খুলনা-সাতক্ষীরা জাতীয় মহাসড়কের চুকনগর স্ট্যান্ড থেকে চাকুন্দিয়ার মোল্যার হোটেল পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার অংশে বিটুমিন পুরোপুরি উঠে গিয়ে যত্রতত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়েছে। সড়ক জুড়ে ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে হালকা-ভারী সব যানবাহন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হেলেদুলে চলাচল করছে। যান চলাচলে উড়ছে প্রচুর ধুলাবালি, যা আশপাশের গাছপালা, বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে স্তর জমিয়ে পরিবেশ দূষিত করছে। যাত্রী ও স্থানীয়দের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
শুধু এ অংশ নয়, ২০২০ সালের জুনে ১৬০ কোটি টাকায় পুনর্নির্মিত ৩৩ কিলোমিটারের মধ্যে ১৬ কিলোমিটারই সাড়ে পাঁচ বছরে বেহাল হয়ে গেছে। কোটি কোটি টাকা খরচ করে দফায় দফায় কার্পেটিং ও ইটের সোলিং বসানো হলেও সমস্যার সমাধান হয়নি। সড়কে বিটুমিন উঠে ছড়িয়ে পড়া, ঢেউ খেলানো উঁচু-নিচু অংশ এবং গর্তের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে, প্রাণহানি হচ্ছে। বর্ষায় ইটের সোলিং বসানোয় ঝুঁকি আরও বেড়েছে। সোলিং ঢিবির মতো উঁচু হয়ে থাকায় এবং চারপাশে গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় যানবাহন নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে। চালকরা জানান, গর্ত এড়াতে ভুল লেনে গিয়ে দুর্ঘটনা বাড়ছে।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের তথ্যমতে, খুলনা অংশের ৩৩ কিলোমিটার ২০১৮-২০২০ সালে ১৮ ফুট থেকে ৩৬ ফুট প্রশস্ত করা হয়। কিন্তু নির্মাণের এক বছরের মধ্যেই গর্ত ও উঁচু-নিচু দেখা দেয়।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মোজাহার এন্টারপ্রাইজ তিন বছর মেরামত করলেও পরে সওজ নিজস্ব অর্থায়নে চালিয়ে যায়। চলতি বছর বর্ষায় ১৬ কিলোমিটার পুরোপুরি খারাপ হয়ে পড়ে। দেড় কোটি টাকায় ৫ কিমি ইট সোলিং, ২.৫ কিমি কার্পেটিং ও ৩.৫ কিমি রুটিং করা হয়েছে।
গতকাল শনিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মহাসড়কের চুকনগর স্ট্যান্ড থেকে চাকুন্দিয়ার মোল্যার হোটেল পর্যন্ত এক কিলোমিটার এবং নিচখামার রেলক্রসিংয়ের শহরপাশে আধা কিলোমিটার খুবই খারাপ, বড় বড় গর্ত। সদ্য বিদায়ী বর্ষায় রাজবাঁধ, গুটুদিয়া বাঁক থেকে ডুমুরিয়া বাসস্ট্যান্ডের মধ্যবর্তী জায়গা, বালিয়াখালি বাঁক এবং কাঁঠালতলা বাঁকে ইটের সোলিং বসানো হয়েছে। কিন্তু ইটের সোলিংয়ের চারপাশে বিটুমিন উঠে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও ইট ভেঙেও গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া অনেক স্থানে বিটুমিন দলা বেঁধে উঁচু-নিচু ও এবড়ো-খেবড়ো হয়ে গেছে। যা চলাচল আরও ঝুঁকিপূর্ণ করেছে।
নিয়মিত যাতায়াতকারী সন্দীপন বিশ্বাস ও শেখ আব্দুস সালাম অভিযোগ করেন, নিম্নমানের বালু-খোয়া ও ঠিকাদারের গাফিলতিতে সড়ক দ্রুত নষ্ট হয়েছে। মেরামতও স্থায়ী হয় না, শুধু অর্থের অপচয়।
চালক লিটু শেখ ও এরশাদ মোল্লা বলেন, উঁচু সোলিংয়ে যান নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে, দুর্ঘটনা বাড়ছে। পথচারী নিলয় বিশ্বাস জানান, জিরো পয়েন্টে ঢালাইয়ের ধীরগতিতে এক কিলোমিটার যেতে ৩০-৪০ মিনিট লাগছে।
ব্যবসায়ী অনিমেষ নন্দী বলেন, ধুলায় দোকান-বাজার অন্ধকার, মালামাল নষ্ট হচ্ছে।
খুলনা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তানিমুল হক বলেন, মহাসড়কের ফাউন্ডেশন ভালো না। নিচের মাটি খারাপ। এ ছাড়া সর্বোচ্চ ২৭ টন পণ্য নিয়ে যানবাহন চলার অনুমতি থাকলেও সেখানে ৫০ টনের ট্রাক চলাচল করছে। এসব কারণে ওপরে যা করা হচ্ছে তা টিকছে না।
তিনি জানান, আপাতত পরিবহনের চলাচল সাময়িক স্বাভাবিক রাখতে হোগলাডাঙ্গা পাওয়ার গ্রিডের সামনে-সহ দুটি স্থানে ৫৮ লাখ ও ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ে কার্পেটিং ও দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে ৫ কিলোমিটার খারাপ অংশগুলোতে ইটের সোলিং বসানো হয়।
তবে বেশি খারাপ অংশে স্থায়ী মেরামতে ২৭ কোটি টাকা ব্যয়ে জিরো পয়েন্ট মোড়ে ১২ মিটার ঢালাই চলমান রয়েছে। চুকনগর মোড় থেকে খুলনা অভিমুখে ২ দশমিক ৫ কিলোমিটার আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ শিগগিরই শুরু হবে।
এ ছাড়া গত সপ্তাহে আরও ৬ কিলোমিটার আরসিসি ঢালাইয়ের জন্য টেন্ডার করা হয়েছে। দ্রুত আরও ২ কিলোমিটার আরসিসি ঢালাইয়ের জন্য টেন্ডার করা হবে। ঢালাই চওড়া হবে ১০ দশমিক ৫ মিটার এবং পুরু হবে ৩০০ মিলিমিটার। দ্রুত কাজ সমাপ্তির চেষ্টা করা হবে। আশা করি ঢালাইয়ের সড়ক ১০ বছর টেকসই হবে।
