রহমতের বারিধারা নিয়ে মুমিনের দুয়ারে কড়া নাড়ছে পবিত্র মাস রমজান। আরবি বর্ষপঞ্জির সপ্তম মাস রজব আমাদের মধ্যে হাজির হয়েছে সেই মহিমান্বিত মাসেরই আগমনী বার্তা নিয়ে। কৃষক যেমন ফসল ঘরে তোলার আগে পরম যতেœ জমি প্রস্তুত করেন, তেমনই রমজানের অফুরন্ত বরকত লাভের জন্য মুমিনকে রজব মাস থেকেই ইবাদতের প্রস্তুতি নিতে হয়। এই মাস এলেই রাসুলুল্লাহ (সা.) ইবাদতের মাত্রা বাড়িয়ে দিতেন এবং মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করতেন, ‘আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফি রাজাবা ওয়া শাবান, ওয়া বাল্লিগনা রামাদান।’ অর্থাৎ হে আল্লাহ! রজব ও শাবান মাস আমাদের জন্য বরকতময় করুন, রমজান মাস আমাদের নসিব করুন। (সহিহ বুখারি)
রজব শব্দের অর্থ সম্মানিত, সম্ভ্রান্ত। মাসটি নবীজি (সা.)-এর ইবাদত ও নেক আমলের মাস হিসেবেও পরিচিত। মুসলিমদের জন্য এ মাসে বেশি বেশি ইবাদত ও নেক আমল করার গুরুত্ব অপরিসীম। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, আয়েশা (রা.) বলেন, যখন রজব মাস আসত, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আমলের আধিক্য দেখেই আমরা তা বুঝতে পারতাম।
রজব মাস সম্পর্কে নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রজব মাসে (ইবাদত দ্বারা অন্তরের) জমিন চাষাবাদ করল না এবং শাবান মাসে (ইবাদতের মাধ্যমে মনের) জমিন আগাছামুক্ত করল না, সে রমজান মাসে (ইবাদতের) ফসল তুলতে পারবে না।’ (বায়হাকি)
মর্যাদার এ মাসে মহান আল্লাহ যাবতীয় যুদ্ধবিগ্রহ, হানাহানি ও রক্তপাত নিষিদ্ধ করে দিয়েছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, মহান আল্লাহর আসমান-জমিন সৃষ্টি করার দিন থেকেই বারো মাসে বৎসর হয়। এর মধ্যে চারটি মাস সম্মানিত। তিনটি একাধারে জিলকদ, জিলহজ ও মহররম এবং চতুর্থটি হলো রজব, যা জমাদিউল উখরা ও শাবানের মধ্যবর্তী মাস। (সহিহ মুসলিম)
রাসুলুল্লাহ (সা.) রজব মাস জুড়ে অত্যধিক আমল-ইবাদত করতেন, রোজা রাখতেন। দোয়া পড়তেন। রমজানের জন্য নিজেকে তৈরি করতে, নিজের মন-মানসিকতাকে পরিচ্ছন্ন করতে এ মাসে বেশি বেশি ইবাদত-বন্দেগি করতেন। হাদিসের একাধিক বর্ণনায় তা উঠে এসেছে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘রজব হলো আল্লাহর মাস, শাবান হলো আমার মাস, রমজান হলো আমার উম্মতের মাস।’ (তিরমিজি)
হজরত উম্মে সালমা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) রমজান মাস ছাড়া সবচেয়ে বেশি রোজা পালন করতেন শাবান মাসে, অতঃপর রজব মাসে।
কোনো কোনো বর্ণনায় এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) রজব মাসে প্রায় ১০টি রোজা রাখতেন, শাবান মাসে ২০টি রোজা রাখতেন, রমজান মাসে ৩০টি রোজা রাখতেন। (দারেমি)
লেখক : ধর্মীয় নিবন্ধকার
