ভোলায় বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, আহত ২০

আপডেট : ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৪:২৮ পিএম

ভোলার দৌলতখান উপজেলায় মহান বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে জামায়াত ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর ১৫ জন ও বিএনপির ৫-৭ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

তাদের মধ্যে গুরুতর দুইজনকে দৌলতখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দৌলতখান উপজেলা স্টেডিয়ামে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দৌলতখান উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্থানীয় দৌলতখান স্টেডিয়ামে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

সেখানে আগেই বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদদের পরিবার, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের আমন্ত্রন জানানো হয়। সেখানে আলাদাভাবে সকলের জন্য আসন নির্ধারিত ছিল। অনুষ্ঠান শুরুর নির্ধারিত সময় উপস্থিত হয়ে আসন গ্রহণ করেন জামায়াতে ইসলামীর দৌলতখান উপজেলা শাখার আমীর ও সেক্রেটারি। এরপর বিএনপির নেতাকর্মীরা এসে আসনে জামায়াতের নেতাদের দেখে ‘রাজাকার বলে’ নানা ধরণের কথা বলতে থাকে। এ নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে চেয়ার ছোড়াছুড়ি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

জামায়াতে ইসলামীর দৌলতখান উপজেলার সেক্রেটারি মো. আশরাফ উদ্দিন ফারুক বলেন, উপজেলা প্রশাসন আমাদের বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে দাওয়াত দিয়েছিল। এ কারণে আমাদের নেতাকর্মীদের নিয়ে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হই। সেখানে অতিথিদের জন্য নির্ধারিত আসনে বিএনপির চারজন ও জামায়াতে ইসলামীর দুইজন নেতার জন্য চেয়ার সংরক্ষিত ছিল। নির্ধারিত সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে আমরা আমাদের আসন গ্রহণ করি। এক পর্যায়ে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সামনে দৌলতখান পৌরসভা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন বাবুল ও উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জহিরুল ইসলামসহ বিএনপি ও যুবদলের বেশ কয়েকজন পদধারী নেতাকর্মীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। তাদের হামলায় আমাদের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রায় ১৫ জন নেতাকর্মী আহত হন। গুরুতর আহত দুইজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সেখানে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ পুরোপুরি নির্বিকার ছিল। এছাড়া তারা চেয়ারসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাংচুর চালিয়েছে। এ ঘটনায় দলের উর্ধতন নেতাদের সঙ্গে আলাপ করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

দৌলতখান উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মো. ফারুক হোসেন তালুকদার বলেন, জামায়াতে ইসলামী স্বাধীনতার বিপক্ষে ছিল, তারা বাংলাদেশ চায়নি। তারা যেহেতু মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে ছিল তাই তাদের কিছুটা সেক্রিফাইস মন-মানসিকতা থাকা দরকার। বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে বসা নিয়ে নিয়ে তাদের সাথে আমাদের কথা কাটাকাটি ও ভুলবুঝাবুঝি হয়। এ সময় চেয়ার ছোড়াছুড়িতে আমাদের ৫-৭জন নেতাকর্মী আহত হন। জামায়াতে রাজনৈতিক গেইম নেওয়ার জন্য বিএনপির বিরুদ্ধে এখন মিথ্যা অভিযোগ করছে। এরপরও বিষয়টি নিয়ে আমরা দুই পক্ষ বসার কথা রয়েছে।

দৌলতখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম সিকদার বলেন, বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে বসার আসনকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত