জুলাই- আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময় ব্যাপক হত্যাকাণ্ডসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় প্রথম কোন আসামির জামিন হলো আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। রবিবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত ট্রাইব্যুনাল-২ আসামি লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের (এখন কার্যক্রম নিষিদ্ধ) নেতা হুমায়ুন কবির পাটোয়ারিকে শর্ত সাপেক্ষে জামিনের আদেশ দেয়। শর্তে বলা হয়েছে, আসামিকে নিয়মিত ঢাকায় থেকে চিকিৎসা নিতে হবে। তিনি সাক্ষীকে প্রভাবিত করতে পারবেন না, জামিনে থাকার সময় আসামি গণমাধ্যম কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোনো কিছু বলতে বা লিখতে পারবেন না, তদন্ত কর্মকর্তা কিংবা ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারকে অবহিত করা ছাড়া বাসা পরিবর্তন করতে পারবেন না।
জামিনপ্রাপ্ত হুমায়ুন কবির পাটোয়ারি লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। তিনি জেলা সদরের চররুহিতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তাকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। গণআন্দোলন দমনে হাজারের বেশি মানুষ হত্যার অভিযোগে দলটির শীর্ষ নেতা, আওয়ামী সাবেক মন্ত্রী ও পুলিশ কর্মকর্তাদের বিচারে ২০২৪ সালের অক্টোবরে পুনর্গঠন হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বিচারে গতি আনতে পরে আরেকটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে প্রথম কোনো মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রবিবার জামিনের আদেশ হলো।
লিভার সিরোসিসের মতো গুরুতর অসুস্থতার মেডিকেল সনদ দাখিল করে হুমায়ুন কবির পাটোয়ারির পক্ষে তার আইনজীবী জামিনের আবেদন করেন। শুনানি নিয়ে ট্রাইব্যুনাল তা মঞ্জুর করেন।
প্রসিকিউটর মোহাম্মদ মিজানুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে এই প্রথম কোনো আসামি জামিন পেলেন।
তিনি বলেন, ‘এই আসামি লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত। সংশ্লিষ্ট মেডিকেল সনদ ও কারা কর্তৃপক্ষ যে নথি পাঠিয়েছে তাতে দেখা যায় তিনি (হুমায়ুন কবির পাটোয়ারি) গুরুতর অসুস্থ। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাইব্যুনাল তাকে শর্ত সাপেক্ষ জামিন দিয়েছেন। জামিনের শর্ত লঙ্ঘণ করলে সঙ্গে সঙ্গে তার জামিন বাতিল হবে এবং আসামি গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যাবেন।’
