সুষ্ঠু, অবাধ নির্বাচন নিয়ে এখনো শঙ্কা রয়ে গেছে

আপডেট : ১১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৭:২৯ এএম

একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে এখনো শঙ্কা ও ভীতি রয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানিত ফেলো এবং নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, এই শঙ্কা ও ভীতি দূর করতে সরকার, প্রশাসন এবং নির্বাচন কমিশনকে আরও বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করতে হবে। আরও সততার সঙ্গে এবং খোলামেলা আলোচনার মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে। জনগণ আস্থা না পেলে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন সম্ভব হবে না। গতকাল বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম নগরের দি পেনিনসুলা হোটেলে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের উদ্যোগে আয়োজিত প্রাক- নির্বাচনী আঞ্চলিক পরামর্শ সভায় তিনি এসব কথা বলেন। পরামর্শ সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে ড. দেবপ্রিয় বলেন, ‘আগামী নির্বাচন নিয়ে নাগরিকদের প্রত্যাশা জানতে এই পরামর্শ সভা আয়োজন করা হয়েছিল। পুরো আলোচনায় একটি অভিন্ন সুর পাওয়া গেছে। সবাই সুশাসন, জবাবদিহি, আইনের শাসন, নিরাপত্তা এবং অধিকারের বিষয়গুলো সামনে এনেছেন। একটি দক্ষ প্রশাসন, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা এবং নিরপেক্ষ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রতি সবার প্রবল প্রত্যাশা রয়েছে। রাজনীতিবিদরা এসব বিষয় তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে স্থান দেবেন কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়। তবে তার চেয়েও বড় প্রশ্ন হলো রাজনৈতিক নেতারা যে প্রতিশ্রুতি দেবেন, সেগুলো বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা কীভাবে দেবেন।

তিনি আরও বলেন, রাজনীতিবিদদের আয়-ব্যয়ের হিসাব আরও স্বচ্ছ করা, শুধু তাদের নয়, পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়-স্বজনের সম্পদের ঘোষণা বাধ্যতামূলক করার দাবি উঠেছে। বিগত সরকারগুলো এ ধরনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারও দিয়েছে। কিন্তু তারা মন্ত্রিপরিষদ বা সরকারপ্রধানের সম্পদের হিসাব প্রকাশে ব্যর্থ হয়েছে এ নিয়ে জনমনে ব্যাপক হতাশা রয়েছে। এর ফলে আগামী সরকারও এই দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়ে যেতে পারে বলে অনেকে আশঙ্কা করছেন।

ড. দেবপ্রিয় বলেন, আজকের আলোচনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের বিষয় উঠে এসেছে। গত দেড় বছরে নানা সংস্কারের কথা হলেও রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক সংস্কার নিয়ে কার্যত কোনো আলোচনাই হয়নি। রাজনীতিবিদরা নিজেরাও এ দাবি তোলেননি, সরকারও করেনি, নির্বাচন কমিশনও নয়, দুর্নীতি দমন কমিশনও এগোয়নি। রাজনৈতিক দলের গণতন্ত্রায়ন, দুর্নীতিমুক্তকরণ, সঠিক মনোনয়ন প্রক্রিয়া এবং জবাবদিহির বিষয়গুলো চট্টগ্রামের এই সভায় জোরালোভাবে উঠে এসেছে।

তিনি আরও বলেন, সবকিছুতে সরকার বা রাজনীতিবিদদের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকলে চলবে না। নাগরিকদের বলিষ্ঠ ও সাহসী ভূমিকা নিতে হবে। জবাবদিহির চাবিকাঠি নাগরিকদের হাতেই থাকা উচিত। নাগরিকদের ভীত না হয়ে, সংগঠিত হয়ে, ধারাবাহিকভাবে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য সোচ্চার থাকতে হবে।

পরামর্শ সভায় আরও বক্তব্য রাখেন নাগরিক প্ল্যাটফর্মের কোর গ্রুপ সদস্য ও সিপিডির ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চট্টগ্রামের সাবেক আহ্বায়ক প্রফেসর সিকান্দার খান, ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন, সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক)-এর আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন, ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ, কলামিস্ট মুসা খান প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত