বিদেশে পাচারকৃত অর্থ ও সম্পদ উদ্ধার কার্যক্রমে আরও দক্ষতা ও কার্যকর করার লক্ষ্যে বিদ্যমান মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের কিছু ধারা যুগোপযোগী করে আইনটি সংশোধনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, জাতীয় সমন্বয় কমিটি। গতকাল বুধবার জাতীয় সমন্বয় কমিটির ৩০তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে, অর্থ মন্ত্রণালয়। এতে সভাপতিত্ব করেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা এবং নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের মুখ্য সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ সচিব, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (দ্বিপাক্ষিক), অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল, সিআইডি প্রধান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ পুলিশ ও বিএফআইইউ-এর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিদেশে পাচারকৃত অর্থ ও সম্পদ উদ্ধারের লক্ষ্যে অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত ১১টি কেইসের জন্য গঠিত যৌথ অনুসন্ধান ও তদন্ত দলের কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়। উল্লিখিত অগ্রাধিকার কেইসের ক্ষেত্রে ইতিমধ্যে ১০৪টি মামলা দায়ের করা হয়েছে, ১৪টি মামলায় চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে এবং আদালত কর্তৃক ৪টি মামলায় রায় প্রদান করা হয়েছে।
এছাড়া, দেশে মোট ৫৫ হাজার ৬৩৮ কোটি টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি, বিদেশে মোট ১০ হাজার ৫০৮ কোটি টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি অর্থাৎ সর্বমোট ৬৬ হাজার ১৪৬ কোটি টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ সংযুক্ত এবং অবরুদ্ধ করা হয়েছে। অধিকন্তু, ১১টি অগ্রাধিকার কেইসের জন্য ২১টি এমএলএআর সংশ্লিষ্ট দেশে প্রেরণ করা হয়েছে।
সভায় অগ্রাধিকার কেইসসমূহে যত দ্রুত সম্ভব চার্জশিট দাখিল, সংশ্লিষ্ট দেশে এমএলএআর প্রেরণ এবং মামলা দ্রুত নিষ্পত্তিতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
