বাংলাদেশি সাংবাদিকদের বিশ্বকাপ কভার করতে দেবে না আইসিসি

আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০৫ এএম

আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় শুরু হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ কাভার করা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বাংলাদেশের ক্রীড়া সাংবাদিকরা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) বিশ্বকাপ উপলক্ষে বাংলাদেশি সাংবাদিকদের করা সব অ্যাক্রিডিটেশন আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে।

এর ফলে আয়োজক দুই দেশ—ভারত কিংবা শ্রীলঙ্কার কোনো স্টেডিয়ামেই মাঠে বসে ম্যাচ কাভার করার সুযোগ পাচ্ছেন না বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমকর্মীরা। নিরাপত্তাজনিত কারণে বাংলাদেশ দলের ভারত সফরে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত এবং পরবর্তী সময়ে বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় বিসিবি ও আইসিসির মধ্যে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে, তারই প্রভাব হিসেবে এই সিদ্ধান্ত দেখা হচ্ছে।

গত শনিবার আইসিসি আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ড অংশ নেবে। এর কয়েক দিনের মধ্যেই সাংবাদিকদের অ্যাক্রিডিটেশন বাতিলের খবর সামনে আসে।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন জানান, প্রায় ১৩০ থেকে ১৫০ জন বাংলাদেশি সাংবাদিক বিশ্বকাপ কাভারের জন্য আবেদন করেছিলেন। তবে কেউই অনুমোদন পাননি বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।

যদিও কয়েকজন ফটোগ্রাফার দাবি করেছেন, চলতি মাসের ২০ ও ২১ জানুয়ারি আইসিসি থেকে তারা প্রাথমিকভাবে অনুমোদনের ই-মেইল পেয়েছিলেন, যেখানে ভিসা সহায়তার চিঠিও সংযুক্ত ছিল। তবে পরবর্তীতে নতুন ই-মেইলে জানানো হয়, তাদের আবেদন বাতিল করা হয়েছে।

বিশেষ আলোকচিত্রী মীর ফরিদ জানান, প্রথমে অনুমোদন পাওয়ার পর হঠাৎ করে অ্যাক্রিডিটেশন বাতিল হওয়ায় তিনি বিস্মিত। তার ভাষায়, কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই সিদ্ধান্তটি পরিবর্তন করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ১৯৯৯ সাল থেকে নিয়মিত বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে আসছে। এমনকি তারও আগে, ১৯৯৬ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশ অংশগ্রহণকারী দেশ না হলেও দেশটির সাংবাদিকরা আইসিসির বৈশ্বিক ইভেন্ট কাভার করেছিলেন। সাধারণত কোনো দেশ বিশ্বকাপে খেলুক বা না খেলুক, সংশ্লিষ্ট দেশের সাংবাদিকদের অ্যাক্রিডিটেশন দেওয়ার নজির রয়েছে।

বাংলাদেশ স্পোর্টস জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসজেএ) সভাপতি আরিফুর রহমান এই সিদ্ধান্তে তীব্র হতাশা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, সবাইকে একযোগে প্রত্যাখ্যান করার পেছনে যুক্তিসংগত কোনো কারণ তিনি খুঁজে পাচ্ছেন না। তার মতে, এটি পেশাদারিত্ব ও সৌজন্যের সীমা লঙ্ঘন করেছে।

তিনি আরও জানান, ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণে অন্যান্য ক্রীড়া সাংবাদিক সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। তথ্য মন্ত্রণালয় ও বিসিবির মাধ্যমে আইসিসির কাছে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানানো এবং ব্যাখ্যা দাবি করার কথাও বলেছেন তিনি। পাশাপাশি যৌথ আয়োজক হিসেবে শ্রীলঙ্কা চাইলে বাংলাদেশি সাংবাদিকদের সেখানে কাজের সুযোগ দিতে পারত বলেও মত দেন তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত