মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ এক কর্মকর্তার সঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ভার্চুয়াল বৈঠক হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৯টার দিকে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য আলোচনার নানা দিক উঠে আসে। বিএনপি চেয়ারম্যানের প্রেস সচিব সালেহ শিবলীর বরাত দিয়ে দলটির মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
শায়রুল জানান, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি (ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ) জেমিসন গ্রিয়ারের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেছেন। বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, পারস্পরিক শুল্কহার এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডান লিঞ্চ, দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক পরিচালক এমিলি অ্যাশবি এবং বিএনপি যুগ্ম মহাসচিব ও আন্তর্জাতিকবিষয়ক কমিটির সদস্য হুমায়ুন কবির।
জানা গেছে, আধাঘণ্টার এই বৈঠকে শুল্ক ও বাণিজ্য আলোচনার নানা বিষয় উঠে আসে। জেমিসন গ্রিয়ার জানতে চান, এই বাণিজ্য আলোচনায় তারেক রহমানের অবস্থান কী? বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক ও বিনিয়োগ নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের তরফে যে আলোচনা হয়েছে তা নিয়ে তার মনোভাব কী। তারেক রহমান স্পষ্ট করে জানান, সরকার যে আলোচনা ও সমঝোতা করেছে তাতে বিএনপির সম্মতি রয়েছে। সরকার যেভাবে আলোচনা এগিয়ে নিয়েছে তাতে বিএনপির কোনো দ্বিমত বা আপত্তি নেই।
জামায়াত আমিরের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির বৈঠক : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে মিলিত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি (ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ) রাষ্ট্রদূত জেমিসন গ্রিয়ার। বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধি, পারস্পরিক শুল্কহার হ্রাস এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সহযোগিতার নানা দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
জামায়াতে ইসলামীর মিডিয়া বিভাগ থেকে জানানো হয়, বৈঠকে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডান লিঞ্চ, পরিচালক এমিলি অ্যাশবি এবং জামায়াতে ইসলামীর যুক্তরাষ্ট্র শাখার মুখপাত্র প্রফেসর ড. মোহাম্মদ নাকিবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে রাষ্ট্রদূত গ্রিয়ার জানান, তিনি ব্যক্তিগতভাবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বাংলাদেশের জন্য পারস্পরিক শুল্কহার হ্রাসের বিষয়ে আলোচনা করেছেন। প্রস্তাব করা হয়েছে যে, বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে যদি যুক্তরাষ্ট্রের শতভাগ তুলা অথবা দেশটিতে উৎপাদিত ‘ম্যানমেড ফাইবার’ ব্যবহার করা হয়, তবে সেসব পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশকে বিশেষ শুল্ক সুবিধা দেওয়া হবে।
এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান একে উভয় দেশের জন্য একটি ‘উইন-উইন’ ফর্মুলা হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, এটি একদিকে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বাড়াবে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি ও শিল্প খাতও উপকৃত হবে।
আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমির বলেন, নির্বাচনে জয়ী হয়ে জামায়াত সরকার গঠন করলে এই বাণিজ্য চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হবে। তিনি বলেন, বেসরকারি বিনিয়োগে ডিএফসি অর্থায়নের সুযোগ পেলে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ দ্রুত সম্প্রসারণ সম্ভব হবে।
বৈঠকের শেষ পর্বে ডা. শফিকুর রহমান রাষ্ট্রদূত জেমিসন গ্রিয়ারকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের পারস্পরিক বোঝাপড়া ও অংশীদারত্ব আরও সুদৃঢ় হবে।
