এক দিন পরেই শুরু হচ্ছে নারী ফুটবল লিগ। অথচ সেই লিগের আদ্যপ্রান্ত অনেক কিছুই বাংলাদেশ ফুটবল লিগের নারী ফুটবল কমিটির প্রধান মাহফুজা আক্তার কিরণের কাছে পরিষ্কার নয়। বোঝাই গেছে, অনেক কিছুই তার সঙ্গে পরিকল্পনা করে করা হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে নারী ফুটবলের দেখভালের দায়িত্বে আছেন। নিয়মিত না হলেও দুই বছরে অন্তত একবার অনেক চেষ্টা চরিত্র করে লিগ আয়োজন করেন। তবে সেগুলো হয় না মানসম্মত। ফুটবলের আসল স্টেকহোল্ডার স্পোর্টিং ক্লাবগুলোর নারী লিগ নিয়ে বড্ড অনীহা। তাই অনেক অনুরোধ করেও কিরণ পারেননি আবাহনী, মোহামেডানের মতো ক্লাবগুলোকে নারী লিগমুখী করতে। তাই বাধ্য হয়ে তাকে ধরে বেঁধে নিয়ে আসতে হয় অখ্যাত সব দলকে। এবার তো এএফসির শর্তপূরণে আয়োজন করতে হচ্ছে ১১ দলের লিগ। মার্চে এশিয়ান কাপকে সামনে রেখে এই লিগ শেষও করতে হবে এক মাসের মধ্যে। এ নিয়ে কথা বলার একপর্যায়ে নেপালে সদ্য সমাপ্ত প্রথম নারী সাফ ক্লাব চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করা নাসরিন স্পোর্টস একাডেমি নিয়েও আফসোস করলেন। পাঁচ দলের আসরে নাসরিন হয়েছে পঞ্চম। ফলাফল বিপর্যয়ে তিনি কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন জাতীয় দলের ব্রিটিশ কোচ পিটার বাটলারকে।
জাতীয় দলের ফুটবলারদের নিয়ে গড়া নাসরিন স্পোর্টস একাডেমি গত বছর হয়েছিল লিগ চ্যাম্পিয়ন। তবে কাঠমান্ডু তাদের যেতে হয়েছে আনাড়ি একদল মেয়েকে নিয়ে। তবে বাটলার নাসরিনে খেলোয়াড় ছাড়েননি অন্য কোচের অধীনে ফুটবলারদের না দেওয়ার অজুহাতে। অথচ এখন ঠিকই নারী ফুটবল লিগের জন্য ক্যাম্পের ফুটবলারদের ছেড়েছেন বাটলার। নাসরিনে খেলোয়াড় না ছাড়ার সিদ্ধান্তটা বাটলারের একার, সেটা পরিষ্কার হয়েছে কিরণের কথায়, ‘ওখানে (কাঠমান্ডুতে) প্লেয়ার ছাড়া হলে নাসরিন চ্যাম্পিয়ন হয়ে আসত।’ এরপরেই রাগ ঝাড়লেন কোচের ওপর, ‘ওর (বাটলার) কথা হচ্ছে, অন্য কোচের অধীনে খেলোয়াড় দেবে না। তখন অন্য কোচের অধীনে দিলে না, কেন এখন দিচ্ছ? আমরা অবশ্যই ওর কাছে জানতে চাইব। আমি যে কতবার এসব নিয়ে আমি কথা বলেছি, আপনারা কেউ জানেন না।’
বাটলারের ওপর ক্ষোভ উগরে দেওয়ার আগে অবশ্য একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লিগের আশা করেছেন কিরণ। জাতীয় দলের ক্যাম্পের সিনিয়র ও অনূর্ধ্ব-২০ দলের ফুটবলাররাই এই লিগে প্রধান আকর্ষণ। দলবদলে বাফুফে চেয়েছিল কয়েকটি ক্লাবে যাতে ভাগ হয়ে খেলতে পারেন ক্যাম্পের ফুটবলাররা। সে চেষ্টা নিয়েও আছে বিতর্ক। নিজেদের মধ্যেই তৈরি হয়েছিল বিরোধ। বাফুফের সহসভাপতি ফাহাদ করিম পুলের মাধ্যমে জাতীয় দলের ফুটবলারদের বিভিন্ন দলে খেলাতে চেয়েছেন। কিরণ ছিলেন এর বিরুদ্ধে। এ নিয়ে প্রশ্ন গেলে ‘নো কমেন্টস’ বলা কিরণ জানালেন, কোন ক্লাব কাদের নিয়েছে, ‘আমার জানা মতে নবাগত রাজশাহী ১১ জন, ফরাশগঞ্জ ৬ জন, পুলিশ ২ জন, আনসার ২ জন, সিরাজ স্মৃতি ও নাসরিন ১ জন করে জাতীয় দলের খেলোয়াড় নিয়েছে। লিগের বাকি দলগুলো নিজেদের মতো দল গড়েছে। আমার বিশ্বাস পাঁচ-ছঢটি দলে যেহেতু জাতীয় দলের মেয়েরা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে, সেহেতু একটা কম্পিটিটিভ লিগ হবে।’
লিগের সব ম্যাচই হবে কমলাপুর স্টেডিয়ামে। আজ নবাগত বাংলাদেশ পুলিশ ও সেনাবাহিনীর ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে লিগ। প্রতিদিন ম্যাচ হবে পাঁচটি করে। মূলত সংক্ষিপ্ত লিগ হওয়ার পরও অংশগ্রহণকারী ক্লাবগুলোর অবস্থা অথৈবচ। বলতে গেলে অনুশীলন ছাড়াই মাঠে নামবে দলগুলো। অনেকে গতকাল পর্যন্ত আবাসন চূড়ান্ত করতে পারেনি। অনেকেই সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ ফুটবলার নেওয়ার শর্তও পূরণ করতে পারেনি। তাই বাফুফে আবার ফিফার কাছে দলবদলের উইন্ডো উন্মুক্ত করার অনুরোধ করেছে। সব মিলিয়ে আরেকটি নামকাওয়াস্তে লিগ মাঠে গড়াবে, যার টাইটেল স্পন্সর বা সম্প্রচারের ব্যাপারে কোনো ধারণাই দিতে পারেননি কিরণ।
বরং বরাবরের মতো ভবিষ্যতে আবাহনী, মোহামেডানের মতো বড় দলগুলোকে লিগমুখী করার কথা শুনিয়েছেন তিনি। এমনটা প্রতিবারই বলেন কিরণ। তবে শেষে গিয়ে দেখা যায় জামালপুর, সদ্যপুস্করণী, সিরাজ স্মৃতির মতো অনামি দল ধরে এনে খেলিয়ে দেন লিগে।
