গোলাম আযম, নিজামীকে সূর্যসন্তান দেশপ্রেমিক বলায় হট্টগোল, উত্তেজনা

আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৬:০৮ পিএম

পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের আলোচনা সভায় গোলাম আযম ও মতিউর রহমান নিজামীকে দেশপ্রেমিক বীর সূর্যসন্তান উল্লেখ করে কলেজ শাখা ইসলামি ছাত্র শিবিরের সেক্রেটারী হাসান আল মামুনের বক্তব্য ঘিরে ব্যপক হট্টগোল ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।

রবিবার দুপুরে কলেজের শহিদ আব্দুস সাত্তার মিলনায়তনে এ ঘটনা ঘটে। শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের শিবির সেক্রেটারির এ বক্তব্যকে ইতিহাস বিকৃতির প্রচেষ্টা জানিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল নেতারা। নিন্দা জানিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষও।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে কলেজ কর্তৃপক্ষ আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক মো. রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি কলেজ উপাধ্যক্ষ মো. আব্দুল খালেকের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে কলেজ শাখা ইসলামি ছাত্র শিবির সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুনকে ডাকা হয়।

বক্তব্যের শুরুতেই তিনি মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ জিয়াউর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের পরই জামায়াত নেতা গোলাম আযম ও মতিউর রহমান নিজামীকে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সূর্যসন্তান ও দেশপ্রেমিক উল্লেখ করে শ্রদ্ধা জানান।

উপস্থিত ছাত্রদল নেতাকর্মী ও শিক্ষার্থীরা তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানিয়ে এই দুই নেতাকে যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত চিহ্নিত স্বাধীনতা বিরোধী উল্লেখ করে হট্টগোল শুরু করেন। এ সময় অনুষ্ঠান স্থালে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। অন্তত ১৫ মিনিট হইচই হট্টগোলের পর শিক্ষকদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার পর বাকি অনুষ্ঠান শেষ হয়।

সরকারি এডওয়ার্ড কজেল ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান শ্রাবণ বলেন, গোলাম আযম স্বীকৃত রাজাকার ছিলেন এটাই সবাই জানেন। এমনকি মতিউর রহমান নিজামী ছিলেন আলবদর বাহিনীর প্রধান। বুদ্ধিজীবী হত্যায় সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখা সংগঠন এই আলবদর। বুদ্ধিজীবী হত্যার মাস্টারমাইন্ড রাও ফরমান আলী পাকিস্তানে ফিরে যাবার পর একটি বই লিখেছেন। ওই বইয়ে বুদ্ধিজীবী হত্যায় সহযোগিতা করেছে এমন চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়। এর মধ্যে অন্যতম একজন গোলাম আজম। যারা বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করল বা হত্যায় সহযোগিতা করল তাদের বুদ্ধিজীবী দিবসে দেশপ্রেমিক বা বীর সূর্য সন্তান বলে আখ্যা দেয়াকে আমরা ছাত্রদল ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করেছি। একইসাথে শিবিরকে এই অবস্থান থেকে সরে এসে এই বক্তব্যের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

এ ছাত্রনেতা বলেন, শিবির যদি এই অবস্থান থেকে সরে না আসে। তারা যদি স্বাধীনতা ও দেশ বিরোধী চেতনাতেই থাকে তাহলে কলেজ প্রশাসনের কাছে দাবি থাকবে, আগামীতে এ ধরণের অনুষ্ঠানে তাদের যেন আমন্ত্রণ না জানানো হয়।

এ বিষয়ে কথা বলতে কলেজ শাখা ছাত্রশিবির সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুনের মুঠোফোনে বারবার কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

বুদ্ধিজীবী দিবসের আলোচনা সভার সভাপতি কলেজের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক রুহুল আমিন বলেন, মামুন নামের শিবিরের ছেলেটির বক্তব্যের ওই অংশে এসেই ছাত্রদল ও অন্যান্যরা উচ্চস্বরে ওই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানায়। এ নিয়ে পাল্টাপাল্টি স্লোগান দেয় দুই পক্ষ। ১৫-২০ মিনিটের হট্টগোল শেষে আবার অনুষ্ঠান স্বাভাবিকভাবেই শুরু হয়। মামুনের ওই বক্তব্যের পর বক্তব্য দেওয়া সকল শিক্ষক ওই বক্তব্যের নিন্দা জানান এবং বুদ্ধিজীবী দিবসের সঠিক ইতিহাস ও তাৎপর্য তুলে ধরেন।

কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর মুহা. আব্দুল খালেক বলেন, শিবিরের ওই ছেলেটির বক্তব্য আমরা তখনই প্রত্যাখ্যান করেছি। কলেজের প্রোগ্রামে তার এধরণের বক্তব্য দেওয়া উচিত হয়নি জানিয়ে ভবিষ্যতে এধরণের বক্তব্য দেবার ক্ষেত্রে তাদের সতর্ক করেছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত