গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের পদত্যাগের যেন হিড়িক পড়েছে। গত ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর থেকে আজ পর্যন্ত তিন শতাধিক বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা বা কর্মী পদত্যাগ করেছেন। প্রতিদিনই জেলার বিভিন্ন উপজেলার কোনো না কোনো ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা সংবাদ সম্মেলন করে পদত্যাগের ঘোষণা দিচ্ছেন। জেলার মুকসুদপুর ও কোটালীপাড়া উপজেলায় তুলনামূলকভাবে এর সংখ্যা বেশি। এরপর রয়েছে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা ও কাশিয়ানী উপজেলা। পদত্যাগ করা নেতাকর্মীদের কেউ কেউ বলছেন, গত দেড় বছরে জেলায় বিভিন্ন থানায় আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে ২০ হাজারের বেশি মামলা হয়েছে। ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতারা সেসব মামলা থেকে বাঁচতে পদত্যাগ করছেন।
গত মঙ্গলবার মুকসুদপুর উপজেলার মহারাজপুর, ভাবড়াশুড় ও বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের ৫০ জন নেতা পদত্যাগ করেছেন। এর আগে গত রবিবার দুপুরে মুকসুদপুর উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের বনগ্রাম ও গোহালা ইউনিয়নের সিন্দিয়াঘাট এলাকায় এবং সকালে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা প্রেস ক্লাবে পৃথক দুটি সংবাদ সম্মেলন করে ১৪ জন বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা পদত্যাগ করেন। গত ৩ জানুয়ারি টুঙ্গিপাড়ার বিভিন্ন পর্যায়ের তিন নেতা গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ঘোনাপাড়ার একটি রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলন করে পদত্যাগ করেন। গত ২৭ ডিসেম্বর পিঞ্জুরী ইউনিয়নের বিভিন্ন পর্যায়ের ১৭ জন নেতা ঘাঘর বাজার বিএনপি অফিসে সংবাদ সম্মেলন করে পদত্যাগ করেন। ওইদিনই আবার তারা বিএনপিতে যোগদান করেছেন। ২৩ ডিসেম্বর টুঙ্গিপাড়ার তিন নেতা ও মুকসুদপুরের খান্দারপাড় ইউনিয়নের ১৪ জন নেতাকর্মী পদত্যাগ করেছেন। ২২ ডিসেম্বর খান্দারপাড় ইউনিয়নের ৯ নেতা পদত্যাগ করেন। ২০ ডিসেম্বর টুঙ্গিপাড়ার ১৩ জন নেতাকর্মী ও মুকসুদপুরের দক্ষিণ জলিলপাড়ের বিভিন্ন পর্যায়ের ১০ নেতা পদত্যাগ করেন।
পদত্যাগকারীরা সংবাদ সম্মেলনে জানান, তারা স্বেচ্ছায় ও সজ্ঞানে আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলীয় সব পদ-পদবি থেকে পদত্যাগ করেছেন। এখন থেকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে তাদের আর কোনো সম্পর্ক নেই এবং ভবিষ্যতেও থাকবে না।
অনেকে আবার শারীরিক অসুস্থতার কথা জানিয়ে পদত্যাগের ঘোষণা দিচ্ছেন। কেউ কেউ বলছেন, তাদের পদ-পদবি দেওয়া হয়েছে সে বিষয়ে জানতেন না। এখন জানতে পেরেছেন তাই পদত্যাগ করছেন।
এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেশ কয়েকজন জানিয়েছেন, গত ৫ আগস্টের পর গোপালগঞ্জে ঘটে যাওয়া কয়েকটি ঘটনায় গোপালগঞ্জের বিভিন্ন থানায় অন্তত দুই ডজন মামলা হয়েছে। এসব মামলায় নামে-বেনামে ২০ সহস্রাধিক মানুষকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত পাঁচ শতাধিক মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরই মধ্যে অনেককেই গ্রেপ্তার করে ওইসব মামলায় চালান দেওয়া হয়েছে। এসব আতঙ্কে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতারা পদত্যাগ করছেন।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শরীফ রফিকুজ্জামান বলেন, আওয়ামী লীগের কিছু উচ্ছৃঙ্খল নেতাকর্মীর সাম্প্রতিক সময়ের কার্যকলাপের কারণে তাদের প্রতি বিতৃষ্ণা হয়ে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতারা দল থেকে পদত্যাগ করছেন। আবার কেউ কেউ মনে করছেন আগামীতে বিএনপি সরকার গঠন করবে, তাই সরকারি দলের সঙ্গে থাকার জন্যও কেউ কেউ পদত্যাগ করছেন। তবে আওয়ামী লীগের যেসব নেতাকর্মীর নামে কোনো ধরনের অভিযোগ বা কেলেঙ্কারি নেই, তারা যদি বিএনপিতে আসতে চান তাদের সাদরে গ্রহণ করা হবে।
