ফিলিস্তিনের শিশুরা বীরত্বের পরিচয় দিচ্ছে

আপডেট : ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৬:৪৬ এএম

মসজিদে হারামে জুমার খুতবায় গত শুক্রবার শায়খ ড. সালেহ বিন আবদুল্লাহ বিন হুমাইদ মুসলমানদের মহান আল্লাহর প্রতি তাকওয়া অবলম্বন এবং তার প্রতি সুধারণা পোষণ করার উপদেশ দেন। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি সুধারণা রাখে, তার আশাগুলো সুসংবাদ হয়ে ধরা দেয়। আর যার নিয়ত সত্য ও স্বচ্ছ হয়, মানুষের মাঝে তার সুনাম ও আলোচনা বৃদ্ধি পায়। যে তার রবের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখে, তার ওপর প্রশান্তি বর্ষিত হয়। এ ছাড়া তিনি ফিলিস্তিনের শিশুদের প্রকৃত বীর হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

শায়েখ ব্যাখ্যা করেন, প্রতিটি সমাজের নিজস্ব ঐতিহ্য ও নীতি রয়েছে, যা তার সংহতি ও স্থিতিশীলতার প্রতীক। এই স্থিতিশীলতা ও সংহতি কেবল তখনই পূর্ণতা পায় যখন পরিবারগুলো সুদৃঢ় থাকে এবং নিজেদের স্বকীয়তা বজায় রেখে সন্তানদের সততা ও মূল্যবোধের ওপর গড়ে তোলে। এর ফলেই পরবর্তী প্রজন্ম এই নৈতিকতা, মহৎ গুণাবলি, রীতিনীতি ও প্রশংসনীয় প্রথাগুলো উত্তরাধিকার সূত্রে লাভ করে।

তিনি বলেন, এই মহৎ গুণাবলি ও নৈতিকতার মধ্যে রয়েছে বড়দের সম্মান করা, তাদের কাছে যাওয়া, পরামর্শ নেওয়া, ছোটদের প্রতি স্নেহ করা এবং তাদের যতœ নেওয়া। শিশুদের চরিত্র গঠন এবং তাদের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে গড়ে তোলা জরুরি। তাদের মধ্যে ভালো বিষয়ের উচ্চাকাক্সক্ষা ও সংকল্প জাগ্রত করতে হবে, যাতে তারা পূর্বপুরুষদের গৌরব উত্তরাধিকার সূত্রে পায়, তাদের দ্বীন ও জাতির স্বকীয়তা রক্ষা করতে পারে এবং তা নিয়ে গর্ব করতে পারে।

তিনি বলেন, ফিলিস্তিনের শিশুরা তাদের সাহস, দৃঢ়তা ও আত্মমর্যাদার মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহর জন্য অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ফিলিস্তিনের শিশুরা তাদের কাজকর্মে প্রকৃত বীরত্বের পরিচয় দিচ্ছে। তারা আত্মসমর্পণ ও অপমানের পথ প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা আধুনিক ও প্রাণঘাতী অস্ত্রে সজ্জিত দখলদার জায়নবাদী আগ্রাসনের সামনে নিজেদের শরীর ও বুক পেতে দিয়েছে। এই দৃঢ় অবস্থানই তাদের বীরত্বের প্রকৃত প্রমাণ।

শায়খ হুমাইদ আরও বলেন, শহীদদের রক্ত, বীরদের অবিচলতা শিশুদের ভেতর এমন ব্যক্তিত্ব ও মনোবল তৈরি করে, যা কখনো হীনম্মন্যতা মেনে নেয় না। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, ফিলিস্তিন ও আল-কুদস চিরকাল আরব ও মুসলিম উম্মাহর হৃদয়ে অবস্থান করবে।

তিনি উল্লেখ করেন, স্বকীয়তা ও আত্মসম্মানবোধ সমাজে গভীরভাবে প্রোথিত হলে তা সমাজের শক্তি বৃদ্ধি করে, পারিবারিক বন্ধন অটুট রাখে এবং প্রজন্মকে সুরক্ষিত করে। এর ফলে রাষ্ট্র বাইরের অনুপ্রবেশ ও বিশৃঙ্খলা থেকে নিরাপদ থাকে। মহান আল্লাহর ইচ্ছায় এর মাধ্যমে কল্যাণ ও অর্জনগুলো স্থায়ী হয় এবং ক্ষতি ও অনাচার দূর হয়। প্রজ্ঞা ও বিচক্ষণতার পরিচায়ক হলো, প্রশংসনীয় স্বভাব ও সুন্দর গুণাবলি আঁকড়ে ধরা, এমন সব মহৎ কর্মের বীজ বপন করা যার ময়দানে সম্ভ্রান্তরা প্রতিযোগিতা করে।

শায়েখ জোর দিয়ে বলেন, পৌরুষ একটি মহৎ বৈশিষ্ট্য, যা উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত এবং অর্জনযোগ্য একটি প্রশংসনীয় সম্পদ। এটি দেশ জাতিকে গর্ববোধের এক সম্মানজনক আসনে অধিষ্ঠিত করে। এটি শক্তি ও দয়া এবং দৃঢ়তা ও নম্রতা এবং সাহসিকতা ও সত্যের পথে অবিচল থাকার এক অপূর্ব সমন্বয়, যা চিন্তার সুস্থতা ও বুদ্ধির স্বচ্ছতার মাধ্যমে অর্জিত হয়।

তিনি মুসল্লিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, দ্বীন ও নিজস্ব পরিচয়ের সঙ্গে মজবুত সম্পর্ক রাখা এবং পরিবার ও ভালো প্রথার প্রতি নিজেদের সম্পৃক্ততায় গর্ববোধ করা পৌরুষ ধরে রাখার অন্যতম উপায়। একইভাবে কঠোর নিয়মানুবর্তিতায় লালনপালন, ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলা, ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে সম্মান করা এবং আলেম ও গণ্যমান্য ব্যক্তি ও অভিজ্ঞ মানুষদের সান্নিধ্যে থাকার বিষয়টি পৌরুষকে রক্ষা করে।

খুতবার শেষে শায়খ সতর্ক করে বলেন, বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অগভীর চিন্তাভাবনার প্রাবল্য, বিলাসিতা ও তুচ্ছ বিষয়ের বাড়াবাড়ি, আত্মপ্রচার ও রুচিবোধের অবক্ষয় এবং ক্ষণস্থায়ী মুহূর্তকে মহিমান্বিত করার যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তা পৌরুষকে দুর্বল করে দেয়। এসব ক্ষেত্রে মানদণ্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে অনুসারী বা লাইকের সংখ্যা এবং সংখ্যার প্রদর্শনী, যা মানুষকে গভীর চিন্তাভাবনা থেকে বিরত রাখে।

১২ ডিসেম্বর শুক্রবার, মসজিদে হারামে প্রদত্ত জুমার খুতবা। সংক্ষিপ্ত অনুবাদ করেছেন

মুহাম্মদ আতিকুর রহমান

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত