ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করেছে সন্ত্রাসীরা। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানিয়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম, জাহাঙ্গীরনগর, রাজশাহী, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেছেন। তাছাড়া, হামলাকারীদের শনাক্ত করে দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে সাদা দল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু), বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, ইনকিলাব মঞ্চসহ বিভিন্ন সংগঠন।
হামলাকারীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি ডাকসুর : ওসমান হাদির ওপর দুর্বৃত্তদের গুলির ঘটনায় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। বিক্ষোভ সমাবেশে হামলাকারী সন্ত্রাসীদের শনাক্ত করে দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান ডাকসু নেতারা। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বিক্ষোভ মিছিলটি ডাকসু ভবনের সামনে থেকে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে ভিসি চত্বরে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়।
সমাবেশে ডাকসুর স্বাস্থ্য ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক এসএম আল মিনহাজ বলেন, ওসমান হাদি ভাইয়ের ঠিক কানের নিচে টার্গেট করে পেশাদার শুটার দিয়ে গুলি করা হয়েছে। হাদির চিকিৎসা নিয়ে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র যেন না হয়, তা নিয়ে আমাদের সজাগ থাকতে হবে।
ডাকসুর এজিএস মহিউদ্দিন খান বলেন, ওসমান হাদির সংগ্রাম মূলত আমাদের সংগ্রাম। ওসমান হাদির সংগ্রাম জুলাইয়ের সংগ্রাম। তিনি তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।
প্রার্থীকে গুলি করা অশনিসংকেত ডাকসু ভিপি : ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা রাজনীতির জন্য অশনিসংকেত বলে মন্তব্য করেছেন ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম। গতকাল নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন তিনি।
ফেসবুক পোস্টে ভিপি সাদিক লেখেন, জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিনই রাজধানীতে একজন প্রার্থীকে গুলি করা হলো। খুবই অশনিসংকেত। পতিত ফ্যাসিস্টরা এই নির্বাচন প্রতিরোধে ইতিমধ্যে নানা কর্মসূচি ও হুমকি দিয়েছে। ফ্যাসিস্টদের দেশি-বিদেশি দোসররাও আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে দিতে চায় না। এ অবস্থায়, প্রার্থীর ওপর হামলায় নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া এবং প্রার্থীদের নিরাপত্তা প্রশ্নে আশঙ্কার সৃষ্টি করেছে।
তিনি আরও লেখেন, অন্তর্বর্তী সরকারকে আহ্বান জানাচ্ছি, অতিসত্তর এই গুলিকারীকে চিহ্নিত করতে হবে এবং একই সঙ্গে এ ঘটনার পেছনের রাজনৈতিক মোটিভ উদঘাটন করে জাতিকে জানাতে হবে। আরও আহ্বান জানাব, দল-মত নির্বিশেষে যেসব প্রার্থী নির্বাচনী প্রচারের জন্য মাঠে থাকবেন তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকার যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।
গুলিবর্ষণকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে ঢাবি সাদা দল : ওসমান হাদির ওপর গুলিবর্ষণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ঢাবির বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল। হামলাকারীদের চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেপ্তারেরও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। এ হামলা মুক্তমত ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ওপর সরাসরি আঘাত বলে জানিয়েছে সাদা দল। গতকাল ঢাবি সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খান এবং যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম ও অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকার স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে দাবি জানান তারা।
বিবৃতিতে নেতারা বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদা দল গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের সঙ্গে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির ওপর সংঘটিত বর্বরোচিত গুলিবর্ষণের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে। এর পেছনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচালের কোনো চক্রান্ত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি রাখে।
হামলাকারীর বিচার দাবিতে ঢাবি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ : শরিফ ওসমান হাদির গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ করেছেন ঢাবির শিক্ষার্থীরা। গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এ সমাবেশ হয়।
ঢাবির ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী নাকিব বলেন, যারা জুলাইকে ভয় পায়, তারাই হাদিকে ভয় পায়। ওসমান হাদি বাংলাদেশের সংস্কারের প্রতি অনুরাগী ব্যক্তিত্ব। তাকে গুলি করে আমাদের রুখে দেওয়া যাবে না।
বিজয় একাত্তর হল সংসদের সমাজসেবা সম্পাদক নাজমুল হাসান বলেন, ওসমান হাদি কোনো ব্যক্তি নন, তিনি একটা প্রজন্ম। তিনি জুলাইয়ের পাহারাদার। আমরা জুলাইয়ের রক্তগঙ্গা মাড়িয়ে এখানে এসেছি। ওসমান হাদি এক চেতনা। তারা শুধু তার ওপর গুলি করেনি, তারা সব বিপ্লবীর ওপর গুলি চালিয়েছে।
ছাত্রদলের প্রতিবাদ মিছিল : হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানিয়ে মিছিল করেছে ছাত্রদল। গতকাল বিকেল ৫টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে থেকে এ বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি জাতীয় শহীদ মিনারসংলগ্ন রাস্তা প্রদক্ষিণ করে পরে আবার ঢামেকের জরুরি বিভাগের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
মিছিলে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন নাসির, ঢাবির ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার এক দিনের মাথায় ওসমান হাদির হামলার ঘটনা নির্বাচন বাতিলের ষড়যন্ত্র। হাদি জুলাইয়ের একজন সক্রিয় কর্মী। তার ওপর হামলার ঘটনা ইন্টেরিমের ব্যর্থতাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়।
তিনি অন্তর্বর্তী সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আমরা ইন্টেরিমকে আহ্বান করব অবিলম্বে সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসুন। দেশকে একটা গোষ্ঠী অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। আপনারা তাদের প্রতিহত করুন।
সারা দেশে শিবিরের কর্মসূচি ঘোষণা : হাদির ওপর দুর্বৃত্তদের গুলিবর্ষণের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ছাত্রশিবির। একই সঙ্গে এ ঘটনার প্রতিবাদে দেশব্যাপী বিক্ষোভ মিছিল এবং দোয়া মাহফিল কর্মসূচি ঘোষণা করেছে শিবির। গতকাল ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল নূরুল ইসলাম সাদ্দাম এক যৌথ বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানান।
নেতারা বলেন, জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন একজন সংসদ সদস্য প্রার্থীর ওপর হামলা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। দেশকে পরিকল্পিতভাবে অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা চলছে। তাকে প্রফেশনাল কিলার দিয়ে টার্গেট কিলিংয়ের চেষ্টা করা হয়েছে, যা নোংরা ও ঘৃণ্য রাজনীতির স্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ। মানুষ হত্যা করে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার অপচেষ্টা আমরা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করি।
নেতারা আরও বলেন, অনতিবিলম্বে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার মাধ্যমে সন্ত্রাসীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করতে হবে। পাশাপাশি জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে দেশবাসীর কাছে হাদির সুস্থতার জন্য দোয়া কামনা করেন এবং সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
হামলার প্রতিবাদে রাজধানীর শাহবাগে বিক্ষোভ : ওসমান হাদির ওপর হামলার প্রতিবাদে রাজধানীর শাহবাগে বিক্ষোভ করেছে জুলাই ঐক্য ইনকিলাব মঞ্চসহ জুলাই অভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারী বিভিন্ন সংগঠন। গতকাল বিকেল পৌনে ৫টার দিকে জাতীয় জাদুঘরের সামনের সড়কে তারা বিক্ষোভ শুরু করেন। প্রতিবাদকারীরা হামলাকারীদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, এ হামলার পেছনে ‘ভারতীয় আধিপত্যবাদী ও ফ্যাসিস্ট শক্তির’ প্রভাব রয়েছে। দিনদুপুরে ‘জুলাই যোদ্ধা’র ওপর হামলার ঘটনায় তারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
হামলার প্রতিবাদে জাবিতে বিক্ষোভ : হাদির ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে এবং জুলাই আন্দোলনে ছাত্রলীগ কর্র্তৃক হামলায় মদদদাতা শিক্ষকদের বিচার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) একদল শিক্ষার্থী। গতকাল বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা এলাকা থেকে মিছিল বের করে কয়েকটি সড়ক ঘুরে উপাচার্য বাসভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেওয়া জাবির কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম বলেন, আমাদের বহুল আকাক্সিক্ষত জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার ঠিক পরদিন আমরা দেখতে পেয়েছি জুলাই হামলার অগ্রনায়ক, ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী কণ্ঠস্বর, ফ্যাসিবাদী স্টাবলিজমের বিরোধী কণ্ঠস্বরকে আজকে দিনে-দুপুরে মোটরসাইকেলযোগে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলিবিদ্ধ করা হয়েছে। এই ইন্টেরিম সরকারের সার্বিক আওয়ামী ফ্যাসিবাদের বিচারের ব্যর্থতার একটি নমুনা দেখতে পেয়েছি।
জাকসুর সমাজসেবাবিষয়ক সম্পাদক আহসান লাবিব বলেন, আজকে আমাদের জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম নায়ক হাদির ওপর আক্রমণ করা হয়েছে, গুলিবিদ্ধ করা হয়েছে এবং তিনি অত্যন্ত সংকটপূর্ণ অবস্থায় আছেন। এ হামলাগুলো কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং জুলাই হামলার সন্ত্রাসীদের বিচার না করা এবং দোষীদের গ্রেপ্তার না করার ফলেই এ হামলাগুলো অব্যাহত রয়েছে। আগামী নির্বাচন সামনে রেখে দেশে অস্থির পরিবেশ তৈরি করার লক্ষ্যে এ হামলাগুলো করা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ : শরিফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শিক্ষার্থীরা। গতকাল বিকেল ৫টায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) উদ্যোগে এ বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলে বক্তব্য রাখেন চাকসুর ভিপি ইব্রাহিম রনি, জিএস সাঈদ বিন হাবিব।
হাদির ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্রশিবির, চবি শাখা। এতে বক্তব্য রাখেন শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোহাম্মদ আলী ও সেক্রেটারি মোহাম্মদ পারভেজ। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় প্রতিবাদ মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ করে ছাত্রদল, চবি শাখা। এতে উপস্থিত ছিলেন শাখা ছাত্রদল সভাপতি আলাউদ্দিন মহসিন, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমানসহ অন্যান্য নেতাকর্মী। এ ছাড়া সন্ধ্যা ৬টায় জিরো পয়েন্ট মোড়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করে ইনকিলাব মঞ্চ, চবি শাখা।
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ : ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় এবং হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষার্থীরা। গতকাল গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর জানার পর বিকেল সাড়ে ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি চত্বরে শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
তাৎক্ষণিক এ বিক্ষোভ মিছিলে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বলেন, হাদি ভাইয়ের রক্ত আমরা বৃথা যেতে দেব না। সন্ত্রাসী হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচার করতে হবে। এক হাদির কিছু হলে হাজার হাদির জন্ম হবে। জুলাই যোদ্ধাদের গুলি করে বা ভয় দেখিয়ে প্রতিবাদের কণ্ঠ বন্ধ করা যাবে না।
শাহবাগে আজ সমাবেশ করবে ইনকিলাব মঞ্চ : শরিফ ওসমান হাদিকে গুলিবর্ষণের প্রতিবাদে ‘বিক্ষুব্ধ নাগরিক সমাবেশ ও গণপ্রতিরোধ’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ইনকিলাব মঞ্চ। আজ শনিবার বেলা ১২টায় রাজধানীর শাহবাগে জুলাই মিনার প্রাঙ্গণে এ সমাবেশ শুরু হবে।
আয়োজকরা আরও বলেন, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ওসমান হাদিকে গুলি করার ঘটনা গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও নাগরিক নিরাপত্তার ওপর ভয়াবহ আঘাত। এর প্রতিবাদে সামাজিক, রাজনৈতিক ও পেশাজীবী মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সেই ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ভিত্তিতেই সাধারণ নাগরিকদের উদ্যোগে এ সমাবেশ আহ্বান করা হয়েছে।
তারা জানান, দেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে নির্বিঘœ রাখতে এবং রাজনৈতিক ভিন্নমত দমনে সন্ত্রাসী হামলার বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্রিয় নাগরিকদের উপস্থিতি অত্যন্ত জরুরি।
আয়োজকরা বলেন, নির্বাচনী পরিবেশ সুষ্ঠু রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর ভূমিকা ও রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সমাবেশ থেকে সরকারের কাছে জোর দাবি জানানো হবে।
সমাবেশ সফল করতে সব সচেতন নাগরিক, শিক্ষার্থী, যুবসমাজ ও পেশাজীবীদের অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
ঝালকাঠিতে সড়ক অবরোধ : ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদি ঢাকায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে ঝালকাঠিতে সড়ক অবরোধ করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীরা।
গতকাল বিকেল ৪টার দিকে ঝালকাঠি বরিশাল আঞ্চলিক মহাসড়কের কলেজ মোড় এলাকায় টায়ার জ্বালিয়ে তারা অবরোধ শুরু করেন। এতে মহাসড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলা এ অবরোধে বরিশাল ও খুলনাগামী রুটের বাসসহ বিভিন্ন পরিবহনের শতাধিক যানবাহন আটকে পড়ে। ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।
অবরোধকারীরা জানান, ওসমান হাদির ওপর হামলাকারীদের আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করতে না পারলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন। তাদের দাবি, হামলার ঘটনাটি পরিকল্পিত এবং দ্রুত দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।
বিকেল ৫টার দিকে জেলা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে অবরোধকারীদের সঙ্গে কথা বলে। আশ্বাস পাওয়ার পর অবরোধকারীরা অবরোধ তুলে নেন। এরপর সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে থাকে।
