নবম পে-স্কেল নিয়ে দুঃসংবাদ, যা জানাল সরকার

আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:৩১ পিএম

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত নবম পে-স্কেল বা নতুন বেতন কাঠামো এই মুহূর্তে ঘোষণা করছে না অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। দেশের বর্তমান আর্থিক সংকট এবং আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতির কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে নতুন বেতন কাঠামোর একটি পূর্ণাঙ্গ ফ্রেমওয়ার্ক বা রূপরেখা তৈরি করে নির্বাচিত পরবর্তী সরকারের কাছে হস্তান্তরের পরিকল্পনা নিয়েছে বর্তমান প্রশাসন।

পে-কমিশনের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) কমিশনের সভায় সভাপতিত্ব করেন। সূত্র জানিয়েছে, কমিশন অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেবে, কিন্তু সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে তা ঘোষণার সুযোগ নেই। নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পরই নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করা হবে।

একটি সূত্র জানায়, সরকারি কর্মচারীদের বেতন স্কেল নির্ধারণের জন্য কমিশন দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। তবে রাজনৈতিক, আর্থিক ও সামাজিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন বেতন কাঠামো প্রকাশ কিছুটা বিলম্বিত হবে। প্রথমত, ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে থাকায় অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, পে-কমিশন নতুন বেতন কাঠামো চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া শেষের দিকে রয়েছে। ২১ জানুয়ারি কমিশনের চূড়ান্ত সভায় সুপারিশফল হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হবে। এরপর প্রধান উপদেষ্টা এবং অর্থ উপদেষ্টার মাধ্যমে তা সরকারের হাতে যাবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, আসন্ন নির্বাচনের আগে নতুন পে-স্কেল ঘোষণার কোনো সম্ভাবনা নেই। অন্তর্বর্তী সরকার এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে না।

কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামোর জন্য তিনটি বেতন অনুপাত প্রস্তাব করা হয়েছিল—১:৮, ১:১০ এবং ১:১২। এর মধ্যে ১:৮ অনুপাত চূড়ান্ত করা হয়েছে। সর্বনিম্ন বেতন নির্ধারণে তিনটি প্রস্তাব আসে—প্রথমে ২১ হাজার, দ্বিতীয় ১৭ হাজার এবং তৃতীয় প্রস্তাব ১৬ হাজার টাকা।

নতুন কাঠামোয় ‘১:৮’ অনুপাতে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতন নির্ধারিত হবে। উদাহরণস্বরূপ, যদি ২০তম গ্রেডের সরকারি কর্মচারীর বেতন এক টাকা ধরা হয়, তবে সর্বোচ্চ গ্রেডের বেতন হবে ৮ টাকা। অর্থাৎ ১০০ টাকা বেতন ধরলে সর্বনিম্ন বেতন ১০০ এবং সর্বোচ্চ ৮০০ টাকা হবে।

জাতীয় বেতন কমিশন, ২০২৫ গঠিত হয় গত ২৭ জুলাই, ২৩ সদস্যের মাধ্যমে। সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানকে কমিশনের সভাপতি করা হয়েছে। কমিশন সরকারি বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা পর্যালোচনা করে সুপারিশ জমা দেবে। কর্মচারীর পরিবারের সদস্য সংখ্যা ধরে আর্থিক হিসাব নির্ধারণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কমিশনের মেয়াদ প্রথম সভা থেকে ছয় মাসের মধ্যে সুপারিশ জমা দেওয়ার। নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, জাতীয় নির্বাচন ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে।

অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা ও মূল্যস্ফীতি বিবেচনা করে একটি সময়োপযোগী প্রতিবেদন জমা দিতে কমিশনকে বলা হয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের পরিকল্পনা হলো একটি আধুনিক কাঠামো তৈরি করা। আমরা সময় পেলে ঘোষণা দিয়ে যাব, অন্যথায় নতুন সরকার এসে এটি বাস্তবায়ন করবে।

উল্লেখ্য, মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গত বছরের ২৭ জুলাই সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানকে প্রধান করে ২৩ সদস্যের ‘জাতীয় বেতন কমিশন, ২০২৫’ গঠন করা হয়। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি কমিশনের ছয় মাসের মেয়াদ পূর্ণ হতে যাচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত