কুষ্ঠরোগ নিরাময়যোগ্য, সামাজিক কুসংস্কার প্রকৃত বাধা এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে গাজীপুরে গতকাল রবিবার পালিত হয়েছে বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস। দিবসটি উপলক্ষে গাজীপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের আয়োজনে এবং দি ল্যাপরোসি মিশন বাংলাদেশ ও ইফেক্ট হোপের সহযোগিতায় বর্ণাঢ্য র্যালি, আলোচনা সভা এবং পোশাককর্মীদের মধ্যে স্বাস্থ্যশিক্ষা কর্মসূচি পালন করা হয়।
সকালে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি র্যালি বের করা হয়। র্যালিতে নার্স, বিভিন্ন এনজিওকর্মী, সরকারি স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, কর্মচারী ও কয়েকজন কুষ্ঠ রোগী অংশ নেয়। পরে গাজীপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা হয়। সিভিল সার্জন ডা. মো. মামুনুর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অংশ নেন মেডিকেল অফিসার সিভিল সার্জন ডা. সাবরিনা মোহনা, মেডিকেল অফিসার ডা. রোবানা আফসান, সিনিয়র স্বাস্থ্যশিক্ষা অফিসার মো. নূরুল ইসলাম প্রমুখ।
দি ল্যাপরোসি মিশন বাংলাদেশের জেলা ফিল্ড ফ্যাসিলিটেটর বাবুল চন্দ্র রায়ের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন টেকনিক্যাল সাপোর্ট অফিসার সমুয়েল সরকার।
অনুষ্ঠানে বক্তারা জানান, কুষ্ঠরোগ একটি নিরাময়যোগ্য রোগ, ছয় মাস থেকে এক বছর নিয়মিত চিকিৎসার মাধ্যমে এ রোগ সম্পূর্ণ ভালো হয়। প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বেসরকারি কুষ্ঠ ক্লিনিকে এ রোগের পরীক্ষা ও চিকিৎসা বিনামূল্যে দেওয়া হয়।
এতে জানানো হয়, গত ২০১৮ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত গাজীপুরে ৪২৭ জন কুষ্ঠ রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬৯ জন এখনো চিকিৎসা নিচ্ছে, বাকিরা সম্পূর্ণ সুস্থ হয়েছে। তবে শিল্পসমৃদ্ধ গাজীপুরে প্রতিনিয়ত রোগী শনাক্তকরণের হার বাড়ছে। এজন্য বেসরকারি সংস্থা দি ল্যাপরোসি মিশন বাংলাদেশ স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে সচেতনতা বৃদ্ধি করার জন্য বিভিন্ন এলাকায় ক্যাম্পেইন, শনাক্ত করা রোগীদের সঠিক চিকিৎসার ব্যবস্থা ও স্বাস্থ্যশিক্ষা কর্মসূচি পালন করা যাচ্ছে।
