সুষ্ঠ, অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে শঙ্কা রয়ে গেছে: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

আপডেট : ১০ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৮:৫২ পিএম

একটি সুষ্ঠ, অবাধ, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে এখনো শঙ্কা ও ভীতি রয়ে গেছে মন্তব্য করে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ও নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, এই শঙ্কা ও ভীতি কাটাতে সরকার, প্রশাসন এবং নির্বাচন কমিশনকে আরও বলিষ্ঠ ভূমিকা নিতে হবে। আরও সততার সঙ্গে এবং আরও খোলামেলা আলোচনা করে এই আস্থা তৈরি করতে হবে। জনগণ যদি আস্থা না পায়, তাহলে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন সম্ভব হবে না। 

বুধবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর দি পেনিনসুলা হোটেলে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের উদ্যোগে আয়োজিত প্রাক-নির্বাচনী আঞ্চলিক পরামর্শ সভায় তিনি এ সব কথা বলেন।

পরামর্শ সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে ড. দেবপ্রিয় বলেন, আগামই নির্বাচন নিয়ে নাগরিকদের প্রত্যাশা জানতে পরামর্শ সভাটি আমরা সম্পন্ন করেছি। পুরো আলোচনার মধ্য দিয়ে একই রকম অভিন্ন সুর খুঁজে পেয়েছি। সবাই সুশাসনের জন্য, জবাবদিহিতার জন্য, আইনের শাসনের জন্য, নিরাপত্তার জন্য, অধিকারের বিষয়গুলো সামনে নিয়ে আসছে। একটি দক্ষ প্রশাসন, একটি স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা, একটি নিরপেক্ষ আইন প্রয়োগকারী সংস্থা নিয়ে সকলের প্রত্যাশা রয়েছে। এই বিষয়গুলো রাজনীতিদরা তাদের নির্বাচনী ইশতেহারের মধ্যে স্থান করে নিবেন কি না সেটা জানার অপেক্ষায় রয়েছে। এর চেয়েও বড় প্রত্যাশা হলও যে প্রতিশ্রুতিগুলো রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ দেবেন, সেগেুলো যে তারা বাস্তবায়ন করবেন তা কিভাবে কার্যকর করা যায়। 

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, রাজনীতিবিদদের আয়-ব্যয়ের হিসাবগুলোকে আরও স্বচ্ছতার সাথে কিভাবে সামনে আনা যায়, শুধু উনারাও নন, তাদের পরিবারের সদস্য, আত্মীয় স্বজনদেরও সহায় সম্পত্তির বিষয়গুলো ঘোষণা দেয়ার বিষয় উঠে এসেছে। এ রকম ঘোষণা বিগত সরকারগুলোও দিয়েছিল। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারও দিয়েছে। তারা তাদের মন্ত্রী পরিষদের বা সরকার প্রধানের সম্পদের হিসাব দিবেন। সেটার ক্ষেত্রে মানুষের অনেক বড় হতাশা রয়েছে যে আগের মতোই বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার প্রতিপালন করলো না। এটার কারণে আগামই সরকারও এটাকে না করার ক্ষেত্রে একটা উৎসাহ দিয়ে গেলো কি না, এটা অনেকে আশংকা করছেন। 

তিনি বলেন, আজ একটি বড় সংস্কারের আলোচনা উঠে এসেছে। সেটা হলও গত দেড় বছর যাবৎ এত সংস্কারের আলোচনা আমরা করেছি, কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ সংস্কারের ব্যাপারে নির্বাচনকে সামনে রেখে কোন বড় আলোচনা হলও না। রাজনীতিবিদরাও দাবি করলো না, সরকারও দাবি করলো না, নির্বাচন কমিশনও দাবি করলো না এবং দুর্নীতি দমন কমিশনও সেটা নিয়ে আগালো না। রাজনৈতিক দলগুলোর গণতন্ত্রায়ণ, দুর্নীতিমুক্ত থাকা, সঠিক মনোনয়ন দেয়া, তাদের জবাবদিহিতা করার দাবিটা আজকে চট্টগ্রামের আলোচনায় উঠে এসেছে।

আরেকটি দাবি উঠে এসেছে, সেটা হল সবকিছুর জন্য সরকারের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকলে হবে না, রাজনীতিবিদদের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকলে হবে না, নাগরিকদের বলিষ্ট সাহসী ভূমিকা রাখতে হবে। জবাবদিহিতার চাবিকাঠি নাগরিকদের হাতে নিতে হবে। সেই নাগরিকরা যেন ভীত না হয়, রাজনীতিবিদরা যাতে সংঘবদ্ধ থাকে, নাগরিকরা ধারাবাহিকভাবে এ ধরণের প্রতিশ্রুতিগুলো কার্যকর করার ক্ষেত্রে সোচ্চার হয়।

নাগরিক প্ল্যাটফর্মের কোর গ্রুপের সদস্য ও সিপিডির ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ জামায়াতের ইসলামীর  এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চট্টগ্রামের সাবেক আহ্বায়ক প্রফেসর সিকান্দার খান, ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন, সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) আহবায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন, ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ, কলামিস্ট মুসা খান প্রমুখ পরামর্শ সভায় বক্তব্য রাখেন।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত