নির্বাচন-পরবর্তী অর্থনীতি সম্প্রসারণের ইঙ্গিত

আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:২৬ এএম

আসন্ন নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে দেশের অর্থনীতিতে সম্প্রসারণ অব্যাহত থাকার ইঙ্গিত দিয়েছে, মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) ও পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ (পিইবি)। যৌথভাবে প্রকাশিত সর্বশেষ পারচেজিং ম্যানেজার্স ইনডেক্স (পিএমআই) প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে।

রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, মৌসুমি চাহিদা হ্রাস এবং উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে বর্তমান সময়ে ব্যবসায়িক মনোভাব কিছুটা চাপে থাকলেও, ভবিষ্যৎ ব্যবসাসূচক অর্থনীতির সব প্রধান খাতেই সম্প্রসারণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এতে নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে স্থিতিশীলতা ও ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধির প্রত্যাশা জোরালো হচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশের সামগ্রিক পিএমআই স্কোর নভেম্বরের তুলনায় শূন্য দশমিক ২ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৪ দশমিক ২-এ, যা অর্থনীতিতে সামান্য দ্রুততর সম্প্রসারণের ইঙ্গিত দেয়। কৃষি, উৎপাদন ও সেবা খাতে ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধিই এই উন্নতির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, কৃষি খাত টানা চতুর্থ মাসের মতো সম্প্রসারণ রেকর্ড করেছে এবং এ মাসে প্রবৃদ্ধির গতি আরও জোরদার হয়েছে। নতুন ব্যবসা, উৎপাদন কার্যক্রম, কর্মসংস্থান এবং ইনপুট খরচ সূচকে উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা গেছে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

উৎপাদন খাত টানা ১৬তম মাসে সম্প্রসারণে থাকলেও প্রবৃদ্ধির গতি কিছুটা মন্থর হয়েছে। নতুন কার্যাদেশ ও রপ্তানি কার্যক্রম সম্প্রসারণে থাকলেও নির্মাণ খাত তিন মাসের সম্প্রসারণের পর আবারও সামান্য সংকোচনের মুখে পড়েছে। ফলে নির্মাণ খাত ছাড়া দেশের প্রায় সব প্রধান খাতেই সম্প্রসারণ অব্যাহত রয়েছে। সেবা খাতও টানা ১৫তম মাসে সম্প্রসারণ ধরে রেখেছে, যেখানে কর্মসংস্থান ও ব্যয়সূচকে উন্নতি দেখা গেলেও নতুন ব্যবসা ও কার্যক্রমে কিছুটা দুর্বলতা লক্ষ্য করা গেছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কৃষি উৎপাদনের এই গতি বজায় থাকলে এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হলে আগামী মাসগুলোয় অর্থনৈতিক সম্প্রসারণ আরও দৃশ্যমান হতে পারে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত