রাজধানী ঢাকায় বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ ২০২৫-২৬ মৌসুমের প্রথম খেলা মাঠে গড়াবার আগেই প্লে-অফের সমীকরণ থেকে বিদায়ের শঙ্কায় রাজধানীর দল ঢাকা ক্যাপিটালস। ৮ ম্যাচে মাত্র ২ জয়ে তাদের পয়েন্ট ৪, মিরপুরে গ্রুপ পর্বের শেষ দুটো ম্যাচ জিতলে টিকে থাকার খানিকটা আশা আছে তাদের। একই অবস্থা নোয়াখালি এক্সপ্রেসেরও। নামে আন্তঃনগর হলেও মাঠে তারা একদমই 'লোকাল বাস'। টানা ৬ ম্যাচে হারের পর সবশেষ ২ ম্যাচে জিতে কোনরকমে টিকে আছে কাবিলার প্রিয় নোয়াখালি। প্লে-অফের ৪ দলের ৩টিই প্রায় নিশ্চিত, শেষ জায়গাটার জন্য ত্রিমুখী লড়াই রংপুর রাইডার্সের সঙ্গে ঢাকা ক্যাপিটালস, নোয়াখালি এক্সপ্রেসের।
সোমবার সিলেট পর্বের শেষ ম্যাচে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের কাছে হেরে ঢাকা ক্যাপিটালসের প্লে-অফের স্বপ্ন এখন ধূসর। শুক্রবার দুপুরে রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে ম্যাচ ঢাকা ক্যাপিটালসের। এই ম্যাচটা জিতলে কিছুটা আশা জাগিয়ে রাখতে পারবে ঢাকা, অন্যদিকে রংপুর জিতে গেলে তারাই চলে যাবে প্লে-অফে। আসরের শুরুতে শীর্ষ অবস্থানগুলোতে থাকলেও সিলেট পর্বের শেষে এসে টানা ৩ ম্যাচ হেরে রংপুর এখন ডেঞ্জার জোনে। ঢাকায় গ্রুপ পর্বে তাদের বাকি আছে আর দুই ম্যাচ, প্রতিপক্ষ পয়েন্ট তালিকায় নিচের দুই দল ঢাকা ও নোয়াখালি। এই দুই ম্যাচ জিতলে ১২ পয়েন্ট হয়ে যেতে পারে রংপুরের, তখন প্রথম কোয়ালিফায়ারে সুযোগ হয়ে যাওয়াটাও অসম্ভব নয়।
টানা হারের পর জয়ের ধারায় ফেরা নোয়াখালি এক্সপ্রেসেরও শেষ দুটো ম্যাচের প্রতিপক্ষ চট্টগ্রাম রয়্যালস ও রংপুর রাইডার্স। বৃহস্পতিবার নোয়াখালির সঙ্গে চট্টগ্রামের ম্যাচ দিয়েই শুরু হচ্ছে বিপিএলের ঢাকা পর্ব। ভৌগলিক ভাবে নোয়াখালি এবং চট্টগ্রাম কাছাকাছি হওয়াতে দেশের পূর্বাঞ্চলের এই দুই দলের দ্বৈরথ নিয়ে বেশ প্রতিদ্বন্দিতাপূর্ণ আবহই থাকার কথা ছিল সমর্থকদের। তবে 'কমিটির দল' হয়েও চট্টগ্রাম উঠে গেছে প্লে-অফে। ৮ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট তাদের কিন্তু নোয়াখালী বিদায়ের দোরগোড়ায়। যদি চট্টগ্রামকে হারাতে না পারে, তবে সেদিনই বিদায় হবে তাদের। চট্টগ্রাম জিতলে তাদের প্রথম কোয়ালিফায়ারে থাকাটা প্রায় নিশ্চিত, তাতে করে প্লে-অফে এক ম্যাচ হারলেও ফিরে আসার সুযোগ থাকবে। নোয়াখালি হেরে গেলে রংপুরের সঙ্গে শেষ ম্যাচটা তাদের হয়ে যাবে নিয়মরক্ষার।
| দল | ম্যাচ | জয় | হার | পয়েন্ট | নে.রা.রে |
|---|---|---|---|---|---|
| রাজশাহী | ৮ | ৬ | ২ | ১২ | ০.৩৬৭ |
| চট্টগ্রাম | ৭ | ৫ | ২ | ১০ | ০.৮৯৮ |
| সিলেট | ৯ | ৫ | ৪ | ১০ | ০.৪৪৯ |
| রংপুর | ৮ | ৪ | ৪ | ৮ | ০.১৭৬ |
| ঢাকা | ৮ | ২ | ৬ | ৪ | -০.৬৮৬ |
| নোয়াখালী | ৮ | ২ | ৬ | ৪ | -১.১০১ |
ঢাকা ক্যাপিটালস এর সমস্যাটা যে কোথায় সেটাই এই বিপিএলে খুঁজে বের করা দরকার। তাদের ফ্র্যাঞ্চাইজি'র দেনাপাওনার হিসেবে কোন গড়মিল নেই। বিদেশী কোচ, নামী বিদেশী খেলোয়াড়...সবই আছে। দেশের যাদের দলে নিয়েছে ঢাকা, তারাও খারাপ করছেন না। কিন্তু পারফরম্যান্স নেই। ব্যাটিংটা ভোগাচ্ছে। ৬ রানে এবং ৫ রানে দুটো ম্যাচ হারের পর ক্যাপিটালস এর পয়েন্ট টেবিলে অবস্থান নেমেছে নিচে। আসরে ঢাকা ব্যাটিংয়ে দেড়শ ছাড়িয়েছে মাত্র ২ বার। সাইফ হাসান ৭ ম্যাচে করেছেন ৪৮ রান, নাসির হোসেন-শামীম হোসেনরা এক ম্যাচে ভাল করে বাকি ম্যাচে মলিন। বোলিংয়ে ইমাদ ওয়াসিম বাদে আর কেউই ভাল করছেন না। সব মিলিয়ে ক্যাপিটালস মোটেও নাম রাখতে পারছে না রাজধানীর। ঢাকায় ঢাকা ক্যাপিটালসের শেষ দুটো ম্যাচ রংপুর রাইডার্স ও চট্টগ্রাম রয়্যালসের বিপক্ষে। দুটো জিতলে আর রংপুর যদি কোন ম্যাচেই না জিতে তাহলে সুযোগ আছে ঢাকার, না হলে বিপিএল থেকে বিদায়।
