সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে হত্যাচেষ্টা মামলায় শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সরকার দলীয় হুইপ জি কে গউছ এবং সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবরকে বেকসুর খালাস প্রদান করেছেন আদালত।
একইসঙ্গে এই মামলায় একজনের অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে মৃত্যদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সিলেটের বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার এই রায় প্রদান করেন।
আদালতের পিপি আবুল হোসেন জানান, রায় ঘোষণার সময় আরিফুল হক চৌধুরী, লুৎফুজ্জামান বাবর, জি কে গউছসহ মামলার আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আদালত তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাসের আদেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে মামলার আরেক আসামি হাফিজ নাঈম আহমদ নিমুকে আদালত মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন।
মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত নাইমের বাড়ি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার সৈয়দপুর পশ্চিমপাড়া লম্বাহাটি গ্রামে। মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি তাকে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।
মামলায় খালাসপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন- মুহিব উল্লা ওরফে মফিজুর রহমান ওরফে মফিজ ওরফে অভি, মুফতি মঈন উদ্দিন ওরফে আবু জান্দাল ওরফে মাসুম বিল্লাহ ওরফে খাজা, মো. আব্দুল মাজেদ বাট ওরফে ইউসুফ বাট, মো. নাজিউর রহমান নাজু ওরফে নাজমুল হক নাজু ওরফে নাজিমুল হক ও মাওলানা তাজ উদ্দিন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী বোরহান উদ্দিন বলেন, মামলায় মোট ১৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন হয়েছিল। এর মধ্যে ৩ জনের আগেই অন্য মামলায় মৃত্যুদণ্ড হয়েছে। বাকি ১০ জনের মধ্যে ৯ জনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। শুধুমাত্র আসামি হাফিজ সৈয়দ নাঈম আহমেদ আরিফ ওরফে নিমুর বিরুদ্ধে ৩টি ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তার মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেন।
২০০৪ সালের ২১ জুন সুনামগঞ্জের দিরাই বাজারে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। সমাবেশে তখন বক্তব্য দিচ্ছিলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। এ ঘটনায় অল্পের জন্য রক্ষা পান তিনি। তবে গ্রেনেড বিস্ফোরণে যুবলীগের এক কর্মী নিহত ও ২৯ জন আহত হন। ঘটনার পর দিরাই থানার তৎকালীন এসআই হেলাল উদ্দিন অজ্ঞাতপরিচয়দের আসামি করে মামলা করেন। সমাবেশে গ্রেনেড হামলার মাধ্যমে হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দুটি মামলা করা হয়। মামলায় ১২৩ জন সাক্ষী ছিলেন।
সুরঞ্জিত সেনের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনায় করা দুটি মামলায় ২০২০ সালের ২২ অক্টোবর লুৎফুজ্জামান বাবর, তৎকালীন সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র জিকে গৌছসহ ১০ জনকে আসামি করে অভিযোগ গঠন করা হয়।
রায় ঘোষণার পর আদালতে প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, অন্যায়ভাবে এই মামলায় আমাদের দীর্ঘদিন হয়রানি করা হয়েছে। আমরা কারাভোগ করেছি, আজকে আমরা নিদোর্ষ প্রমাণিত হয়েছি। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছিলাম আমরা।
সরকার দলীয় হুইপ জি কে গউছ বলেন, আজকে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কারণেই কোর্ট স্বাধীনভাবে সত্যের ভিত্তিতে এই মামলাটি নিষ্পত্তি করেছেন এবং স্বাক্ষীর ভিত্তিতে আমরা বেকসুর খালাস পেয়েছি। এই মামলায় সাড়ে ২৬ মাস আমি কারাগারে মানবেতর জীবনযাপন করেছি।
সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর বলেন, আজকে দীর্ঘদিন পরে হলেও ন্যায় বিচার হয়েছে। আমাকে ধরা হয়েছিল ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলায় এবং আমাকে বলা হয়েছিল সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যা স্বাক্ষী দেওয়ার জন্য। আমি মিথ্যা স্বাক্ষী দেইনি, এজন্য তখনকার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও অন্য যারা টিমে ছিলেন তারা আমাকে বলেছিলেন দেশে যত গ্রেনেড হামলা হয়েছে সবগুলোতে আমাকে আসামি করা হবে এবং মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে। আজ আল্লাহর বিচার হয়েছে। আজকে শেখ হাসিনা কোথায়, আর আমরা কোথায়।