‘অর্ধেক ক্রিকেটারই মদ্যপান করে না, মাঝে মাঝে দু-এক গ্লাস বিয়ার তো স্বাভাবিক’

আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:৫৬ পিএম

অ্যাশেজ সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৪-১ ব্যবধানে ভরাডুবির পর ইংলিশ ক্রিকেটার এবং কোচকে নিয়ে সমালোচনার ঝড় বইছে। মাঠের ভেতরের ব্যর্থতার পাশাপাশি মাঠের বাইরের আচরণ নিয়েও প্রশ্নের মুখে পড়েছেন একাধিক ক্রিকেটার। চাপ বেড়েছে প্রধান কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালাম ও অধিনায়ক বেন স্টোকসের ওপর। এমন পরিস্থিতিতে ব্যাটার হ্যারি ব্রুকের নাইটক্লাব কাণ্ড নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।

অস্ট্রেলিয়া সফরের মাঝপথে কুইন্সল্যান্ডের সমুদ্রতীরবর্তী শহর নুসায় ইংল্যান্ড দলের বিরতির সময় কয়েকজন ক্রিকেটারের অতিরিক্ত মদ্যপানের ভিডিও ও খবর প্রকাশ পায়। অ্যাশেজ শেষ হওয়ার পরপরই প্রকাশ্যে আসে আরেক ঘটনা। জানা যায়, নিউজিল্যান্ড সফরের সময় একটি নাইটক্লাবে কর্মীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়েছিলেন সাদা বলের অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক। সেই ঘটনায় তার নেতৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।

যদিও দলের ভেতরে ম্যাককালাম ওই ঘটনায় খেলোয়াড়দের কড়া বার্তা দিয়েছিলেন বলে খবর, তবে প্রকাশ্যে তিনি নিজের ক্রিকেটারদের পাশেই দাঁড়িয়েছেন, ‘সত্যি বলতে আমাদের অর্ধেক খেলোয়াড়ই মদ্যপান করে না। যারা করে, তারাও মাঝে মাঝে দু-এক গ্লাস বিয়ার খায়। জীবনের প্রায় সব ক্ষেত্রেই মানুষ এটা করে। এরা তরুণ ছেলে, অত্যন্ত চাপের মধ্যে পেশাদার ক্রিকেট খেলছে। আমাদের কাজ হলো তাদের পথ দেখানো, সাহায্য করা; যাতে তারা চাপ সামলে পরিণত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।’

চমকপ্রদ বিষয় হলো, এই ইস্যুতে ইংল্যান্ডের পক্ষে কথা বলেছেন তাদের চিরশত্রু অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটাররাও। দীর্ঘ সফরে মানসিকভাবে চাঙ্গা থাকতে বিরতি নেওয়া জরুরি বলে মত দিয়েছেন তারা। ম্যাককালামও সেই দর্শনেই বিশ্বাসী। নিউজিল্যান্ডের সাবেক এই অধিনায়ক বলেন, ‘দীর্ঘ সফরে মাঝে মাঝে বিরতি দরকার হয়- এটা প্রায় সব দলই বিশ্বাস করে। অস্ট্রেলিয়াও আমাদের থেকে আলাদা নয়। আমার মনে হয়েছে নুসার বিরতিটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সেখানে ছেলেরা দল হিসেবে একসঙ্গে থাকতে পেরেছে।’

ম্যাককালামের মূল যুক্তি হলো, খেলোয়াড়রা সীমা লঙ্ঘন করেনি। তারা মাঠের বাইরে সময় উপভোগ করলেও শৃঙ্খলা বজায় রেখেছে এবং অনুশীলনের দায়বদ্ধতা থেকে সরে আসেনি। তার ভাষায়, ‘ওরা মাঠের বাইরে সময়টা উপভোগ করেছে, কিন্তু অতিরিক্ত কিছু করেনি। অনুশীলনের ক্ষেত্রেও ওরা নিজ নিজ কাজটা সঠিকভাবেই করেছে, হয়তো সব সময় সবার চোখের সামনে সেসব ঘটেনি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত