গ্যাসের দাম বাড়িয়ে পকেট কাটছে অসাধু ব্যবসায়ীরা

আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:৫২ এএম

সুনামগঞ্জে রান্নার গ্যাসের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ ভোক্তারা। সরকারি নির্ধারিত মূল্য উপেক্ষা করে খুচরা বিক্রেতা, ডিলার ও আমদানিকারক পর্যায়ে সমন্বিতভাবে অতিরিক্ত দাম আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এতে ভোক্তাদের মধ্যে ক্ষোভের পাশাপাশি বাজার ব্যবস্থাপনা নিয়ে নাভিশ্বাস বাড়ছে।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ৪ জানুয়ারির এক বিজ্ঞপ্তিতে এলপিজি গ্যাসের নির্ধারিত দাম ঘোষণা করে। এতে সাড়ে ৫ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৫৯৯ টাকা, ১২ কেজি ১ হাজার ৩০৬ টাকা, সাড়ে ১২ কেজি ১ হাজার ৩৬০ টাকা, ১৫ কেজি ১ হাজার ৬৩৩ টাকা, ১৬ কেজি ১ হাজার ৭৪২ টাকা, ১৮ কেজি ১ হাজার ৯৫৯ টাকা, ২০ কেজি ২ হাজার ১৭৬ টাকা, ২২ কেজি ২ হাজার ৩৯৫ টাকা, ২৫ কেজি ২ হাজার ৭২১ টাকা, ৩০ কেজি ৩ হাজার ২৬৫ টাকা, ৩৩ কেজি ৩ হাজার ৫৯২ টাকা, ৩৫ কেজি ৩ হাজার ৮০৯ টাকা এবং ৪৫ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৪ হাজার ৮৯৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

তবে বাস্তবে বাজারে এমন দামে এলপিজি গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। বিভিন্ন এলাকায় নির্ধারিত দামের চেয়ে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে গ্যাস বিক্রি হচ্ছে। কোথাও পরিবহন ব্যয়, কোথাও সরবরাহ সংকট, আবার কোথাও ডিলারের দোহাই দিয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে।

শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ওয়েজখালী, হাসননগর ও তাহিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, একই কোম্পানির গ্যাস একেক দোকানে একেক দামে বিক্রি হচ্ছে। কোনো দোকানে ১২ কেজির সিলিন্ডার ১৪৭০ টাকা, আবার কোথাও ১৮০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। খুচরা বিক্রেতারা দায় চাপাচ্ছেন ডিলারদের ওপর, আর ডিলাররা বলছেন আমদানিকারকদের কাছ থেকেই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। দায় এড়ানোর এই চক্রে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ ভোক্তারা।

ওয়েজখালী এলাকার খুচরা গ্যাস বিক্রেতা মোশারফ বলেন, গেল ১০ থেকে ১৫ দিন তারা কোনো গ্যাস সিলিন্ডার পাচ্ছেন না। সব কোম্পানিই জানাচ্ছে, বর্তমানে তাদের কাছে পর্যাপ্ত গ্যাস সিলিন্ডার নেই। তিনি জানান, এর আগে ফ্রেশ কোম্পানির ১২ কেজি গ্যাস সিলিন্ডার ১৩৬০ টাকা এবং অমেরা কোম্পানির সিলিন্ডার ১৪৬০ টাকায় বিক্রি করতেন, এতে প্রতি সিলিন্ডারে প্রায় ৬০ টাকা লাভ হতো।

একই এলাকার খুচরা গ্যাস বিক্রেতা মো. এজাদনুর বলেন, বর্তমানে ১২ কেজির গ্যাসের সিলিন্ডার ১৪৭০ থেকে ১৫০০ টাকায় বিক্রি করছি। ডিলার থেকে প্রতি সিলিন্ডার ১৪০০ থেকে ১৪৭০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। এরপর পরিবহন খরচ ও দোকান ভাড়া যোগ করলে খুব বেশি লাভ থাকে না।

সরকার নির্ধারিত ১৩০৬ টাকা দামের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি মেসার্স তাওসিফ গ্যাস হাউজ থেকে কেনা একটি ভাউচার দেখান। সেখানে প্রতি সিলিন্ডারের ক্রয়মূল্য ১৩৭০ টাকা উল্লেখ রয়েছে।

তবে ভোক্তারা বলছেন, এসব যুক্তি তাদের কষ্ট কমাচ্ছে না। একই এলাকার গৃহিণী জয়বুন নেছা বলেন, আমরা গরিব মানুষ, স্বামী গাড়ি চালান। মাসে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকার বেশি আয় হয় না। পরিবারের সদস্য সাতজন। আগে যে গ্যাস ১২০০ থেকে ১২৫০ টাকায় কিনতাম, এখন সেটি ১৫০০ থেকে ১৫৫০ টাকা দিয়ে কিনতে হচ্ছে। এই দাম আমাদের জন্য খুবই বেশি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত