চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কর্তৃক তিন শতাধিক ব্যক্তিকে ‘দুস্কৃতিকারী’ হিসেবে চিহ্নিত করে তাদের চট্টগ্রাম মহানগরী এলাকা থেকে বহিষ্কার সংক্রান্ত জারি করা গণবিজ্ঞপ্তি প্রত্যাখ্যান করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এনসিপি নেতারা অভিযোগ করেন, এই বিবৃতির মাধ্যমে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিজেদের দায় এড়ানোর চেষ্টা করেছে। সংবাদ সম্মেলন থেকে নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের স্বার্থে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের পদত্যাগ দাবি করেন এনসিপি নেতারা।
নগরীর ষোলশহরস্থ বিপ্লব উদ্যানে অনুষ্ঠিত এ সংবাদ সম্মেলনে এনসিপি চট্টগ্রাম মহানগরের যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ এরফানুল হক লিখিত বক্তব্যে বলেন, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার কর্তৃক প্রদত্ত এক বিজ্ঞপ্তিতে ৩৩২ জন সন্ত্রাসীকে সিএমপি এলাকায় প্রবেশ না করতে বলা হয়েছে এবং তাদেরকে চট্টগ্রাম ত্যাগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যাদের মধ্যে ২৪এর গণঅভ্যুত্থানে গণহত্যাকারী অনেক আসামি এবং চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নাম রয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি স্পষ্টভাবে এই এই বিবৃতি প্রত্যাখ্যান করছে।
আমরা মনে করি, এটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য কোনো দায়িত্বশীল বিবৃতি নয় বরং এই বিবৃতির মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিজেদের দায় এড়ানোর চেষ্টা পরিলক্ষিত হয়েছে।
তিনি বলেন, আমাদের প্রশ্ন হলো— যদি সিএমপির কাছে সন্ত্রাসীদের নাম, পরিচয় ও অবস্থান আগে থেকেই জানা থাকে, তাহলে তারা কেনো এখনো গ্রেপ্তার হচ্ছে না ? আইনের শাসন মানে সন্ত্রাসীদের এলাকা বদলানোর সুযোগ দেওয়া নয়। আইনের শাসন মানে সন্ত্রাসী যেখানেই থাকুক, তাকে খুঁজে বের করে গ্রেপ্তার করা। আমরা চট্টগ্রামসহ সারাদেশের সকল সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থী, ভোটার এবং চট্টগ্রামবাসীর নিরাপত্তার স্বার্থে জনগণকে সাথে নিয়ে আমরা কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।
সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের স্বার্থে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদ থেকে ডা. শাহাদাত হোসেনের অবিলম্বে পদত্যাগের দাবি করা হয়। এনসিপি নেতারা অভিযোগ করেন, আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদে ডা. শাহাদাতের বহাল থাকা নিয়ে জনমনে অস্থিরতা এবং ভোটারদের মধ্যে এক ধরনের উদ্বেগ রয়েছে। চসিকের মেয়র পদটি প্রজাতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী পদ।
এই পদে অধিষ্ঠিত থেকে তিনি বিএনপি প্রার্থীদের বিভিন্ন প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। বর্তমানে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকায় চারটি সংসদীয় আসনেই বিএনপির প্রার্থী রয়েছে। এই বাস্তবতায় বিএনপি মনোনীত একজন ব্যক্তি যদি মেয়র পদে বহাল থাকেন, তাহলে আসন্ন নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বলে কিছু থাকে না। এটি নির্বাচনকে ব্যাপকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করবে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, নির্বাচনের নিরপেক্ষতা রক্ষার স্বার্থে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ এবং তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম অনেক আগেই তাদের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। একই বাস্তবতায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের বর্তমান মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনকেও পদত্যাগ করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপি চট্টগ্রাম মহানগর এর যুগ্ম সমন্বয়কারী আরিফ মঈনুদ্দিন, জুবায়ের হোসেন, নিজাম উদ্দিন, জসিম উদ্দিন ওপেল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
