ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি নিয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। গ্রিনল্যান্ড দখলের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রকাশ্য হুমকির মধ্যে স্বশাসিত ড্যানিশ ভূখণ্ডটিতে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করেছে ডেনমার্ক। উত্তেজনা বাড়তে থাকায় আর্কটিক অঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদারের এই পদক্ষেপ নিয়েছে কোপেনহেগেন। এদিকে, ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডকে রক্ষা করতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত সোমবার ফ্লোরিডায় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আমাদের এটা পেতেই হবে এবং তাদের সে পথ তৈরি করতে হবে। ট্রাম্প আরও বলেন, ডেনমার্কের লোকজন চমৎকার হলেও তারা এটি রক্ষা করতে পারবে না। অন্যদিকে, চলমান এই উত্তেজনার মধ্যেই গ্রিনল্যান্ডের ঘাঁটিতে সামরিক উড়োজাহাজ মোতায়েন করছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির নর্থ আমেরিকান অ্যারোস্পেস ডিফেন্স কমান্ডের (নোরাড) অধীনে থাকা একটি সামরিক উড়োজাহাজ সেখানে পাঠিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এই কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় সব কূটনৈতিক অনুমোদন নেওয়া হয়েছে এবং গ্রিনল্যান্ড সরকারকেও পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে। ওয়াশিংটন বলছে, বিষয়টি ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে সমন্বয় করেই করা হচ্ছে।
ডেনমার্কের গণমাধ্যম ডিআর ও অন্যান্য সংবাদ মাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত সোমবার সন্ধ্যায় পশ্চিম গ্রিনল্যান্ডের কাংগারলুসুয়াকে পৌঁছান রয়্যাল ড্যানিশ আর্মির প্রধান পিটার বয়েসেন। তার সঙ্গে ছিলেন উল্লেখযোগ্যসংখ্যক সেনা। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম টিভি২ জানায়, এ দফায় ৫৮ জন ড্যানিশ সেনা আর্কটিক অঞ্চলে অবতরণ করেছেন। তারা আগেই পাঠানো প্রায় ৬০ জন সেনার সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। এই সেনারা বহুজাতিক সামরিক মহড়া ‘অপারেশন আর্কটিক এন্ডিউরেন্স’-এ অংশ নিচ্ছেন। ডেনমার্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনী এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। তবে সেনা মোতায়েনের সময়টি তাৎপর্যপূর্ণ। এর কয়েক ঘণ্টা আগেই ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখলে সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা নাকচ করতে অস্বীকৃতি জানান। ডেনমার্ক যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি সামরিক উপস্থিতির বিষয়ে খোলামেলা মনোভাব দেখালেও বারবার বলেছে, গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়। ড্যানিশ সরকারের মতে, শক্তি প্রয়োগ করে দ্বীপটি দখলের যেকোনো চেষ্টা ন্যাটোর অস্তিত্বকেই প্রশ্নের মুখে ফেলবে। গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্পের অনড় অবস্থান যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সম্পর্ককে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে নিচু পর্যায়ে নিয়ে গেছে। এতে ট্রান্সআটলান্টিক নিরাপত্তা জোট ভেঙে পড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
এদিকে সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, গ্রিনল্যান্ডকে রক্ষা করতে পারবে না ডেনমার্ক। গত সোমবার ফ্লোরিডায় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আমি ডেনমার্কের নেতাদের চিনি। তারা খুব ভালো মানুষ; কিন্তু তারা সেখানে (গ্রিনল্যান্ডে) যানও না। ফলে তারা অঞ্চলটি রক্ষার যোগ্য নয়। চলতি সপ্তাহে দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে গ্রিনল্যান্ড কেনার বিষয়ে কথা বলবেন বলেও জানান তিনি। ট্রাম্পের দাবি, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে গ্রিনল্যান্ড দখল করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য জরুরি। সম্পদসমৃদ্ধ এই দ্বীপটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শনাক্ত করার জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। তিনি ডেনমার্কের কাছ থেকে এটি কিনে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন এবং এ প্রস্তাবে রাজি না হলে ন্যাটোর সদস্য রাষ্ট্র হওয়ার পরও ডেনমার্কের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনার হুমকি দিয়েছেন। ট্রাম্প গত শনিবার গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের বিরোধিতা করা ডেনমার্ক, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, ফিনল্যান্ড, যুক্তরাজ্য ও নরওয়ের পণ্যে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ শতাংশ শুল্ক আলোপের ঘোষণা দেন। যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ড কেনা পর্যন্ত এ শুল্ক থাকবে বলেও তিনি জানান।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ আমেরিকান অ্যারোস্পেস ডিফেন্স কমান্ডের (নোরাড) অধীনে থাকা একটি সামরিক উড়োজাহাজ গ্রিনল্যান্ড পাঠিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ওয়াশিংটনের দাবি, এটি ডেনমার্কের ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করতে নয়, বরং ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে এর জন্য প্রয়োজনীয় সব কূটনৈতিক অনুমোদন নেওয়া হয়েছে। সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, এই সামরিক উড়োজাহাজ মোতায়েন বহু আগে থেকে পরিকল্পিত কার্যক্রমের অংশ। যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ড ও কানাডার ঘাঁটি থেকে পরিচালিত অন্যান্য বিমানের সঙ্গে পূর্ব পরিকল্পিত নোরাড অংশ নেবে এটি।
