শীত মৌসুমেও সপ্তাহের ব্যবধানে শীতের সব সবজির দাম বেড়েছে। ভরা মৌসুমে শুধু টমেটোই বিক্রি হচ্ছে ১০০-১২০ টাকায়। বেগুনের দামও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। অন্যান্য সবজির দামও কেজিতে বেড়েছে ১০-২০ টাকা। শীত মৌসুমের সব সবজির সরবরাহ বাড়লেও দাম নিয়ে অস্বস্তি কাটছে না ক্রেতাদের।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাজধানীর কারওয়ান বাজার, নাখালপাড়া, হাতিরপুল, মিরপুর-১১ কাচাঁবাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে সবজির দাম বাড়তি দেখা গেছে।
এ ছাড়া খুচরা বাজারে এক সপ্তাহের ব্যবধানে এই দুই ধরনের চালের দাম কেজিতে বেড়েছে তিন থেকে চার টাকা।
রাজধানীর খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রচণ্ড শীতে সবজি তুলতে পারছেন না কৃষকরা। তাপমাত্রা বাড়লে কমবে সবজির দাম।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি পিস মাঝারি আকারের ফুল কপি মিলেছে ১৫-২৫ টাকায়। ১০-১৫ টাকা বেড়ে তা এখন বিক্রি হচ্ছে ৩৫-৪০ টাকায়। এ ছাড়া ১০ টাকা বেড়ে প্রতিকেজি মুলা ৪০ টাকায়, বেগুন ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ২০ টাকা বেড়ে প্রতিকেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ৫০-৭০ টাকায়। কিছুটা বেড়ে প্রতিকেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকায়। প্রতিকেজি শালগম, পেঁপে, ব্রকলি মিলছে ৩০-৫০ টাকায়। বছরের এই সময় টমেটোর দাম থাকে ক্রেতার নাগালের মধ্যে। তবে বাজারে পাকা, কাচাঁ ও আধাপাকা তিন ধরনের টমেটোর দাম ১০০-১২০ টাকা। গত সপ্তাহে ৮০ টাকায় মিলেছে পাকা টমেটো। প্রতিকেজি ঢ্যাঁড়শ, পটল বিক্রি হচ্ছে ৯০-১২০ টাকায়।
গত সপ্তাহের মতো প্রতি ডজন ফার্মের বাদামি রঙের ডিম ১০৫-১১০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লারের কেজি ১৫৫ থেকে ১৬৫ টাকা আর সোনালি জাতের মুরগির কেজি কেনা যাচ্ছে ২৪০ থেকে ২৫০ টাকায়। প্রতিকেজি গরুর মাংস মিলছে ৭৫০-৮০০ টাকায়।
প্রতিকেজি পাঙাশ ১৭০-২০০ টাকায়, পাবদা ৪০০-৫৩০, কৈ মাচ ২৫০-৩৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতিকেজি রুই ৩২০-৪২০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০-২৮০, কাতলা ৩৪০-৪৪০, শিং ৩৪০-৬৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে খুচরা বাজারে মিনিকেট ও নাজিরশাইল চালের দাম এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে বেড়েছে তিন থেকে চার টাকা। এ ছাড়া বেড়েছে মুগ ডাল, ছোট মসুর ডাল ও চা-এর দাম। অবশ্য বাজারে অধিকাংশ সবজির দাম নাগালের মধ্যেই রয়েছে। ডিম ও মুরগির দাম স্থিতিশীল আছে।
বিক্রেতারা জানান, রশিদ মিনিকেটের দাম ৭২ টাকা থেকে বেড়ে ৭৫ টাকা হয়েছে। নন-ব্র্যান্ডের মিনিকেটের দাম ছিল ৬৫ টাকার আশপাশে, সেটি বেড়ে হয়েছে ৭০ টাকা। দামি মিনিকেট মোজাম্মেলের দাম কেজিতে ১-২ টাকা বেড়ে ৮৫-৮৬ টাকা হয়েছে।
গতকাল ধরনভেদে দেশি নাজিরশাইল চাল বিক্রি হয়েছে ৭২ থেকে ৮৫ টাকা কেজি দরে। সপ্তাহখানেক আগে যা ৩-৪ টাকা কম ছিল। আর আমদানি করা নাজিরশাইলের কেজি রাখা হচ্ছে ৭৫-৭৮ টাকা। গত সপ্তাহে এ চালের দাম ছিল কেজিতে ৭২-৭৫ টাকা।
