গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে অধিকাংশ ভোটার এখনো গণভোট সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা পাননি। উপজেলার পৌর এলাকাসহ ১৭টি ইউনিয়নের মাঠ পর্যায়ে সরকারি ভাবে গণভোটের প্রচার-প্রচারণা না থাকায় এ অজ্ঞতার সৃষ্টি হয়। নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনযায়ী, আগামি ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সেই হিসেবে আর মাত্র ২৬ দিনপর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাতীয সংসদ নির্বাচন ও গণভোট।
তবে স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, গণভোট নিয়ে প্রচার- প্রচারণা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তবে কত শতাংশ ভোটার এখনো গণভোট সম্পর্কে অবগত নন সে বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন তথ্য পাওয়া যায়নি।
উপজেলার মাঠ পর্যায়ের ভোটাররা জানান, গণভোটের বিষয়ে তেমন কোন দৃশ্যমান প্রচার- প্রচারণা এখনো চোখে পড়েনি। এদিকে উপজেলা নির্বাচন অফিসার রোকনুজ্জামান জানান, উপজেলার প্রত্যেকটি সমাবেশে গণভোটের প্রচার- প্রচারণা চালানো হচ্ছে। তাছাড়াও এখনো হাতে প্রচুর সময় আছে। মাঠ পর্যায়েও গণভোটের প্রচার করা হবে।
গাইবান্ধা -৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৬৮ হাজার ৩৮৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৩১ হাজার ৬২৮ জন ও নারী ভোটার ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭৪৬ জন এবং হিজড়া ভোটার ১০ জন।
আগামি ১২ ফেব্রুযারি সারা দেশে একই দিনে জাতীয় সংসদ ও গণভোট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। গণভোট একটি গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। যা জনমত যাচাইয়ের একটি কার্যকর পদ্ধতি। অথচ গণভোটের ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিক সম্পর্কে শুধু মাঠ পর্যায়ের ভোটাররাই নন৷ অনেক নেতাকর্মীরও পরিস্কার ধারণা নেই। এতে করে সাধারণ ভোটারদের বড় একটি অংশ পুরোপুরি অনভিজ্ঞই থেকে যাচ্ছে।
নির্বাচনি এলাকার নেতাকর্মীদের নির্বাচন আচরণ মেনে মাঠে সক্রিয় দেখা গেলেও 'হ্যা' বা 'না' ভোট নিয়ে তেমন কোন আলোচনা নেই। পৌরশহরের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আনিসুর রহমান জানান, গণভোট সম্পর্কে তার ধারণা পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। প্রি- ক্যাডেট স্কুলের শিক্ষক আব্দুর রউফ বলেন, বিষয়টি জটিল হওয়ায় সরকারি ভাবে ব্যাপক প্রচার- প্রচারণা করা জরুরি, নতুবা ভোটাররা কেন্দ্রে গিয়ে বিভ্রান্ত হতে পারেন।
এদিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সৈয়দা ইয়াসমিন সুলতানা বলেন, গণভোটের বিষয়ে লিফলেট বিতরণসহসকল ধরণের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
