ঈশ্বরগঞ্জে এক দিনেই মাদরাসার দান ও মান্নতে মিলল কোটি টাকা

আপডেট : ১১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:৩০ পিএম

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ পৌর শহর থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরেই অবস্থিত সাত দশকেরও বেশি পুরোনো দ্বীনি প্রতিষ্ঠান জামিয়া গাফুরিয়া দারুসসুন্নাহ ইসলামপুর মাদরাসা। সময়ের সাথে সাথে ১৯৫৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই মাদরাসাটি শুধু মুসলমানদের নয়, সকল ধর্মের মানুষের কাছেই এক আদর্শ প্রতিষ্ঠান এবং সর্বজনীন পবিত্র স্থান হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছে।

ইসলামপুর মাদরাসায় মান্নত করলে আল্লাহ মনের আশা পূর্ণ করেন এই আলোচনাকে কেন্দ্র করেই দেশজুড়ে এর বিশেষ পরিচিতি আছে। ঈশ্বরগঞ্জ সদর ইউনিয়নের বালিশিতা গ্রামের মাদরাসাটি অবস্থিত।    

আজ (১১ ডিসেম্বর) বৃহস্পতিবার সকালে ঈশ্বরগঞ্জের ঐতিহাসিক জামিয়া গাফুরিয়া দারুসসুন্নাহ ইসলামপুর মাদ্রাসার ৭৫তম ইসলামি মহা-সম্মেলন শেষে দান ও মান্নতের টাকা গণনা করা হয়। গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগী, স্বর্ণালংকার, কৃষিপণ্য এবং যাবতীয় জিনিসপত্রের মূল্যসহ এক কোটির বেশি টাকার দান-মান্নত মিলে ইসলামপুর মাদরাসার মাহফিলে।

বৃহস্পতিবার সকালে অনেক মালামাল নিলামে বিক্রি করা হয়। এখনো কিছু মালামাল বিক্রি করা হয়নি। বিক্রি শেষ হলে হয়তো সেই টাকার অংক আরও বাড়বে বলে জানান মাদরাসা কর্তৃপক্ষ।

এর আগে গত বুধবার মাদ্রাসার বার্ষিক ইসলামি সম্মেলন শেষে টাকা গণনা করে বৃহস্পতিবার সকালে মাদরাসা কমিটির কাছে হস্তান্তর করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মাদরাসার মুহতামিম মুফতি মাহমুদুল হক আযীযী।

ধারণা করা হচ্ছে, ইসলামপুরের এবারের ইসলামি মহা-সম্মেলনে প্রায় ২ থেকে ৩ লাখ মানুষের সমাগম ঘটেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মাহফিলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মাদরাসার ৫ শতাধিক স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি মোতায়েন করা হয় পুলিশ, আনসার ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের। মান্নত ও দানের টাকা গণনা শেষে ব্যাংক পর্যন্ত সব টাকা নিরাপদে পৌঁছে দিতে সার্বিক নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত পুলিশ সদস্যরা যথাযথ দায়িত্ব পালন করেছেন।

ইসলামপুরের মাহফিলে বরিশাল বিভাগের ভোলার চরফ্যাশন এলাকা থেকে আসা মাহমুদ কলি নামে একজন বলেন, 'অনেক আলেমের মুখে শুনতাম ঈশ্বরগঞ্জের ইসলামপুর মাদরাসার মাহফিল দেশের বৃহৎ কয়েকটা ইসলামি সম্মেনের মধ্যে অন্যতম একটি। কখনো আসার সৌভাগ্য হয়নি। স্বপ্ন ছিল জীবনে একবার হলেও আসব, এবার সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে।

ইসলামপুরের মাহফিলে শুধু মুসলিমরাই আসেন তা নয়, অনেক সনাতন ধর্মাবলম্বী লোকজনকে দান ও মান্নত নিয়ে আসতে দেখা গেছে। কাজল নামে একজন ও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সনাতন ধর্মাবলম্বী বলেন, 'কোন কিছুর নিয়ত করে ইসলামপুর মাদ্রাসার মান্নত করলে তা শতভাগ সফল হয়। সে কারণেই আমাদের ধর্মের অনেক লোকজনও এখানে দান ও মান্নত করে।’

সারারাত মাহফিল শুনে সকালে বাড়ি পথে মান্নত কাউন্টারের সামনে কথা হয় ঈশ্বরগঞ্জের রাজিবপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা এহছানুল হক রানা (৩৮) ও সোহাগি ইইউনিয়নের বাসিন্দা বাবুল মিয়ার (৪৫) সঙ্গে। তারা বলেন, ছোট বেলা থেকেই ইসলামপুরের সভায় আসি। মান্নত ও দান-সদকা করি। এখানে কোন কিছু আশা করে মান্নত করলে আল্লাহ তা পূরণ করে দেন। যাদের বিয়ে হয় না, মান্নত করলে বিয়ে হয়। চুরি যাওয়া জিনিস ফিরে পাওয়াসহ অসংখ্য নজির আছে। সবই আল্লাহর রহমত, তার লীলাখেলা।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, আমাদের এলাকায় বছরে ৩ দিন ঈদের মতো আনন্দ হয়। তার মধ্যে ইসলামপুরের মাহফিলও একটি দিন।

মাদরাসার মুহতামিম মুফতি মাহমুদুল হক আযীযী বলেন, ঐতিহ্যবাহী জামিয়া গাফুরিয়া দারুসসুন্নাহ ইসলামপুর মাদ্রাসায় মহান আল্লাহ তাআলার অশেষ রহমতে প্রতিবছরের মতো এবারও বার্ষিক সভায় সকলের দান এবং মান্নতে কোটি টাকা উঠেছে। সেই টাকা কর্তৃপক্ষ মাদরাসার এতিম, গরীব, অসহায় ছাত্রদের পিছনে ব্যয় করে থাকেন।

এছাড়াও এই অর্থ দিয়ে মাদরাসার বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ পরিচালানা করা হয়ে থাকে। তাই সকলেই মাদরাসায় দান-সদকা করে দুনিয়া এবং আখিরাতে সওয়াব হাসিল করার আহ্বান জানান তিনি। এসময় তিনি আরও বলেন কেউ চাইলে-০১৭১৫১২০৭৮৫ (বিকাশ) নম্বরেও দান-মান্নত পাঠাতে পারেন।

এ বিষয়ে মাদরাসার সভাপতি ও ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহবায়ক প্রকৌশলী লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু বলেন,ঐতিহ্যবাহী ইসলামপুর মাদরাসার শিক্ষা ব্যবস্থাসহ অন্যান্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন মূলত সকলের দানের ভিত্তিতেই চলে। আমরা চাই এই মাদরাসার বার্ষিক সম্মেলনে আরও বেশি মানুষ অংশগ্রহণ করুক। সকলের সহযোগীতায় ইসলামিক স্কলারদের সমন্বয়ে ইসলামপুর মাদরাসার শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও যুগোপযোগী করে তুলতে চাই আমরা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত