চব্বিশের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময় ব্যাপক হত্যাকাণ্ডসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার জব্দকৃত বিভিন্ন আলামত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ প্রদর্শনের অনুমতি দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এগুলো এক মাসের জন্য ওই জাদুঘরে প্রদর্শিত হবে। এসব আলামতের মধ্যে অভ্যুত্থানের সময়ে আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্যে চালানো গুলি, হতাহত ব্যক্তিদের রক্তমাখা পোশাক ও নির্যাতন চালানোর চেয়ারসহ বিভিন্ন আলামত রয়েছে।
বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে গঠিত ট্রাইব্যুনাল-১ প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার (১৪ জানুয়ারি) এ আদেশ দেয়।
আদেশের পর প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের বলেন, গণভবনকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর হিসেবে ঘোষণা করেছে বর্তমান সরকার। ২০ জানুয়ারি এটি উদ্বোধন হবে। সেখানে ট্রাইব্যুনালে ইতোমধ্যে যে সব মামলা শেষ হয়েছে অথবা চলমান আছে, সেখানে যে আলামতগুলো জব্দ করা হয়েছে যেমন গুলি, অস্ত্র, রক্তমাখা পোশাক অথবা যে সকল চেয়ারে বসিয়ে নির্যাতন করা হয়েছিল সেগুলো তারা (জুলাই অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর কর্তৃপক্ষ) আমাদের কাছে চেয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা আজকে ট্রাইব্যুনালে আবেদন জানিয়েছিলাম আলামতগুলো জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে দেওয়ার জন্য। আদালত এক মাসের অনুমতি দিয়েছেন। এই সময়ে মামলার এই আলামতগুলো সেখানে রাখতে পারবে এবং প্রদর্শন করতে পারবে।’
প্রসঙ্গত, গণঅভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত হয় আওয়ামী লীগ সরকার। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগে এই ভবনে থাকা শেখ হাসিনা গণভবন ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন। পরে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের অবস্থিত গণভবনকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে রূপান্তরিত করে অন্তর্বর্তী সরকার।
