তারেক রহমানের পোস্ট

খালেদা জিয়ার প্রতি প্রতিটি সম্মানই ছিল অভূতপূর্ব

আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:২৯ এএম

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার জন্য ঘোষিত তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত হয়েছে। এই সময়ে দেশ জুড়ে এবং বিদেশে অবস্থানরত শুভানুধ্যায়ীদের কাছ থেকে পাওয়া ভালোবাসা, সমবেদনা ও দোয়া আমাদের পরিবারকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। এই তিন দিনে আমরা আরও গভীরভাবে উপলব্ধি করেছি, আমার মা ভিন্ন ভিন্ন মানুষের কাছে ভিন্ন ভিন্ন তাৎপর্য বহন করতেন। অনেক ক্ষেত্রে সেই তাৎপর্য এতটাই গভীর ও অর্থবহ ছিল, যা হয়তো আমরা নিজেরাও পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারিনি। তার (খালেদা জিয়া) প্রতি প্রতিটি সম্মানই ছিল অভূতপূর্ব। গতকাল শনিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, অনেকের কাছে তিনি ছিলেন আপসহীনতার প্রতীক। নিজ বিশ্বাসের পক্ষে সাহসের সঙ্গে দাঁড়িয়ে থাকার এক অটল প্রেরণা। এই প্রেরণা রাজনীতির গ-ি ছাড়িয়ে বহু দূর বিস্তৃত হয়েছে; পরিচয়, আদর্শ ও অবস্থানের ঊর্ধ্বে উঠে অগণিত মানুষকে স্পর্শ করেছে। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এবং তার উপদেষ্টা পরিষদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তাদের নেতৃত্ব ও দ্রুত সমন্বয়ের কারণেই স্বল্প সময়ের মধ্যে এই বিরল ও সম্মানজনক অন্তিম আয়োজন সুচারুভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। পোস্টে আন্তর্জাতিক পরিম-লেও প্রতিবেশী ও বন্ধু রাষ্ট্রসমূহ, দেশ-বিদেশের নেতৃবৃন্দ, কূটনীতিক এবং বিশ্বের নানা প্রান্তের অংশীদারদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানান তিনি। বলেন, বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধানদের সহমর্মিতা ও সংহতি আমাদের হৃদয়কে গভীরভাবে আলোড়িত করেছে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আরও বলেন, জানাজায় বিভিন্ন দেশের সম্মানিত ব্যক্তিদের উপস্থিতি, সমবেদনার চিঠি ও বার্তা, শোক বইয়ে লেখা অনুভূতি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অগণিত মানুষের আবেগি প্রকাশ, বাংলাদেশে অবস্থিত বিভিন্ন মিশন ও প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রতিটি সম্মাননাই ছিল অভূতপূর্ব। সশস্ত্র বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী, প্রশাসন এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি সদস্যের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, মায়ের শেষ বিদায়ে আপনাদের দায়িত্ববোধ ও শ্রদ্ধাঞ্জলি জিয়া পরিবারকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে।

এ ছাড়া শোকের দিনগুলো যেন মর্যাদা ও সম্মানের সঙ্গে সম্পন্ন হয়, সে জন্য যারা ভূমিকা রেখেছেন, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানান তারেক রহমান। বিশেষভাবে তিনি প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, তাদের সম্মানসূচক গার্ড অব অনার ও শেষ সালাম আমার মায়ের জীবন ও অবদানের প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে। তাকে (খালেদা জিয়া) সমাধিতে পৌঁছে দিয়ে তারা জাতির শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার প্রতিফলন ঘটিয়েছেন এবং তার অন্তিম যাত্রাকে প্রাপ্য সম্মানে আলোকিত করেছেন। তিনি বলেন, এমন অনেক মানুষ আছেন, যাদের নাম বা ভূমিকা আলাদাভাবে উল্লেখ করা সম্ভব হয়নি, কিন্তু তারা নীরবে ও নিষ্ঠার সঙ্গে এই পুরো প্রক্রিয়াকে সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে সহায়তা করেছেন। পর্দার আড়ালে কিংবা জনসম্মুখের বাইরে থেকে দায়িত্ব পালনকারী সবার প্রতিই আমাদের আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।

বাংলাদেশের জনগণের প্রতি গভীর অভিবাদন জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, দেশের প্রতিটি প্রান্ত থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমবেত হয়ে দেশনেত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর দৃশ্য আমাদের পরিবার কখনোই ভুলবে না। এই ঐক্যবদ্ধ উপস্থিতি গণমানুষের সহমর্মিতা ও মানবিক আবেগেরই প্রতিফলন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং পরিবারের পক্ষ থেকে শোক ও স্মরণের এই সময়ে যারা পাশে ছিলেন, তাদের সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনাদের ভালোবাসা ও সংহতি আমাদের সান্ত¡না ও শক্তি জুগিয়েছে। ইনশাআল্লাহ, এই শক্তি আমরা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে আগামীর বাংলাদেশে বয়ে নিয়ে চলব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত