ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড বর্তমানে বছরে ১৫ লাখ টন জ্বালানি তেল পরিশোধন করতে পারে। এ সক্ষমতা ৩০ লাখ টনে উন্নীত করার জন্য ৩৫ হাজার ৪৬৫ কোটি ১৪ লাখ টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন করেছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন থেকে আসবে ২১ হাজার ২৭৭ কোটি টাকা। আর সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ১৪ হাজার ১৮৭ কোটি টাকার জোগান দেওয়া হবে। গতকাল মঙ্গলবার এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক সভায় এ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা ও একনেকের চেয়ারপারসন ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
সভায় উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ; পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন; খাদ্য ও ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার; সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ; স্বরাষ্ট্র ও কৃষি উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী; শিল্প, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়, গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান; বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ, সড়ক পরিবহন, সেতু ও রেলপথ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন ও পানিসম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান; স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম ও ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা।
গতকাল ৪৬ হাজার ৪১৯ কোটি টাকার ২২টি প্রকল্প একনেকের অনুমোদন পেয়েছে। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ৩০ হাজার ৪৮২ কোটি ৪৯ লাখ টাকা, প্রকল্প ঋণ হিসেবে ১ হাজার ৬৮৯ কোটি ৬১ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ১৪ হাজার ২৪৭ কোটি ৫৬ লাখ টাকার জোগান মিলবে। এ বরাদ্দ নতুন ১৪টি এবং সংশোধিত পাঁচটি প্রকল্পে ব্যয় করা হবে। সভায় তিন প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তিন প্রকল্পই চতুর্থবারের মতো মেয়াদ বাড়ানো হলো।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের মাধ্যমে পরিশোধিত জ্বালানি তেলের আমদানিনির্ভরতা কমাতে নতুন ২০টি প্রসেসিং (প্রক্রিয়াজাতকরণ) ইউনিট স্থাপন করা হবে। চট্টগ্রামে ১৯৬৮ সালে স্থাপিত ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড বর্তমানে বছরে ১৫ লাখ টন জ্বালানি তেল পরিশোধন করতে পারে। নতুন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পরিশোধন সক্ষমতা ৩০ লাখ টনে উন্নীত হবে বলে সরকার আশা করছে।
এ ছাড়া একনেক সভায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যয়ের নতুন প্রকল্প হলো পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ১ হাজার ২৯৯ কোটি ৯৬ লাখ টাকা ব্যয়ের ‘গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্পের জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনর্বাসন’ প্রকল্প। আছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের তিনটি প্রকল্প (১) কর্ণফুলী টানেল (আনোয়ারা) থেকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার জাতীয় মহাসড়কের গাছবাড়িয়া পর্যন্ত সংযোগ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প; (২) দিনাজপুর সড়ক বিভাগাধীন হিলি (স্থলবন্দর)-ডুগডুগি ঘোড়াঘাট জাতীয় মহাসড়কের মানোন্নয়নসহ তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের বিদ্যমান সরু বা জরাজীর্ণ কালভার্টগুলো পুনর্নির্মাণ এবং বাজার অংশে রিজিড পেভমেন্ট ও ড্রেন নির্মাণ প্রকল্প; (৩) ভূমি অধিগ্রহণ ও ইউটিলিটি স্থানান্তর প্রকল্প : সাপোর্ট টু ঢাকা (কাঁচপুর) সিলেট তামাবিল মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ এবং উভয় পাশে পৃথক সার্ভিস লেন নির্মাণ (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্প। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্প নারায়ণগঞ্জের আলীগঞ্জে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আটটি ১৫ তলা ভবনে ৬৭২টি আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ (দ্বিতীয় সংশোধিত) প্রকল্প ইত্যাদি।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘নারায়ণগঞ্জের আলীগঞ্জে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আটটি ১৫ তলা ভবনে ৬৭২টি আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ (দ্বিতীয় সংশোধিত)’, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীনে ঢাকা ওয়াসা প্রশিক্ষণ এবং গবেষণা একাডেমি স্থাপন প্রকল্প অনুমোদন করেছে একনেক।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘সিলেট সিটি করপোরেশনের জলাবদ্ধতা নিরসন, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ও অবকাঠামো নির্মাণ (দ্বিতীয় সংশোধিত)’, ‘জলবায়ু সহনশীল জীবনমান উন্নয়ন ক্লাইমেট রেজিলেন্স অ্যান্ড লাইভলিহুড এনহান্সমেন্ট প্রজেক্ট’, পটুয়াখালী জেলার গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন’, ‘সিলেট বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণ’ প্রকল্পও সভায় অনুমোদন পায়।
এ ছাড়া অনুমোদন পায় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘মোংলা কমান্ডার ফ্লোটিলা ওয়েস্টের (কমফ্লোট ওয়েস্ট) অবকাঠামো উন্নয়ন (প্রথম সংশোধিত)’ ও ‘সাভারে আর্মি ইনস্টিটিউট অব ফিজিওথেরাপি অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশনের অবকাঠামোগত উন্নয়ন’ প্রকল্প।
তালিকায় রয়েছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘দ্স্থু শিশু প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্র পুনর্নির্মাণ কোনাবাড়ী, গাজীপুর (প্রথম সংশোধিত)’, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ‘এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ ক্যাপাসিটি বিল্ডিং অব ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যাডভান্সড নার্সিং এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ’ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন’ ও ‘বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের উন্নয়ন (তৃতীয় সংশোধিত)’ প্রকল্প।
এ ছাড়া পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার কর্ণফুলী এবং সংযুক্ত নদীসমূহের (কাচালং, রাইখিয়ং ও শলকনদী) টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা প্রকল্প’, ‘গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্পের জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনর্বাসন’, ‘সুরমা-কুশিয়ারা নদী অববাহিকার উন্নয়ন এবং বন্যা ও সমন্বিত পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রকল্প (প্রথম পর্যায়)’ প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে।
‘ডিজাস্টার রিস্ক ম্যানেজমেন্ট এনহান্সমেন্ট প্রজেক্ট (কম্পোনেন্ট-১)’, কৃষি মন্ত্রণালয়ের ‘বগুড়া কৃষি অঞ্চলের টেকসই কৃষি উন্নয়ন’ ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ‘দারুল আরকাম ইসলামী শিক্ষা পরিচালনা ও সুসংহতকরণ (দ্বিতীয় পর্যায়)’ প্রকল্পও অনুমোদন করা হয়।
