অন্যায়ের প্রতিবাদ সম্পর্কে যা বলে ইসলাম

আপডেট : ১০ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:৪২ এএম

মানবসমাজে ন্যায় ও অন্যায়ের দ্বন্দ্ব চিরন্তন। ইসলাম ধর্ম মানুষের কল্যাণে প্রেরিত হয়েছে, যেখানে ন্যায় প্রতিষ্ঠা ও অন্যায় প্রতিরোধকে ইবাদতের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। অন্যায়ের প্রতিবাদ করা মানে শুধু সামাজিক দায়িত্ব পালন নয়, বরং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের একটি মহান উপায়। এ ব্যাপারে মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমরাই শ্রেষ্ঠ জাতি, মানুষের কল্যাণেই তোমাদের সৃষ্টি করা হয়েছে। তোমরা সৎকাজের আদেশ দেবে এবং অন্যায় কাজে বাধা প্রদান করবে।’ (সুরা আলে ইমরান ১১০) অপর আয়াতে বর্ণিত হয়েছে, ‘তোমরা সত্যকে মিথ্যার সঙ্গে মিশিয়ে দিয়ো না এবং তোমরা জেনেশুনে সত্যকে গোপন কোরো না।’ (সুরা বাকারা ৪২) এসব আয়াত থেকে স্পষ্ট হয় যে, অন্যায়ের প্রতিবাদ করা কেবল সামাজিক কাজ নয়, বরং আল্লাহর পক্ষ থেকে দেওয়া বান্দার জন্য ফরজ দায়িত্ব।

হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে যে কেউ অন্যায় হতে দেখলে তা যেন হাত দিয়ে বাধা দিতে চেষ্টা করে। যদি তা না পারে, তবে কথা দিয়ে। তাও না পারলে অন্তর দিয়ে (ঘৃণা করবে)। এটি ইমানের দুর্বলতম স্তর।’ (সহিহ মুসলিম)

অন্যায়ের প্রতিবাদ না করলে সমাজে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে এবং ইমান দুর্বল হয়ে যায়। অন্যায়ের প্রতিবাদ না করলে সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট হয়, মানবাধিকার খর্ব হয় এবং দুর্নীতি বৃদ্ধি পায়। প্রতিবাদ করার মাধ্যমে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়, দুর্বলরা সাহস পায় এবং শক্তিশালীরা নিয়ন্ত্রিত হয়। ইসলাম শুধু ব্যক্তিগত ইবাদত নামাজ, রোজাকেই নয়, বরং সামাজিক ইবাদতকেও গুরুত্ব দিয়েছে। অন্যায়ের প্রতিবাদ সেই সামাজিক ইবাদতের অন্যতম রূপ। অন্যায়ের প্রতিবাদ করা ইসলামে একটি বিশেষ ইবাদত। এটি মহান আল্লাহর নির্দেশ, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শিক্ষা এবং মানবতার কল্যাণের জন্য এটা অপরিহার্য।

তাই প্রতিটি মুমিনের উচিত সামর্থ্য অনুযায়ী অন্যায়ের প্রতিবাদ করা। কখনো হাতে, কখনো কথায়, আর অন্তত অন্তরে ঘৃণা প্রকাশ করে। এভাবেই সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা সম্ভব। মনে রাখতে হবে, অন্যায়ের প্রতিবাদ করা শুধু সামাজিক দায়িত্ব নয়, বরং এটি আল্লাহর ইবাদত। তাই প্রতিটি মুমিনের কর্তব্য হলো অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া।

অন্যায়ের প্রতিবাদ করা ইসলামের শিক্ষা ও ইমানের মূল চাহিদা। কোরআনের হুকুম ও রাসুলুল্লাহর নির্দেশনায় স্পষ্ট যে, অন্যায়ের সামনে নীরব থাকা কোনো মুমিনের পরিচয় হতে পারে না। যার যতটুকু সামর্থ্য আছে তার ততটুকুই কর্তব্য। হাতে হলে হাতে, না হলে কথায়, তাও না পারলে অন্তরে ঘৃণা পোষণ করে। সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠা, দুর্বলদের শক্তি জোগানো এবং মানুষের অধিকার রক্ষায় এই দায়িত্ব অনস্বীকার্য। তাই নিজের ও সমাজের কল্যাণে প্রত্যেকের উচিত সত্যের পক্ষে দাঁড়ানো এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেওয়া। এতে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ হয় এবং মানবতার পথও আলোকিত হয়।

লেখক : শিক্ষক ও ইসলামবিষয়ক গবেষক

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত