ভেনেজুয়েলার বিপুল তেলসম্পদই দেশটি নিয়ে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগ্রহের মূল কারণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যদিও যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল উৎপাদক, তবুও দেশটি এখনো ভেনেজুয়েলার মতো দেশ থেকে আমদানি করা ভারী অপরিশোধিত তেলের ওপর নির্ভরশীল।
যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত অধিকাংশ তেলই হালকা অপরিশোধিত তেল। কিন্তু টেক্সাস ও লুইজিয়ানার মতো অঙ্গরাজ্যের অধিকাংশ শোধনাগার ভারী অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাত করার জন্য তৈরি। এ কারণে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বেশি হলেও যুক্তরাষ্ট্রকে ভারী তেলের জন্য আমদানির ওপর নির্ভর করতে হয়। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি প্রমাণিত তেল মজুত রয়েছে ভেনেজুয়েলার হাতে, যা এই ভারী তেলের অন্যতম বড় উৎস।
মাদক সন্ত্রাসের অভিযোগে শনিবার (৩ জানুয়ারি) ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী আটকের পরে ট্রাম্প বলেছেন, একটি অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলা 'পরিচালনা' করবে এবং দেশটির তেলসম্পদ ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ বাড়ানো হবে। তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় তেল কোম্পানি ভেনেজুয়েলার ভেঙে পড়া জ্বালানি অবকাঠামো মেরামতে বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে এবং তেল বিক্রির আয় থেকেই এসব খরচ উঠে আসবে।
বর্তমানে ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে। দেশটিতে কেবল যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক শেভরন সীমিত পরিসরে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। জ্বালানি খাতের বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত অবক্ষয়ের কারণে বড় পরিসরে তেল উৎপাদন পুনরায় শুরু করতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে এবং এতে প্রয়োজন হবে কয়েক দশক বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ।
এতসব চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেছেন, ভেনেজুয়েলার তেলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশাধিকার আবারও নিশ্চিত করা উচিত। শেভরন ও কনোকোফিলিপসসহ বড় জ্বালানি কোম্পানিগুলো জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে, তবে অন্যান্য প্রতিষ্ঠান এখনো তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেনি।
