৫ বছরের শিশু আরিফাকে শ্বাসরোধে হত্যা, ভাবি গ্রেপ্তার

আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:০১ পিএম

রাজধানীর কুড়িল মৃধাবাড়ি এলাকায় এক ভাড়া বাসার পানির ট্যাংকি থেকে পাঁচ বছর বয়সী আরিফা নামে একটি শিশুর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, দীর্ঘদিনের বিরক্তি থেকে তারই ভাবি খাদিজা আক্তার শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করে ট্যাংকিতে ফেলে রেখেছে।

আজ বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে আরিফার মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হবে। এদিকে হত্যার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া খাদিজা আক্তারকে কোর্টে প্রেরণ করা হয়েছে।

শরীয়তপুরের ডামুড্ডা উপজেলার সিদুলকুড়া গ্রামের রাজিব ও হাবেজা বেগম দম্পতির মেয়ে আরিফা দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে সবার ছোট। পরিবারটি বর্তমানে ভাটারা থানাধীন কুড়িল মৃধাবাড়ির জহিরের বাড়িতে থাকে। সম্প্রতি স্থানীয় একটি স্কুলে ভর্তি করা হয়েছিল তাকে।

ভাটারা থানা উপপরিদর্শক (এসআই) মওদুদ কামাল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ভাড়া বাসাটিতে রাজিব-হাবেজা দম্পতি তাদের দুই ছেলে ও এক মেয়েসহ বসবাস করেন, সেখানে বড় ছেলের স্ত্রীও আছেন। বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেলে বাসার নিচ তলায় পানি ট্যাংকি থেকে আরিফার লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশে গলায় শ্বাসরোধের দাগ এবং ঠোটে ফোলা জখম রয়েছে।

এসআই আরও জানিয়েছেন, তদন্তে জানা গেছে, আরিফার ভাবি খাদিজা তাকে সহ্য করতে পারত না। আরিফার ভাই হাসান বাইরে থেকে তার জন্য কিছু আনলে তা দেখতে পারত না খাদিজা। ঘটনার আগের রাতেও হাসান একটি প্লাস্টিকের পুতুল ও ফুল নিয়ে আসে, যা দেখে রাতভর তার সাথে ঝগড়া হয়। বুধবার সকালে আরিফার বাবা, মা ও ভাই কাজে বের হওয়ায় শিশুটি বাসায় একা ছিল। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে খাদিজা তাকে একা পেয়ে রুমের ভিতর ৩–৪ মিনিট শ্বাসরোধ করে রাখে। শিশুটি নিস্তেজ হলে নিজেই লাশ কোলে করে বাসার পাশে থাকা একটি চিপার মধ্যে গিয়ে পানির ট্যাংকিতে ফেলে দেয়।

প্রায় ১০–১৫ মিনিট পরে আরিফার মা বাসায় ফিরে তাকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। দুপুর পর্যন্ত কিছু না পেয়ে পাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে, কিন্তু তাতেও শিশুকে বাসার বাইরে বের হতে দেখা যায়নি। সন্দেহ হয়, শিশুটি বাসার ভিতরেই আছে। আরও খোঁজাখুঁজি করলে চিপার ভিতরে পানির ট্যাংকিতে আরিফার লাশ দেখতে পান। এরপর পরিবারের সদস্যরা খাদিজাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করে।

এসআই মওদুদ কামাল জানান, খাদিজাকে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। নিজেই পুলিশকে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছে। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ কোর্টে প্রেরণের পাশাপাশি ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে আরিফার লাশের ময়নাতদন্ত করা হবে। তদন্তে এখন পর্যন্ত কেউ খাদিজা ছাড়া এই ঘটনায় জড়িত পাওয়া যায়নি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত