২০২৪ সালের অক্টোবরে ময়মনসিংহ বিভাগের একমাত্র শিশু হাসপাতালের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হলেও এখনো অর্ধেক কাজও শেষ হয়নি। গত দেড় বছর যাবত পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে নির্মাণকাজ। ফলে কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে বহুল প্রত্যাশিত এই প্রকল্পটি।
গণপূর্ত বিভাগ জানিয়েছে, বাকি কাজ শেষ করতে নতুন করে প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) তৈরি করা হয়েছে। এটি বর্তমানে একনেকের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। অনুমোদন মিললে আবার কাজ শুরু করা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে বিভাগটি।
ময়মনসিংহ বিভাগবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৭ সালে তৎকালীন সরকার শিশু হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। ২০২৩ সালের ২৭ আগস্ট নির্মাণের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ৩ একর জমিতে প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে দশতলা ভিত্তির ওপর প্রাথমিকভাবে দুই তলা বিশিষ্ট শিশু হাসপাতাল নির্মাণের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৪ সালের অক্টোবরে। কিন্তু অর্থ বরাদ্দ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ২০২৪ সালের জুনের পর থেকে কাজ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।
সম্প্রতি নগরীর মধ্য বারেড়া এলাকায় প্রকল্পস্থলে গিয়ে দেখা যায়, বেইজমেন্ট ও একতলার পিলার নির্মাণ শেষ হয়েছে। আশপাশে নির্মাণ সরঞ্জাম ও নির্মাণসামগ্রী ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকায় পিলারের রডে মরিচা ধরেছে।
স্থানীয়রা বলেন, এই হাসপাতাল চালু হলে ময়মনসিংহসহ শেরপুর, জামালপুর, নেত্রকোণা, কিশোরগঞ্জ ও টাঙ্গাইলের হাজার হাজার শিশু রোগী উপকৃত হতো। কিন্তু হাসপাতালের কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা হতাশা ব্যক্ত করেন।
অন্যদিকে, ময়মনসিংহ বিভাগের চিকিৎসার অন্যতম প্রতিষ্ঠান ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগে বর্তমানে ৬০ শয্যার বিপরীতে প্রতিদিন ছয় থেকে সাতগুণ বেশি রোগী ভর্তি থাকে। একেকটি বেডে একাধিক শিশুকে রেখেও চিকিৎসা দিতে হয়। এতে চিকিৎসক ও নার্সদের ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মাইনউদ্দিন খান বলেন, কম জনবল নিয়ে এতো রোগীর চাপ সামলানো অত্যন্ত কঠিন। একটি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল এখন সময়ের দাবি। শিশু হাসপাতাল চালু হলে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওপর চাপ কমবে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকল্প ব্যবস্থাপক মো. খাইরুল ইসলাম সোহেল জানান, মাটি ভরাট, বর্ষার পানি, জমি অধিগ্রহণ ও নকশা পেতে দেরি হওয়ায় কাজ শুরুর সময় পিছিয়ে যায়। ২০২৫ সালের এপ্রিলের দিকে টেন্ডার বাতিল হয়। নতুন প্রকল্প প্রস্তাবনায় বাকি কাজ শেষ করতে আরও ৩১ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। নতুন টেন্ডার হলে মাটি ভরাট, সীমানা প্রাচীর, সাবস্টেশনসহ পূর্ণাঙ্গ দোতলা ভবন নির্মাণ করা হবে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) ময়মনসিংহ মহানগরের সম্পাদক আলী ইউসুফ বলেন, শিশু হাসপাতাল নির্মাণে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক উদ্যোগের ঘাটতির কারণেই কাজটি থমকে গেছে। নির্মাণ শুরু হওয়ার পর বন্ধ হয়ে যাওয়া হতাশাজনক। তিনি দ্রুত অর্থ বরাদ্দ ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে কাজ পুনরায় শুরু করার দাবি জানান।
গণপূর্ত বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এ পর্যন্ত প্রায় ১০ কোটি টাকার কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং ওই পরিমাণ বিল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে পরিশোধ করা হয়েছে।
গণপূর্ত ময়মনসিংহ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী অর্ণব বিশ্বাস বলেন, বিভিন্ন কারণে প্রকল্পটি বন্ধ রয়েছে। বাকি কাজের জন্য নতুন প্রকল্প প্রস্তাবনা একনেকের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। অনুমোদন মিললে দরপত্র শেষ করে কাজ শুরু করা হবে।
