কুষ্টিয়ায় জামায়াত আমির

দাঁড়িপাল্লা এখন আয়নাঘর থেকে মানুষের হৃদয়ে

আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:২৬ এএম

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আয়নাঘর থেকে মুক্ত হওয়া দাঁড়িপাল্লা এখন মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছে।’ মানুষ বলছে তারা সব দেখেছেন এবার দাঁড়িপাল্লা দেখবেন। তাই দাঁড়িপাল্লা নিয়ে নব্য জালিমরা ভয় পাচ্ছে। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে নারীদের মর্যাদা, সম্মান রক্ষা করা হবে। বেকার ভাতা নয়, বেকারত্ব দূর করা হবে। নদী বাঁচানো হবে, মিল কলকারখানা সঠিকভাবে চলবে। অন্য কোনো দেশের অধীনে নয়, বাংলাদেশ নিজের মতো করে স্বয়ংসম্পন্ন হবে। গতকাল সোমবার কুষ্টিয়া ও মেহেরপুরে পৃথক জনভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ সব কথা বলেন তিনি। এ সময় নিজ নিজ এলাকার জামায়াতে ইসলামী ও শরিক দলের প্রার্থীদের হাতে দাঁড়িপাল্লাসহ দলীয় প্রতীক তুলে দেন।

গতকাল সোমবার সকালে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কের পাশে শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে জামায়াত আমিরের নির্বাচনী জনসভা শুরু হয়। নারী কর্মীদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। জেলার ভারপ্রাপ্ত আমির ও কুষ্টিয়া-২ আসনের প্রার্থী আব্দুল গফুর এবং কুষ্টিয়া সদর আসনের প্রার্থী ইসলামী বক্তা আমির হামজাসহ ৪টি আসনেরই সংসদ সদস্য প্রার্থী মঞ্চে বক্তব্য রাখেন। এ ছাড়া শিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ, জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধানসহ জোটের নেতারা বক্তব্য রাখেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এখানে দাঁড়িপাল্লা হচ্ছে এগারো দলের প্রতীক। দাঁড়িপাল্লা হচ্ছে ইনসাফের প্রতীক। অতীতের সরকারগুলো পাল্লা সহ্য করতে পারেনি। এ জন্য পাল্লাকে তারা গুম করে ফেলেছিল। দাঁড়িপাল্লা আয়নাঘর থেকে মুক্তি পেয়েছে, আলহামদুলিল্লাহ। পাল্লার বিজয় হলে সমাজে ন্যায়বিচার কায়েম হবে।

তিনি বলেন, বিভিন্নভাবে নারীদের উসকানি দেওয়া হয়, পাল্লার বিজয় হলে আপনাদের কেমন লাগবে, এখন মায়েরা বলছে ভালো হবে। যুবসমাজ এবং মায়েরা বিশেষ করে বস্তাপচা রাজনীতি আর দেখতে চায় না। মায়েরা যেভাবে পাল্লা বিজয় করতে চায়, সেভাবে মায়েদের সর্বোচ্চ মূল্যায়ন করা হবে।

শহীদ আবরার ফাহাদকে স্মরণ করে জামায়াত আমির বলেন, শহীদ আবরার ফাহাদ আমাদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রতীক। সে নিজেই একটা বিদ্রোহী, একটা বিপ্লবের নাম। সে আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কলম ধরেছিল। এটাই তার অপরাধ। এ জন্য তাকে দুনিয়া থেকে অত্যন্ত নির্মমভাবে বিদায় করা হয়েছে।

দেশের সংকট দূর করতে নিজের পরিকল্পনা তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, আমরা তিনটা জায়গায় কাজ করব যোগাযোগ উন্নত করা, দ্বিতীয় সিন্ডিকেট ভেঙে চুরমার করে দেওয়া আর চাঁদাবাজিতে যারা লিপ্ততাদের ভালো কাজ দিয়ে বুকে টেনে নেওয়া। এই তিনটি কাজ যদি আমরা সফলভাবে আল্লাহ তায়ালার সাহায্যে করতে পারি, তাহলে আমরা বিশ্বাস করি, এক বছরের মধ্যে বাংলাদেশের মানুষ লক্ষণীয় পরিবর্তন দেখবে।

ওপর থেকে কিছু চাপিয়ে দেওয়া হবে না : দুপুরে মেহেরপুর হাইস্কুল মাঠে জনসভায় বক্তৃতা করেন জামায়াতে ইসলামীর আমির। তিনি বলেন, অতীতে যারা দেশ শাসন করেছে তারা একদিকে লুটপাট ও দুর্নীতিতে লিপ্ত ছিল, অন্যদিকে ধর্ম ও বর্ণের ভিত্তিতে জাতিকে বিভক্ত করেছে। তারা জাতিকে টুকরো টুকরো করে রেখেছিল। আমাদের ১১ দলীয় ঐক্যের মূল অর্থ হলো, একটি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ। এই দেশ ও জাতিকে আর বিভক্ত হতে দেওয়া হবে না।

জেলা আমির মাওলানা তাজ উদ্দিন খানের সভাপতিত্বে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান মেহেরপুরবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, ‘আপনারা যদি আমাদের ঋণী করেন, ইনশাআল্লাহ আগামী পাঁচ বছর জানপ্রাণ দিয়ে সেই ঋণ শোধ করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, ন্যায়, সাম্য ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আদর্শের পক্ষে ১১ দলীয় ঐক্যকে জনগণ সমর্থন দেবে। আল্লাহর কসম, আপনারা যদি আমাদের ওপর পবিত্র আমানত অর্পণ করেন, আমরা জনগণের সম্পদে হাত দেব না। কাউন্সিলর থেকে জাতীয় পরিষদের সদস্য-সবাইকে জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হবে। পাঁচ বছর পর নয়, প্রতি বছর হিসাব দিতে হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত