মাটি কাটা নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখানে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে পুলিশের এসআইসহ অন্তত ৬ জন টেঁটাবিদ্ধ হয়েছেন। এ সময় কমপক্ষে ৪ টি বসতঘর ভাংচুর ও আগুন দেওয়া হয়।
আজ শুক্রবার সকালে জেলার সিরাজদীখান উপজেলার লতব্দী ইউনিয়নের কংশপুরা গ্রামে মো. জহির ও খলিলুর রহমানের লোকজনের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
টেঁটাবিদ্ধ অবস্থায় সিরাজদীখান থানার এসআই হাফিজুর রহমানকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। অপর টেঁটাবিদ্ধরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, মাটি কাটা নিয়ে উপজেলার লতব্দী ইউনিয়নের কংশপুরা গ্রামের খলিলুর রহমান ও পূর্ব রামকৃষ্ণদি গ্রামের মো. জহিরের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। ওই বিরোধের জেরে এদিন সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে উপজেলার কংশপুরা গ্রামে দুই পক্ষের লোকজন টেঁটাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পাল্টা-পাল্টি হামলা চালালে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকটি বাড়ি-ঘরে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে
এ দিকে, খবর পেয়ে সিরাজদীখান থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। এ সময় এসআই হাফিজুর হাতে টেঁটাবিদ্ধ হন। পরে সেখানে অতিরিক্তি পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়। সিরাজদীখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. জাহানারা আক্তার বলেন, পুলিশের এসআইয়ের ডান হাতে টেঁটাবিদ্ধ হন। তাকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হলে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢামেকে পাঠানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে খলিলুর রহমান বলেন, জহিরের অবৈধ মাটি কাটা বন্ধ করে দেওয়ায় লোকজন নিয়ে আমার বাড়িঘরে হামলা চালানো হয়। ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও স্বর্ণালংকার লুটপাট করা হয়েছে। আমার কয়েকজন লোক টেঁটাবিদ্ধ হয়েছেন।
পক্ষান্তরে মো. জহির বলেন, খলিলের সঙ্গে আমার বিরোধ অনেক আগের। আজকের ঘটনায় আমি জড়িত নই। লতব্দী ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. শামসুদ্দীন খান খোকন বলেন, ড্রেজার মেশিন দিয়ে মাটি কাটা ও ভরাটকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে বিরোধ চলছিল। আজকের ঘটনায় কয়েকজন টেঁটাবিদ্ধ হয়েছেন।
সিরাজদীখান থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এম এ হান্নান বলেন, ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৬ জনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে মামলা দায়ের করা হবে।
