ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আগামী সপ্তাহ থেকে বিভাগীয় ও জেলা সফর শুরু করতে যাচ্ছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। পরিকল্পনা অনুযায়ী, তিনি আগামী ১১ জানুয়ারি উত্তরবঙ্গ সফরের মাধ্যমে এই কর্মসূচি শুরু করবেন। চার দিনের এই সফরে তিনি বগুড়া, রংপুর, দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁওসহ উত্তরাঞ্চলের বেশ কয়েকটি জেলায় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনী আচরণবিধির কারণে প্রতীক বরাদ্দের আগে বড় ধরনের জনসভা বা সমাবেশের সুযোগ না থাকায় এই সফরকে ‘ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠান’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে বিএনপি। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন এবং সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের কাছে আনুষ্ঠানিক অনুমতি ও সার্বিক নিরাপত্তা চেয়েছে দলটি। জানা গেছে, মঙ্গলবার বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার স্বাক্ষরিত এক পত্রে ঢাকা, গাজীপুর, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, গাইবান্ধা, রংপুর, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলার জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসারদের এ বিষয়ে জানানো হয়। এই সফরে তিনি মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ আবু সাঈদ, মরহুমা তৈয়বা মজুমদারসহ সব শহীদের কবর জিয়ারত ও দোয়া মাহফিলে অংশ নেবেন। এছাড়া আহত জুলাই যোদ্ধা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।
বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ১১ জানুয়ারি তারেক রহমান ঢাকা থেকে টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জ হয়ে বগুড়ায় পৌঁছাবেন এবং সেখানে রাতযাপন করবেন। ১২ জানুয়ারি সকালে বগুড়া শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে তার মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনায় আয়োজিত গণদোয়ায় অংশ নেবেন তিনি। এরপর রংপুরের উদ্দেশে রওনা হবেন। পথে শিবগঞ্জ উপজেলার মহাস্থানে হযরত শাহ সুলতান মাহমুদ বলখী মাহী সাওয়ার (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করার কথা রয়েছে। সুবিধাজনক সময়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ আবু সাইদের কবর জিয়ারত করারও পরিকল্পনা রয়েছে।
১২ জানুয়ারি তিনি রংপুরের পীরগঞ্জ হয়ে দিনাজপুর এবং পরে ঠাকুরগাঁওয়ে রাতযাপন করবেন। ১৩ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁও থেকে পঞ্চগড়, নীলফামারী ও লালমনিরহাট হয়ে রংপুরে পৌঁছাবেন এবং রাত্রিযাপন করবেন। ১৪ জানুয়ারি রংপুর থেকে বগুড়া হয়ে ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।
বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য আতিকুর রহমান জানান, এই সফরে কিছু পরিবর্তন আসতে পারে। এটি প্রাথমিক সফরসূচি।
এছাড়া দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১৮ জানুয়ারি কক্সবাজার এবং ২০ জানুয়ারি সিলেট সফরের সম্ভাবনাও রয়েছে। কক্সবাজার সফরকালে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ছাত্রদল নেতা ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত করবেন তারেক রহমান।
তার এই সফরকে কেন্দ্র করে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা বিরাজ করছে। দলটি আশা করছে, এই সফরের মাধ্যমে সর্বস্তরে জনসমর্থনের জোয়ার সৃষ্টি হবে। তবে দলের মধ্যে চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোকের ছাপও স্পষ্ট থাকবে।
উল্লেখ্য, ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। আসন্ন নির্বাচনে তিনি বগুড়া-৬ ও ঢাকা-১৭ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। উত্তরবঙ্গ সফর শেষে পর্যায়ক্রমে অন্য বিভাগেও তার সফরের কথা রয়েছে।
তারেক রহমানের নিরাপত্তায় আরও তিন কর্মকর্তা : বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নিরাপত্তা টিমে পরিচালক হিসেবে আরও তিন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নিরাপত্তা টিমে পরিচালক (নিরাপত্তা) হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোহাম্মদ শাফাওয়াত উল্লাহ, পরিচালক (প্রটোকল) হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত মেজর মইনুল হোসেন ও পরিচালক (সমন্বয়) হিসেবে ক্যাপ্টেন মো. গণী উল আজমকে নিযুক্ত করা হয়েছে।
এর আগে তারেক রহমান লন্ডন থেকে দেশে ফেরার আগেই তার নিরাপত্তা টিমের প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম শামসুল ইসলামকে।
তারেক রহমানের সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ : বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানে সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। গতকাল বুধবার বিকেলে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ হয়।
সাক্ষাতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহাদী আমিন ও প্রেস সচিব সালেহ শিবলী উপস্থিত ছিলেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়াম্যানের সঙ্গে এটি চীনা রাষ্ট্রদূতের প্রথম সাক্ষাৎ।
ঘণ্টাব্যাপী সাক্ষাতের পরে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির বলেন, ‘অত্যন্ত সৌহার্দ্যমূলক পরিবেশে এই বৈঠক হয়েছে। চীন বাংলাদেশের একটি দীর্ঘ সময়ে গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী দেশ। আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেছেন, চীন ইজ এ ইম্পর্টেন্ট ডেভেলপিং পার্টনার অব বাংলাদেশ। তিনি বিএনপির ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং কীভাবে দেশ গড়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চান সেগুলো নিয়ে মতবিনিময় হয়েছে। চীন কীভাবে বাংলাদেশের উন্নয়নে সহযোগিতা করতে পারে সেটাও আলোচনায় উঠে এসেছে।’
এক প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘দে আর রেডি টু ওয়ার্ক নেক্সট ইলেক্টেড গভর্নমেন্ট অব বাংলাদেশ।’ উনারা (চীন) বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের রোল গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে এবং তারেক রহমান সাহেবই বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবেন, জনগণের নেতৃত্ব দেবেন পরবর্তী নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এমনটা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘ম্যাডাম বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তারা আবার ব্যক্তিগতভাবে তাদের শোক প্রকাশ করেছেন। শুরুতে রাষ্ট্রদূত তাদের দেশের পক্ষে শোকবার্তা দিয়েছেন। আপনারা জানেন, ম্যাডাম যেদিন ইন্তেকাল করেন ওইদিন সকাল ৭টায় চীনের প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতির কাছে তাদের শোক জানিয়েছেন।’
