গণভোটে 'হ্যাঁ' বিজয়ী করতে ডাকসুর মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা

আপডেট : ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:৫২ পিএম

আসন্ন জাতীয় গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটকে বিজয়ী করতে দেশব্যাপী মাসব্যাপী ১৫টি কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। ‘হ্যাঁ’ তে সিল দিন, নিরাপদ বাংলাদেশ বুঝে নিন- এই স্লোগানকে সামনে রেখে গণভোটে জনগণের অংশগ্রহণ ও সচেতনতা বাড়াতে এসব কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

আজ বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু ভবনের সামনে এই কর্মসূচি ঘোষণা উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মাসব্যাপী কর্মসূচিগুলো ঘোষণা করেন ডাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম।

মাসব্যাপী ১৫টি কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- দেশজুড়ে সরাসরি জনসংযোগ, অনলাইন ক্যাম্পেইন, প্রদর্শনী বিতর্ক, রাষ্ট্রীয় সংস্কার বিষয়ে সেমিনার, সুশীল সমাজ ও সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়সভা, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টদের সঙ্গে আলোচনা, ‘জুলাই আহতদের ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা সভা, গান-কবিতা ও ডকুমেন্টারি প্রকাশ, বক্তৃতা প্রতিযোগিতা, পথনাটক ও মাইম প্রদর্শনী, ছাত্র ও সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে মতবিনিময় এবং সারাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সফরের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ করা।

সংবাদ সম্মেলনে ডাকসুর পক্ষ থেকে জামায়াতে ইসলামী, বিএনপি, এনসিপিসহ দেশের সকল ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দল, ছাত্রসংগঠন, পেশাজীবী সংগঠন, সুশীল সমাজ এবং আপামর ছাত্র-জনতাকে ঐক্যবদ্ধভাবে গণভোটে 'হ্যাঁ' ভোটের পক্ষে দেশব্যাপী গণজোয়ার সৃষ্টির উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনা ছিল বিদ্যমান রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সংস্কার এবং বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা। সেই সংস্কার বাস্তবায়নের ঐতিহাসিক পথ হিসেবেই এই গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। গণভোটে অংশগ্রহণ ও ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রদান জুলাই শহীদদের রক্তের পবিত্র আমানত রক্ষার দায়িত্ব।

তিনি বলেন, দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনে জনগণ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া থেকে বঞ্চিত ছিল। এই গণভোট সেই ফ্যাসিবাদী কাঠামো ভেঙে জনগণের ক্ষমতা জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী হলে জুলাই সনদ কার্যকর হবে, রাষ্ট্রক্ষমতায় ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত হবে এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসমূহ স্বাধীন ও শক্তিশালী হবে।

ডাকসুর ভিপি আরও বলেন, ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে এক ব্যক্তি দুইবারের বেশি প্রধানমন্ত্রী হতে না পারা, চাকরিতে নিয়োগে স্বচ্ছতা, সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনে জনগণের অংশগ্রহণ, নারীদের প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি, সকল ধর্ম ও মতাদর্শের মানুষের ন্যায্য অধিকার সুরক্ষা এবং ইন্টারনেটকে মৌলিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত করার পথ সুগম হবে। একই সঙ্গে গুম-খুন, আয়নাঘরসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের সংস্কৃতির অবসান ঘটবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) মুহাঃ মহিউদ্দিন খান, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ, ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসেন, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মিনহাজ, ছাত্র পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ, কার্যনির্বাহী সদস্য মো. মিফতাহুল হোসাইন আল মারুফ, রাইসুল ইসলাম ও বেলাল হোসাইন অপু।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত