ঈশ্বরদীতে ইজিবাইকের চাকায় পিষ্ট করে একজনকে হত্যা

আপডেট : ১১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৫:৩৬ পিএম

পাবনার ঈশ্বরদীতে পাওনা টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে আজাদ হোসেন (৩৫) নামের এক শ্রমিককে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের নিচে ফেলে প্রকাশ্যে পিষে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। 

বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) সকাল ১০টার দিকে ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের চররূপপুর জিগাতলা মোড় এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

নিহত আজাদ হোসেন রাজশাহীর বাঘা উপজেলার জোতখা মুন্সি বাজার এলাকার মো. আলী আজমের ছেলে এবং ঈশ্বরদী ইপিজেডের নাকানো ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন।

একাধিক সূত্রে জানা যায়, ঈশ্বরদী উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামের বাসিন্দা অটোচালক মো. রনির কাছ থেকে ইপিজেড শ্রমিক মো. আজাদ হোসেন সুসম্পর্কের খাতিরে প্রায় ৩ মাস আগে ১৫ হাজার টাকা ধার নিয়েছিলেন। কিন্তু সেই টাকা সঠিক সময়ে পরিশোধ করতে ব্যর্থ হন নিহত আজাদ। এদিকে চররুপপুর জিগাতলা মোড়ে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার পথে অটোচালক রনির সঙ্গে দেখা হয় আজাদের। এ সময় রনি তার পাওনা টাকা চেয়ে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করলে দু’জনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। পরে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে স্ত্রীর সামনে রনি আজাদকে ধাক্কা মেরে সড়কের উপর ফেলে দেয় এবং তার ব্যাটারিচালিত অটো দিয়ে আজাদের শরীরের উপর চাপা দিয়ে প্রায় আধাঘণ্টা ছেঁচড়িয়ে নিয়ে যায়। পরে তার স্ত্রীর সহযোগিতা স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় আজাদকে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। 

নিহত আজাদের স্ত্রী মোছা. বর্ষা খাতুন জানান, পাওনা টাকা চাইলে আমার স্বামী কিছুদিন পর দেওয়ার কথা বললে রনি তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। পরে দু’জনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হলে রনি কিল ঘুষি মেরে তাকে সড়কের উপর ফেলে তার ইজিবাইক দিয়ে চাপা দেয় পরে প্রায় আধা কিলোমিটার পর্যন্ত ছেঁচড়িয়ে নিয়ে গেলে লোকজনের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করি। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনার সঠিক বিচার দাবি করেন তিনি।

ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মমিনুজ্জামান বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে মামলা দায়েরর প্রস্তুতি নিচ্ছে। মামলা হলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত