বরখাস্ত ২ শিক্ষককে পুনর্বহালের দাবি শিক্ষক নেটওয়ার্কের

আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:৫৬ এএম

‘মব’ তৈরি করে ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের (ইউএপি) দুই শিক্ষককে বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় বিশ^বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ‘মব’-এর কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। বিষয়টি একাডেমিক স্বাধীনতার গুরুতর লঙ্ঘন। অবিলম্বে তাদের পুনর্বহাল করতে হবে। গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন করেছে এসব কথা বলেছে শিক্ষকদের সংগঠন বিশ^বিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক।

ইউএপির বেসিক সায়েন্সেস অ্যান্ড হিউম্যানিটিজ বিভাগের সমাজবিজ্ঞান বিষয়ের সহকারী অধ্যাপক লায়কা বশির এবং সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান এ এস এম মহসিনকে বরখাস্তের প্রতিবাদে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে চার দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো অবিলম্বে দুই শিক্ষককে পুনর্বহাল করা, বরখাস্তের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের হয়রানি বন্ধ করা, ভীতি প্রদর্শন ও মিথ্যা অভিযোগ তোলায় জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরির নিরাপত্তা ও একাডেমিক স্বাধীনতা নিশ্চিতে সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন ও প্রয়োগ করা। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীরবতার সমালোচনা করেন বক্তারা।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরেই একাডেমিক স্বাধীনতার সংকট চলছে। ক্ষমতাসীন ও প্রভাবশালী মহল ভিন্ন মত দমন এবং জবরদস্তির মাধ্যমে আনুগত্য আদায়ের চেষ্টা করে আসছে। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান, গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে এই সংকট কাটানোর আশা জাগিয়েছিল।’

এ সময় তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে একটি গোষ্ঠী ধর্মকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে ভিন্নমত দমনে তৎপর হয়ে উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কাজলী শেহরীন ইসলাম, ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের অধ্যাপক কামাল উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মির্জা তাসলিমা সুলতানা, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শামীমা শিল এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক তানভীর সোবহান প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত