ে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি গঠনের কার্যক্রম যখন চলছে, তখন এর আশু কাঠামো নিয়ে কলেজগুলোর শিক্ষকরা ও শিক্ষার্থীদের কয়েকটি অংশ মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে।

খসড়া অধ্যাদেশে সাতটি কলেজকে চারটি স্কুলে বিভক্ত করে ‘ইন্টারডিসিপ্লিনারি’ বা ‘স্কুলিং’ কাঠামোতে বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবনা অনুযায়ী কলেজগুলো উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠদানও চালু থাকবে। ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির’ প্রস্তাবিত কাঠামোতে সাতটি কলেজসহ সারা দেশের সরকারি কলেজগুলোতে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা পদোন্নতির মতো মৌলিক অধিকার ক্ষুণœ হওয়ার শঙ্কায় আছেন। তারা কলেজগুলোর স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখে ‘অধিভুক্তিমূলক কাঠামোতে’ নতুন বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন। আর কলেজগুলোর বর্তমান শিক্ষার্থীদের একাংশ নতুন বিশ্ববিদ্যালয়টির আইনি কাঠামো দ্রুত নিশ্চিত করার পক্ষে অবস্থান নিয়ে দ্রুততম সময়ে অধ্যাদেশ জারির দাবি জানাচ্ছেন। অন্যদিকে উচ্চ মাধ্যমিক ও অনার্স-মাস্টার্স পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের একাংশ শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের মতোই প্রস্তাবিত কাঠামোর বিরোধিতা করে বলছেন, স্কুলিং কাঠামোতে কলেজগুলোর স্বাতন্ত্র্য বজায় থাকবে না। এমন বাস্তবতায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় অধ্যাদেশ সংশোধন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে; যদিও এ প্রক্রিয়া ‘সময়সাপেক্ষ’ বলেও জানানো হয়েছে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত