দুটি কাজ সর্বাধিক মানুষকে জান্নাতে নিয়ে যাবে

আপডেট : ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৮:২৩ এএম

মসজিদে নববির ইমাম ও খতিব শায়খ ড. আহমদ বিন আলি আল-হুজাইফি গত শুক্রবার জুমার খুতবায় মুসল্লিদের আল্লাহভীতি অবলম্বন ও সদাচরণের উপদেশ দিয়েছেন। হাদিসের আলোকে তিনি বলেছেন, দুটি কাজ সর্বাধিক মানুষকে জান্নাতে নিয়ে যাবে। তা হলো- আল্লাহভীতি ও সদাচরণ।

মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেন, ‘হে ইমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যেমনভাবে ভয় করা উচিত এবং মুসলমান না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।’ (সুরা আলে ইমরান ১০২)

শায়খ বলেন, মহান আল্লাহর কাছে সম্মানের মাপকাঠি এবং পরকালে মর্যাদার মানদণ্ড হলো তাকওয়া বা আল্লাহভীতি। তাকওয়ার পথে অবিচল থাকা এবং এর আলোয় আলোকিত হওয়ার গুরুত্ব তিনি তুলে ধরেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, উত্তম চরিত্র ছাড়া মানুষের গুণাবলি ও প্রশংসা পূর্ণতা পায় না। আল্লাহতায়ালা মুত্তাকিদের (আল্লাহভীরুদের) মুহসিন বা অনুগ্রহকারী হিসেবে অভিহিত করেছেন।

সৃষ্টির প্রতি অনুগ্রহ করাকে তিনি মুত্তাকিদের বৈশিষ্ট্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তোমরা তোমাদের রবের ক্ষমা ও জান্নাতের দিকে দ্রুত ধাবিত হও, যার প্রশস্ততা আসমান ও জমিনের সমান, যা মুত্তাকিদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। যারা সচ্ছল ও অসচ্ছল অবস্থায় ব্যয় করে, যারা রাগ সংবরণকারী এবং মানুষের প্রতি ক্ষমাশীল। আল্লাহ নেককারদের ভালোবাসেন।’ (সুরা আলে ইমরান ১৩৩-১৩৪)

যারা নিজ চরিত্রের মাধ্যমে অনুগ্রহকারী হন তারা মহান আল্লাহর সান্নিধ্য লাভ করেন। কারণ আল্লাহ তাদের তাকওয়া ও ইহসানের গুনে ভূষিত করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ তাদের সঙ্গে আছেন যারা তাকওয়া অবলম্বন করে এবং যারা অনুগ্রহকারী।’ (সুরা নাহল ১২৮)

শায়খ ব্যাখ্যা করেন, মহান আল্লাহ তাকওয়া ও উত্তম চরিত্রের মধ্যে এক নিবিড় বন্ধন তৈরি করেছেন। হাদিস শরিফে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, তুমি যেখানেই থাক আল্লাহকে ভয় করো এবং পাপের পর পুণ্য কাজ করো, যা পাপকে মুছে দেবে। আর মানুষের সঙ্গে উত্তম আচরণ করো। (তিরমিজি) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, কোন কাজ সবচেয়ে বেশি পরিমাণ মানুষকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে? তিনি বলেছিলেন, আল্লাহর ভয় ও সদাচরণ। (তিরমিজি)

শায়খ বলেন, তাকওয়া ও উত্তম চরিত্রের এই গভীর সম্পর্ক ইসলামের মাহাত্ম্য ও ব্যাপকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ইসলাম কেবল দৃশ্যমান ইবাদত বা আচার অনুষ্ঠানের নাম নয়। এটি এমন এক জীবনব্যবস্থা, যা মানুষের জীবনের প্রতিটি দিককে অন্তর্ভুক্ত করে এবং বাস্তবতাকে ধারণ করে। ইসলাম মানুষের ভেতরকে পরিশুদ্ধ করে এবং বাইরের আচরণকে মার্জিত করে।

ইসলাম এমন এক ধর্ম, যা নৈতিকতাকে উচ্চ আসনে বসিয়েছে এবং একে ইমানের সঙ্গে যুক্ত করেছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, মুমিনদের মধ্যে ইমানে পরিপূর্ণ তারা, যাদের চরিত্র সবচেয়ে সুন্দর। আর তোমাদের মধ্যে তারাই উত্তম, যারা তাদের স্ত্রীদের কাছে উত্তম। (তিরমিজি)

সৃষ্টিজীবের সঙ্গে সদ্ব্যবহারের ফলে যে মর্যাদা লাভ হয়, তা আবু দারদা (রা.) বর্ণিত হাদিসে উল্লেখ আছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, কেয়ামতের দিন আমলের পাল্লায় উত্তম চরিত্রের চেয়ে ভারী আর কিছু হবে না। নিশ্চয়ই আল্লাহ অশ্লীল ও কটুভাষীকে ঘৃণা করেন। (তিরমিজি)

শায়খ বলেন, নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেন উত্তম চরিত্র ও মার্জিত আচরণের মূর্ত প্রতীক। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘নিশ্চয় আপনি মহান চরিত্রের ওপর অধিষ্ঠিত।’ (সুরা কলম ৪) হজরত সাদ বিন হিশাম বিন আমের (রা.) হজরত আয়েশা (রা.)-এর কাছে নবীজির চরিত্র সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তুমি কি কোরআন পড়ো না? সাদ (রা.) বললেন, পড়ি। তখন আয়েশা (রা.) বললেন, কোরআনই নবীজির চরিত্র। (সহিহ মুসলিম)

খুতবার শেষে শায়খ বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হলেন নৈতিকতা ও শিষ্টাচারের ক্ষেত্রে আমাদের জন্য উত্তম আদর্শ। মহান আল্লাহ বলেন পবিত্র কোরআনে বলেন, ‘তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসুলের মধ্যে উত্তম আদর্শ রয়েছে, যারা আল্লাহ ও শেষ দিনের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে।’ (সুরা আহজাব ২১)

১৯ ডিসেম্বর শুক্রবার, মসজিদে নববিতে প্রদত্ত জুমার খুতবা। সংক্ষিপ্ত অনুবাদ করেছেন মুফতি আতিকুর রহমান

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত