ক্যান্সার আক্রান্ত শরীয়তপুরের বীরাঙ্গনা যোগমায়া মালোকে বসতঘর দিয়েছে জেলা প্রশাসন। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে সদর উপজেলার দক্ষিণ মধ্যপাড়া গ্রামে তাকে দেয়া ঘরটি উদ্বোধন করে তাঁর পরিবারের কাছে চাবি তুলে দেন জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম। এ সময় তাকে শীতবস্ত্র ও শুকনা খাবার দেয়া হয়।
ঘর না থাকায় তিনি ও তাঁর পরিবার থাকাতো একটি ভাড়া বাসায়। যোগমায়ার স্বপ্ন ছিল নিজের একটি ঘর হবে, অবশেষে সেই স্বপ্ন পুরণ করলো প্রশাসন।
অসুস্থ যোগমায়া মালো বলেন, আমার স্বপ্ন ছিল নিজ জমিতে একটি ঘর হবে। সেই স্বপ্ন আজ পূরণ হয়েছে। আমি শেষ সময়টুকু পর্যন্ত নিজ ঘরেই থাকতে চাই।
জানা যায়, ১৯৭১ সালের ২২ মে মধ্যপাড়া গ্রামে গণহত্যা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ চালায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও রাজাকাররা। সেদিন যোগমায়া মালোর স্বজনদের হত্যা করে তাঁকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় পাকিস্তানিদের মাদারীপুরের ক্যাম্পে। আটকে রেখে নির্যাতন চালানো হয়।
স্বাধীনতার দুই বছর পর স্বামী নেপাল মালো মারা গেলে দুই শিশুসন্তানকে নিয়ে শুরু করেন কষ্টের জীবন। মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতায় ২০১৮ সালে বীরাঙ্গনার তালিকায় নাম ওঠে তাঁর।
শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম বলেন, যোগমায়া মালোর ঘর নেই, তাই তাঁর আক্ষেপ ছিল। তারই প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে একটি ঘর দেয়া হয়েছে। তিনি ক্যান্সারে আক্রান্ত তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।
