আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে আয়োজন করা না গেলে নির্বাচন কমিশনের অস্তিত্বই প্রশ্নের মুখে পড়বে বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) তাহমিদা আহমদ।
আজ মঙ্গলবার নির্বাচন ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত এক সভায় বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশ কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ মাঠ প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
ইসি তাহমিদা আহমদ বলেন, দেশের জনগণ দীর্ঘদিন ধরে অস্বাভাবিক নির্বাচনের বোঝা বইছে। এতে পুরো জাতি ক্লান্ত ও হতাশ হয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা সেই অস্বাভাবিক নির্বাচন থেকে বের হতে চাই। একটি স্বাভাবিক, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করাই আমাদের লক্ষ্য।’
তিনি আরও বলেন, একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে জনগণের আস্থা ফিরে আসে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ, আনোয়ারুল ইসলাম সরকার এবং আব্দুর রহমানেল মাছউদ।
ইসি সানাউল্লাহ বলেন, তফসিল ঘোষণার পর থেকে মাঠ প্রশাসন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তবে শহীদ ওসমান হাদি সংক্রান্ত ঘটনায় মাঠ প্রশাসনের ইতিবাচক কাজগুলো যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন। সামনে যেন এ ধরনের পরিস্থিতি না তৈরি হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি জানান, সারাদেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ছোট ও বড় পরিসরে চেকপোস্ট কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। এ ক্ষেত্রে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করবে। নির্বাচনী কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টিকারী কোনো পরিস্থিতি বরদাশত না করার জন্য মাঠ প্রশাসনকে কঠোর নির্দেশনাও দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
ইসি আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের মধ্য দিয়ে শেষ পর্যন্ত সন্তুষ্টির হাসি হাসতে চায় নির্বাচন কমিশন।
অন্যদিকে ইসি আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানান, সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীর মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জামিন নামার সার্টিফায়েড কপি জমা না দিলেও নমিনেশন গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। এ বিষয়ে শিগগিরই একটি পরিপত্র জারি করা হবে বলে জানান তিনি।
