ডায়েরিয়া আক্রান্ত হলে আনা হয় হাসপাতালে। ভর্তি করা হয় শিশু ওয়ার্ডে। দুই দিন বারান্দায় অবস্থান করে পান একটি শয্যা। চারদিন ধরে চিকিৎসা নিয়েও এখনো অপরিবর্তিত শিশুটির অবস্থা। বাড়ি থেকে যে টাকা এনেছেন তাও শেষ। ওষুধ কেনার মতো টাকা নেই। অনেকটা অন্ধকার দেখছেন শিশুর মা।
শিশু তানিশা বেগমের পিতা জুলাই অভ্যুথানে যাত্রাবাড়িতে পুলিশের গুলিতে নিহত শহিদ রিটন। নোয়াখালী হাতিয়ার চরকিং ইউনিয়নের ২২নং গ্রামে তাদের বসবাস। সে বর্তমানে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দ্বিতীয়তলার পশ্চিম পাশের একটি কক্ষে ভর্তি আছে।
হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বিমান চন্দ্র আচার্য্য জানান, শহিদ রিটনের শিশু সন্তানটি ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে আসে। তার অবস্থা সংকাটপন্ন ছিল। তাকে ভর্তি দেওয়া হয়েছে।
শহিদ রিটনের মামা জুয়েল জানান, গত চারদিন আগে ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বাড়িতে কোন পুরুষ না থাকায় শিশুটির মা তাকে নিয়ে আসে। তাদের আর্থিক অনেক সমস্যা রয়েছে। এরপরও একটি দোকান থেকে বাকিতে কিছু ওষুধ নিয়ে দেওয়া হয়েছে। টাকার অভাবে তার ভালো ভাবে চিকিৎসা করা যাচ্ছে না। কেউ কোন সহযোগিতা করেনি।
তানিশার মা শহিদ রিটনের স্ত্রী আফসানা বেগম জানান, সবাই নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত। কেউ তাদের খোঁজ রাখছে না। অসুস্থ মেয়েকে নিয়ে অনেকটা অনাহারে অর্ধাহারে দিন যাচ্ছে তার। খাবার কিনলে ওষুধ কেনা যাচ্ছে না। আবার ওষুধ কিনলে খাবার কেনা যাচ্ছে না।
আফসানা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সবাই তাদের নিয়ে রাজনীতি করে। জুলাই শহিদদের সরকার অনেক কিছু দিবে বলেছে। তারা কিছুই পাননি। এখন সংসার চালাতে কষ্ট হচ্ছে। অসুস্থ শ্বশুর পরিবারের একমাত্র ভরসা। আগে তার সংসার চলত স্বামী রিটনের পাঠানো টাকায়। রিটন ঢাকায় মুদি দোকানে চাকরি করতেন। তিনি মারা যাওয়ার পর সংসারের ব্যয় নির্বাহটা কঠিন হয়ে গেছে বলে জানান তিনি।
