দুমকিতে রবি ফসল আবাদের প্রস্তুতি, ব্যস্ত কৃষকরা

আপডেট : ২০ ডিসেম্বর ২০২৫, ০২:২৮ পিএম

ভোরের কুয়াশা কাটতে না কাটতেই মাঠে নেমে পড়ছেন কৃষকরা। কোথাও ট্রাক্টরের গর্জন, কোথাও মই টানা জমিতে কৃষকের ঘাম ঝরানো পরিশ্রম। পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় আমন ধান কাটা শেষ হতেই নতুন প্রাণ ফিরে পেয়েছে মাঠ। রবি ফসলের আবাদকে সামনে রেখে জমি প্রস্তুতিতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন উপজেলার কৃষকরা।

উপজেলার অপেক্ষাকৃত উঁচু জমি, প্রত্যন্ত চরাঞ্চল ও নদীতীরবর্তী এলাকাগুলোতে ধান কাটার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয়েছে চাষ, মই দেওয়া ও আগাছা পরিষ্কারের কাজ। আসন্ন শীত মৌসুমে সরিষা, গম, ভুট্টা, মুগ, মসুর, খেসারি, তরমুজসহ নানা ধরনের শাকসবজি আবাদ বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন কৃষকরা। ধান কাটার পর জমি ফাঁকা না রেখে দ্রুত নতুন ফসলের বীজ বপন করাই তাদের মূল লক্ষ্য।

মুরাদিয়া, আঙ্গারিয়া, শ্রীরামপুর, লেবুখালী ও পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও পাওয়ার টিলার, কোথাও হাতে কোদাল ও মই দিয়ে জমি সমতল করছেন কৃষকরা। অনেকেই আগেভাগেই উন্নত জাতের বীজ সংগ্রহ করেছেন। পাশাপাশি সার ও কীটনাশকের জোগানও নিশ্চিত করছেন অনেকে।

মুরাদিয়া ইউনিয়নের চরগরবদি গ্রামের কৃষক আব্দুল মালেক বলেন, ‘এ বছর আমনের ফলন ভালো হয়েছে। ধান কাটার পর জমি ফাঁকা থাকলে ক্ষতি। দ্রুত রবি ফসল লাগাতে পারলে খরচ কমে, লাভও বেশি হয়।’ তার মতো অনেক কৃষকই এবার ডাল ও তেলবীজ আবাদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

শ্রীরামপুর ইউনিয়নের কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান, শীতের শুরুতেই বীজ বপন করা গেলে ফলন ভালো হয়। তিনি বলেন, ‘সময় নষ্ট করলে ফলনে প্রভাব পড়ে। তাই ধান কাটার পরপরই জমি তৈরি করছি।কৃষকদের মতে, চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় রবি ফসলের জমি প্রস্তুতে সুবিধা হচ্ছে। এতে চাষের সময় ও খরচ দুটোই কমছে। আগের বছরের তুলনায় এবার রবি মৌসুম ঘিরে কৃষকদের আগ্রহও বেশি।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, দুমকির উঁচু ও মাঝারি উঁচু জমিতে ডাল ও তেলবীজ আবাদ তুলনামূলকভাবে বেশি লাভজনক। চরাঞ্চলে পানি জমার ঝুঁকি কম থাকায় ভুট্টা ও শাকসবজির ফলন ভালো হয়। অনুকূল আবহাওয়া বজায় থাকলে চলতি মৌসুমে রবি ফসলের আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যেতে পারে।

দুমকি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ইমরান হোসেন বলেন, ‘রবি মৌসুমে কৃষকদের আগ্রহ বেড়েছে। আমরা বীজ নির্বাচন, সুষম সার ব্যবস্থাপনা ও আধুনিক চাষপদ্ধতি বিষয়ে নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘সময়মতো বপন ও সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করা গেলে ফলন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। রোগবালাই দমন ও মাঠপর্যায়ের সমস্যা চিহ্নিত করতে তদারকি জোরদার করা হয়েছে।’

স্থানীয় বাজারে রবি ফসলের ভালো দাম পাওয়ার প্রত্যাশা কৃষকদের নতুন করে উৎসাহ দিচ্ছে। পর্যাপ্ত সেচ সুবিধা ও অনুকূল আবহাওয়া বজায় থাকলে চলতি মৌসুমে দুমকির মাঠে শুধু ফসলই নয়, কৃষকের মুখেও হাসি ফুটবে- এমনটাই আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত