যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসীদের মধ্যে কোন দেশের নাগরিকরা বেশি সরকারি সহায়তা (ওয়েলফেয়ার) নিচ্ছেন, তার একটি তালিকা প্রকাশ করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ‘ইমিগ্রান্ট ওয়েলফেয়ার রেসিপিয়েন্ট রেটস বাই কান্ট্রি অব অরিজিন’ শিরোনাম দিয়ে ওই তালিকা প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। প্রকাশিত এই তালিকা অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত প্রায় ৫৪ শতাংশ বাংলাদেশি পরিবার দেশটির সরকারের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা নিয়ে থাকে। গত সোমবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি সহায়তা গ্রহণকারী অভিবাসী পরিবারগুলোর এই পরিসংখ্যান তুলে ধরেন ট্রাম্প।
যুক্তরাষ্ট্র সরকার অভিবাসীদের খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা, আবাসনসহ নানা ধরনের সহায়তা দিয়ে থাকে। ট্রাম্পের প্রকাশিত এই পরিসংখ্যানে ১২০টি দেশ ও অঞ্চলের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এতে ভারত ও শ্রীলঙ্কা ছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ভারতকে কেন এই তালিকার বাইরে রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি ট্রাম্প। তবে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, এর পেছনে কারণ হলো ভারতীয় অভিবাসীরা তুলনামূলকভাবে খুব কম সরকারি সহায়তা নেয়। এমনকি অনেক ভারতীয় পরিবারগুলোর বার্ষিক আয় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যম আয়ের সীমার চেয়েও বেশি। ফলে চিকিৎসা বা খাদ্য সহায়তার মতো সরকারি সুবিধা নেওয়ার প্রয়োজন তাদের খুব কমই পড়ে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি। তালিকাভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি হারে সরকারি সহায়তা গ্রহণ করেছে ভুটানি অভিবাসী পরিবারগুলো ৮১ দশমিক ৪ শতাংশ। এরপরই রয়েছে ইয়েমেনি পরিবার ৭৫ দশমিক ২ শতাংশ এবং সোমালি পরিবার ৭১ দশমিক ৯ শতাংশ। দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোর মধ্যে আফগানিস্তানের ৬৮ দশমিক ১ শতাংশ, পাকিস্তানের ৪০ দশমিক ২ শতাংশ ও নেপালের ৩৪ দশমিক ৮ শতাংশ পরিবার যুক্তরাষ্ট্র সরকারের এই সহায়তা গ্রহণ করে থাকে। চীনা অভিবাসী পরিবারগুলোর ক্ষেত্রে এই হার ৩২ দশমিক ৯ শতাংশ। প্রকাশিত তালিকায় ২৫ শতাংশের নিচে সরকারি সহায়তা গ্রহণকারী কোনো দেশের নাম নেই। এ থেকে ধারণা করা হচ্ছে, যেসব দেশের অভিবাসী পরিবারগুলোর মধ্যে অন্তত ২৫ শতাংশ বা তার বেশি সরকারি সহায়তা নেয়, শুধু সেসব দেশের তথ্যই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই তালিকায় ১৯তম অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশের নাম।
যুক্তরাষ্ট্রের অলাভজনক জরিপ প্রতিষ্ঠান পিউ রিসার্চ সেন্টারের ২০২৫ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত দুই দশকে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীর সংখ্যা অভাবনীয় হারে বেড়েছে। ২০০০ সালে যেখানে বাংলাদেশির সংখ্যা ছিল মাত্র ৪০ হাজার, ২০২৩ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৭০ হাজারে। অর্থাৎ দুই দশকে জনসংখ্যা বেড়েছে ৫৬৯ শতাংশ। তবে জনসংখ্যা বাড়লেও আয়ের দিক থেকে অন্যান্য এশীয় জনগোষ্ঠীর তুলনায় বাংলাদেশিরা পিছিয়ে আছেন। ২০২৩ সালের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে একটি বাংলাদেশি পরিবারের গড় বার্ষিক আয় ৭৮ হাজার ৪০০ ডলার। যেখানে সামগ্রিকভাবে এশীয় পরিবারগুলোর গড় বার্ষিক আয় ১ লাখ ৫ হাজার ৬০০ ডলার। ব্যক্তিগত আয়ের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশিদের গড় (৩৫ হাজার ৪০০ ডলার) সামগ্রিক এশীয় গড়ের (৫২ হাজার ৪০০ ডলার) চেয়ে অনেক কম।
